“দেশের মানুষের ভাগ্য গড়তে এসেছি, আমার ছেলে-মেয়েদের না”


"দেশের মানুষের ভাগ্য গড়তে এসেছি, আমার ছেলে-মেয়েদের না"


প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা বলেছেন, দেশের মানুষের ভাগ্য গড়তে এসেছি, নিজের বা আমার ছেলে-মেয়েদের না। তাদের একটাই দিয়েছি, শিক্ষা। লোন নিয়ে তারা পড়েছে। ধন-সম্পদ টাকাকড়ি কোনো কিছু কাজে লাগে না।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আজ বিকেলে জাতীয় শোক দিবস ও জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ৪৮তম শাহাদাত বার্ষিকী উপলক্ষে ঐতিহাসিক সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে বাংলাদেশ ছাত্রলীগ আয়োজিত ‘সর্ববৃহৎ ছাত্র সমাবেশে’ প্রধান অতিথির ভাষণে এ কথা বলেন।

বিএনপির আমলের সন্ত্রাস-দুর্নীতির চিত্র তুলে ধরে তিনি বলেন, বিএনপি এসে হাওয়া ভবন খুলে খাওয়া শুরু করেছিল। আর আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় এসেছে মানুষের ভাগ্য পরিবর্তনের জন্য।

তিনি বলেন, দেশের মানুষের ভাগ্য গড়তে এসেছি, নিজের বা আমার ছেলে-মেয়েদের না। তাদের একটাই দিয়েছি, শিক্ষা। লোন নিয়ে তারা পড়েছে। ধন-সম্পদ টাকাকড়ি কোনো কিছু কাজে লাগে না। করোনায় সবাই বুঝতে পেরেছে। আমি চাই, আমাদের ছেলে-মেয়েরা উপযুক্ত ও যোগ্য হয়ে গড়ে উঠবে। তারা অত্যন্ত মেধাবী। তারা দেশকে এগিয়ে নিয়ে যাবে।

বিএনপির আমলের সন্ত্রাস-দুর্নীতির চিত্র তুলে ধরে তিনি বলেন, বিএনপি এসে হাওয়া ভবন খুলে খাওয়া শুরু করেছিল। আর আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় এসেছে মানুষের ভাগ্য পরিবর্তনের জন্য।

তিনি বলেন, দেশের মানুষের ভাগ্য গড়তে এসেছি, নিজের বা আমার ছেলে-মেয়েদের না। তাদের একটাই দিয়েছি, শিক্ষা। লোন নিয়ে তারা পড়েছে। ধন-সম্পদ টাকাকড়ি কোনো কিছু কাজে লাগে না। করোনায় সবাই বুঝতে পেরেছে। আমি চাই, আমাদের ছেলে-মেয়েরা উপযুক্ত ও যোগ্য হয়ে গড়ে উঠবে। তারা অত্যন্ত মেধাবী। তারা দেশকে এগিয়ে নিয়ে যাবে।

ড. মুহম্মদ ইউনূসের কারণে পদ্মা সেতুতে বিশ্বব্যাংকের অর্থায়ন বন্ধ হয়েছিল এমনটা উল্লেখ করে সরকার প্রধান বলেন, একটি ব্যাংকের এমডি পদের জন্য পদ্মা সেতু নিয়ে আমাদের ওপর অপবাদ চাপাতে চেষ্টা করেছিল যা আদালতে (কানাডার) মিথ্যা প্রমাণিত হয়েছে। তিনি (ড. ইউনূস) ১০ বছর বেআইনীভাবে ব্যাংকটি চালিয়ে আবারো সেখানে থাকতে হবে, সেই লোভে বার বার আমাদের ওপর চাপ দেয়া হয়েছিল। একটি বড় দেশ বার বার চাপ দিতো। বলতো এমডি পদে না রাখলে নাকি পদ্মা সেতুর টাকা বন্ধ করে দেবে।

তিনি বলেন, আমাদের বিরুদ্ধে, সরকারের বিরুদ্ধে, বাংলাদেশ ব্যাংকের বিরুদ্ধে সেই ভদ্রলোক (ড. ইউনূস) মামলাও করেছিল। কিন্তু আদালত তো তার বয়স কমাতে পারে না, মামলায় হেরে যায়। অর্থায়ন বন্ধটা বিশ্বব্যাংকের বোর্ডে হয়নি। হিলারী ক্লিনটন নিজে অর্ডার দিয়ে তখন বিশ্বব্যাংকের চেয়ারম্যানকে দিয়ে পদ্মা সেতুর টাকা বন্ধ করে। তখন বলেছিলাম নিজের টাকায় পদ্মা সেতু নির্মাণ করবো। কারো কাছে হাত পেতে নয়। আমরা সেটা করেছি। পদ্মা সেতু নির্মাণ করে বিশ্বকে দেখিয়েছি বাংলাদেশও পারে। এরপর কিন্তু বাংলাদেশের ভাবমূর্তি বদলে গেছে।

আরও পড়ুনঃশ্রীলংকা আর বাংলাদেশের অবস্থা ভিন্ন: বাণিজ্যমন্ত্রী

করোনা পরবর্তী রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ এবং বিশ^ব্যাপী সৃষ্ট মন্দার উল্লেখ করে তিনি দেশের সকল অনাবাদি জমিকে চাষের আওতায় আনার মাধ্যমে সার্বিক উৎপাদন বাড়ানোর জন্য দেশবাসীর প্রতি তাঁর আহবান পুনর্ব্যক্ত করে ছাত্রলীগের নেতা-কর্মীদের জনসচেতনতা বাড়াতে এগিয়ে আসার আহবান জানান।
তিনি বলেন, মূল্যস্ফীতির কারণে ফিক্সড ইনকামের মানুষের কষ্ট হচ্ছে। প্রত্যেকে উৎপাদনে নজর দিলে কারো কাছে হাত পাততে হবে না। স্বাধীনতার পর ১৯৭৪ সালে নিজেদের নগদ টাকায় কেনা খাদ্যশস্য আসতে দেয়নি, কৃত্রিম উপায় দুর্ভিক্ষ সৃষ্টি করেছিল। সেই কথা মাথায় রেখে আমাদের প্রচেষ্টা- আমাদের খাদ্য আমরা উৎপাদন করবো। আমাদের উৎপাদন বৃদ্ধির ধারা অব্যাহত রাখতে হবে।

ছাত্রলীগের গৌরবময় ঐতিহ্য তুলে ধরে শেখ হাসিনা বলেন, মানুষের অধিকার আদায়ের জন্যই ছাত্রলীগের জন্ম। ছাত্রলীগ সবসময় আন্দোলন-সংগ্রামে গৌরবজনক ভূমিকা পালন করেছে। তারা বায়ান্নর ভাষা আন্দোলন থেকে শুরু করে ছেষট্টির ছয় দফা, ঊনসত্তরের গণঅভ্যুত্থান ও একাত্তরের মহান মুক্তিযুদ্ধেও সর্বাগ্রে ঝাঁপিয়ে পড়েছে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, জাতির পিতাকে হত্যার পর প্রতিবাদও করেছে ছাত্রলীগই। পঁচাত্তরের পর তিনি ও তাঁর ছোট বোন শেখ রেহানা ছিলেন দেশের বাইরে, নির্বাসনে। সেখান থেকে তাদের ফিরিয়ে আনার দাবিও ছাত্রলীগই প্রথম তুলেছিল। যখন ওবায়দুল কাদের ছাত্রলীগের সভাপতি ছিলেন, তখনই এই দাবী তারা প্রথমে করে।