নৌকা প্রার্থীকে হারিয়ে গাজীপুরের মেয়র নির্বাচিত জায়েদা খাতুন


নৌকা প্রার্থীকে হারিয়ে গাজীপুরের মেয়র নির্বাচিত জায়েদা খাতুন


২ লাখ ৩৮ হাজার ৯৩৪ ভোট পেয়ে গাজীপুর সিটি করপোরেশন নির্বাচনে স্বতন্ত্র মেয়র প্রার্থী জায়েদা খাতুন বেসরকারিভাবে জয়ী হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী আজমত উল্লা খান নৌকা প্রতীকে পেয়েছেন ২ লাখ ২২ হাজার ৭৩৭ ভোট। তাদের ভোটের ব্যবধান ১৬ হাজার ১৯৭। সবকিছু ঠিক থাকলে জায়েদা খাতুন হতে যাচ্ছেন দেশের দ্বিতীয় নারী সিটি মেয়র।

বৃহস্পতিবার দিবাগত রাত দেড়টার দিকে রিটার্নিং কর্মকর্তা মো. ফরিদুল ইসলাম এ ফলাফল ঘোষণা করেন।

এছাড়া জাতীয় পার্টি থেকে লাঙল প্রতীকে এম এম নিয়াজ উদ্দিন পেয়েছেন ১৬ হাজার ৩৬২ ভোট, গণফ্রন্ট থেকে মাছ প্রতীকে আতিকুল ইসলাম পেয়েছেন ১৬ হাজার ৯৭৪ ভোট, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের গাজী আতাউর রহমান হাতপাখা প্রতীকে পেয়েছেন ৪৫ হাজার ৩৫২ ভোট, জাকের পার্টি থেকে মো. রাজু আহাম্মেদ গোলাপ ফুল প্রতীকে পেয়েছেন ৭২০৬ ভোট, অপর দুই স্বতন্ত্র প্রার্থী মো. হারুন-অর-রশীদ ঘোড়া প্রতীকে ২৪২৬ ভোট ও সরকার শাহনূর ইসলাম হাতি প্রতীকে ২৩২৬৫ ভোট পেয়েছেন।

নির্বাচনী হলফনামা অনুযায়ী— জায়েদা খাতুনের জন্ম ১৯৬২ সালের ১ ফেব্রুয়ারি। পিতার নাম সামছুল ইসলাম, মাতা আফাতুন। স্থায়ী ঠিকানা কানাইয়া, গাজীপুর সদর, গাজীপুর। তার শিক্ষাগত যোগ্যতা ‘স্বশিক্ষিত’। তার স্বামী মো. মিজানুর রহমান পাঁচ বছর আগে মার গেছেন। তিনি দুই ছেলে ও এক মেয়ের জননী। তার বিরুদ্ধে কোনো মামলার তথ্য নেই।

আরও পড়ুনঃ তিন খাতে এডিবির সহায়তা চাইলেন প্রধানমন্ত্রী

জায়েদা খাতুনের সবচেয়ে বড় পরিচয় তিনি গাজীপুর সিটির সাবেক মেয়র জাহাঙ্গীর আলমের মা। মনোনয়নপত্র দাখিল করার আগে জায়েদা খাতুনকে রাজনীতির মাঠে দেখা যায়নি। মূলত ছেলে জাহাঙ্গীর আলমের ইমেজকে ভিত্তি করেই তিনি রাজনীতিতে আসেন। জাহাঙ্গীর গাজীপুর মহানগর আওয়ামী লীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদকও। তিনি সিটি মেয়র হিসেবে পুরো মেয়াদকাল দায়িত্ব পালন করতে পারেননি।

জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে নিয়ে বিতর্কিত মন্তব্য করে দল থেকে বহিষ্কার হন জাহাঙ্গীর। পরে দুর্নীতির অভিযোগে তাকে মেয়র পদ থেকেও বরখাস্ত করে সরকারের সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়। পরে তাকে ক্ষমা করে দলে ফেরানো হলেও মেয়র পদে দলীয় মনোনয়ন দেয়নি আওয়ামী লীগ। এজন্য স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে মনোনয়নপত্র জমা দেন জাহাঙ্গীর। তবে ঋণখেলাপি হওয়ায় তার মনোনয়নপত্র বাতিল হয়। হাইকোর্টে ছুটেও প্রার্থিতা ফেরত পাননি তিনি।

জাহাঙ্গীর নিজে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে মনোনয়নপত্র কেনার সময় তার মা জায়েদা খাতুনকে দিয়েও মনোনয়নপত্র তোলান। পরে তার প্রার্থিতা অবৈধ ঘোষিত হলে মাকে নিয়ে মাঠে নামে তিনি। গাজীপুর সিটি নির্বাচন ও জাহাঙ্গীর আলমের প্রার্থী হওয়া নিয়ে জটিলতা এবং পরে তার মাকে প্রার্থী করা নিয়ে তুমুল আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়।