নারায়ণগঞ্জে মসজিদে বিস্ফোরণ, ইমামসহ মারা গেলেন ২১ জন


নারায়ণগঞ্জে মসজিদে এসি বিস্ফোরণ, দগ্ধ ৪০ জন


নারায়ণগঞ্জে মসজিদে বিস্ফোরণ এর ঘটনায় বায়তুস সালাত মসজিদের ইমামসহ ২১ জন মারা গেছেন।

শেখ হাসিনা জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটের সমন্বয়ক চিকিৎসক সামন্ত লাল সেন জানিয়েছেন, অগ্নিদগ্ধ ইমাম আবদুল মালেক (৬০) মারা গেছেন। মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়ালো ২১ জনে।

এর আগে মারা যান বায়তুস সালাত মসজিদের মুয়াজ্জিন দেলোয়ার হোসেন এবং তাঁর ছেলে জুনায়েদ।

গুরুতর আহত অবস্থায় ঢাকার শেখ হাসিনা জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে চিকিৎসাধীন আছেন ১৬ জন।

এর আগে চিকিৎসক সামন্ত লাল সেন সাংবাদিকদের জানান, নারায়ণগঞ্জের মসজিদে বিস্ফোরণে মারা যান ১১ জন। এরপর আরও ১০ জন যুক্ত হলেন মৃত্যুর মিছিলে।

বিস্ফোরণে দগ্ধ হয়ে এ পর্যন্ত মারা যাওয়া ব্যক্তিরা সবাই তল্লা এলাকার বাসিন্দা।

নিহতরা হলেন: মসজিদের ইমাম আবদুল মালেক (৬০), মুয়াজ্জিন দেলোয়ার হোসেন (৪৮) ও তাঁর ছেলে জুনায়েদ (১৭), দুই ভাই জোবায়ের (১৮) ও সাব্বির (২১), মুন্সিগঞ্জের কুদ্দুস ব্যাপারী (৭২), চাঁদপুরের মোস্তফা কামাল (৩৪), পটুয়াখালীর গার্মেন্টস কর্মী রাশেদ (৩০), নারায়ণগঞ্জের হুমায়ুন কবির (৭২), পটুয়াখালীর রাঙ্গাবালীর জামাল আবেদিন (৪০), গার্মেন্টস কর্মী ইব্রাহিম বিশ্বাস (৪৩), নারায়ণগঞ্জের কলেজ শিক্ষার্থী মো. রিফাত (১৮), চাঁদপুরের মাইনুউদ্দিন (১২), ফতুল্লার জয়নাল (৩৮), লালমনিরহাটের গার্মেন্টসকর্মী নয়ন (২৭), নিজাম (৩৪), নারায়ণগঞ্জের রাসেল (৩৪), খুলনার কাঞ্চন হাওলাদার (৫০),নাদিম (৪৫), শিশু জুবায়ের (৭) এবং বাহার উদ্দিন (৫৫)।

আরও পড়ুন : নারায়ণগঞ্জে মসজিদে এসি বিস্ফোরণ, দগ্ধ ৪০ জন

নারায়ণগঞ্জের মসজিদে বিস্ফোরণ-এ গুরুতর আহত অবস্থায় যারা চিকিৎসাধীন ১৬ জন হলেন: মো. ফরিদ (৫৫), শেখ ফরিদ (২১), মনির ফরাজী (৩০), আবুল বাসার মোল্লা (৫১), শামীম হাসান (৪৫), মো. আলী মাস্টার (৫৫), মো. কেনান (২৪), নজরুল ইসলাম (৫০), আবদুল আজিজ (৪০), হান্নান (৫০), আবদুস সাত্তার (৪০), সিফাত (১৮), জুলহাস উদ্দিন (৩০), আমজাদ (৩৭), মামুন (২৩) এবং ইমরান (৩০)।

প্রসঙ্গত, শুক্রবার রাত সাড়ে ৮টার দিকে নারায়ণগঞ্জ শহরের পশ্চিম তল্লা এলাকার মসজিদে বিস্ফোরণে ৫০ জনের অধিক গুরুতর আহত হন।

এখন পর্যন্ত নারায়ণগঞ্জে বাইতুস সালাত জামে মসজিদে গ্যাসের লিকেজ থেকে বিস্ফোরণের ঘটনায় ১৭ জনের মরদেহ হস্তান্তর করা হয়েছে।

নারায়ণগঞ্জের তল্লায় মসজিদের ভেতরে খোঁজ মিলেছে গ্যাস লাইনের অসংখ্য লিকেজের। স্থানীয়দের অভিযোগ ঘুষ না দেয়ায় পদক্ষেপ নেয়নি তিতাস।

যদিও তিতাসের এমডি জানিয়েছেন, নারায়ণগঞ্জে মসজিদ কমিটি থেকে গ্যাস লাইন লিকেজ সংস্কারের কোনো অভিযোগ পায়নি তিতাস কর্তৃপক্ষ, তদন্তে কারো গাফিলতি পেলে কঠোর ব্যবস্থা নেয়া হবে।

এদিকে ঘটনা তদন্তে ফায়ার সার্ভিস, জেলা প্রশাসন ও তিতাস পক্ষ থেকে পৃথক ৩টি কমিটি গঠন করা হয়েছে।