পৃথিবী বিখ্যাত ধনী পরিবারগুলো!


বিবাহবিচ্ছেদে পাওয়া অর্থে তিনি বিশ্বের তৃতীয় ধনী নারী


ব্যবসা বলতেই মূলত, ঐতিহ্য, বংশপরম্পরা, উত্তরাধিকার বুঝায়। এছাড়া সম্পদশালী পরিবার বলতে তাদের সাথে রয়েছে আভিজাত্য, বিশেষ করে তা যদি হয় বংশপরম্পরায়। বর্তমান বিশ্বের শীর্ষ ধনী পরিবারগুলোকে নিয়েই পেপার’স লাইফের আজকের এই আয়োজন।

বর্তমান বিশ্বসেরা ধনী পরিবারের কিছু তালিকা করা হয়েছে, যারা মূলত কঠিন পরিশ্রমের দ্বারা ব্যবসার মাধ্যমে ভাগ্য পরিবর্তন করেছে।

গত বছরের শেষ থেকে চলতি বছরের শুরুর দিকের প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে এ তালিকা করা হয়েছে। আজকের আয়োজনে থাকছে শেষ পাঁচ পরিবারের তথ্য—

কার্ল ও থিও আলব্রেখট জুনিয়র এবং বেয়াটি হেইস্টার (আলদি)

সম্পদের আনুমানিক পরিমাণ ৩ হাজার ৬১০ থেকে ৩ হাজার ৮৮০ কোটি ডলার

আলদি হচ্ছে জার্মানির ওয়ালমার্ট। দুই ভাই কার্ল ও থিও আলব্রেখট তাদের পৈত্রিক মুদি দোকানকে একটি জাতীয় ডিসকাউন্ট চেইনে রূপান্তর করেন। ১৯৬১ সালের দিকে দুই ভাই অঞ্চল ভিত্তিতে কোম্পানি ভাগ করে নেন। সাড়া বিশ্বে বর্তমানে তাদের প্রায় ১০ হাজার দোকান রয়েছে। এছাড়াও, শুধু যুক্তরাষ্ট্রেই প্রায় দুই হাজার স্থানে আলদির এই চেইন শপ রয়েছে। ২০১৯ সালে ফোর্বসের বার্ষিক বিলিয়নেয়ার তালিকায় ২৩তম স্থানে।কার্ল মারা যাওয়ার পর তার দুই ছেলে হেইস্টার ও কার্ল আলব্রেখট জুনিয়র ব্যবসার বর্তমান উত্তরাধিকারী। তাদের মোট সম্পদের পরিমাণ ৩ হাজার ৬১০ কোটি ডলার। অন্যদিকে থিও জুনিয়র ও তার পরিবারের সম্পদের পরিমাণ ১ হাজার ৭৪০ কোটি ডলার।

 

দুমা পরিবার (এহমেস)

সম্পদের আনুমানিক পরিমাণ ৩ হাজার ৬৭ থেকে ৪ হাজার ৯২০ কোটি ডলার

ফ্রান্সের ফ্যাশন হাউজ ও এহমেস নিজেদের সিগনেচার স্কার্ফ, নেকটাই ও সুগন্ধি দিয়ে পুরো বিশ্বকেই চমকে দিয়েছে। এর সঙ্গে রয়েছে আইকনিক কেলি ও বার্কিন হাতব্যাগ। উনিশ শতকে থিয়েরি এহমেস অভিজাতদের জন্য ফ্যাশনেবল রাইডিং পোশাক নিয়ে আসেন। বর্তমানে বাস্কেটবল তারকা লেব্রন জেমসের পোশাকসজ্জার দায়িত্বে রয়েছে কোম্পানিটি।

প্রযুক্তির মিশ্রণে এহমেসের বিশেষায়িত অ্যাপল ঘড়িগুলো ১ হাজার ৩০০ থেকে ২ হাজার ডলার বা এর থেকেও বেশি দামে বিক্রি হয়। বর্তমানে কোম্পানিটির সিইও ও চেয়ারম্যান অ্যাক্সেল দুমা এবং শিল্প পরিচালকের দায়িত্বে রয়েছেন পিয়ের-আলেক্সিস দুমা।

 

ক্যাম্প্রাড পরিবার (আইকিয়া)

সম্পদের আনুমানিক পরিমাণ ৪ হাজার ৮৯০ কোটি ডলার

আইকিয়ার প্রতিষ্ঠাতা ইঙ্গভার ক্যাম্প্রাড ২০১৮ সালে মৃত্যুকালে ছিলেন বিশ্বের শীর্ষ ধনীদের একজন।  সুইডেনে প্রথম গৃহসজ্জার দোকান খোলেন তিনি, পরবর্তী অর্ধশতকে বিশ্বব্যাপী তার বিস্তৃতি করেন।  বর্তমানে আইকিয়া অবিশ্বাস্য রকম নকশা ও সস্তা আসবাবপত্রের ব্র্যান্ড হয়ে উঠেছে। এমনকি ক্রেতারা আসবাবের পুরো সেট কিনে নিজের বাড়িতেই জোড়া লাগাতে পারেন। মৃত্যুকালে তিন ছেলে ও এক দত্তক কন্যা রেখে গেছেন ক্যাম্প্রাড।

 

ভেরথেইমার পরিবার (শ্যানেল)

সম্পদের আনুমানিক পরিমাণ ৪ হাজার ২০০ কোটি ডলার

ফ্রান্সের অভিজাত ফ্যাশন হাউজ শ্যানেল চিরকালীন ‘লিটল ব্ল্যাক ড্রেস’, নাম্বার ফাইভ সুগন্ধি আর হাই-প্রোফাইল ডিজাইনার কার্ল ল্যাগারফেল্ডের সুবাদে ভালো অবস্থানে দাঁড়িয়েছে।

চলতি বছর ১৯ ফেব্রুয়ারি মৃত্যুবরণ করেন ল্যাগারফেল্ড। বর্তমানে অ্যালান ও গেরহার্ড ভেরথেইমার  যৌথভাবে শ্যানেলের মালিক, যা তাদের দাদা পিয়ের ভেরথেইমার ১৯২৪ সালে গ্যাব্রিয়েল কোকো শ্যানেলকে সাথে নিয়ে ব্যবসা প্রতিষ্ঠা করেন।

 

মুকেশ ও অনিল আম্বানি (রিলায়েন্স ইন্ডাস্ট্রিজ)

সম্পদের আনুমানিক পরিমাণ ৫ হাজার থেকে ৬ হাজার কোটি ডলার

বিশ্বের শীর্ষ ধনী তালিকায় থাকা এশীয় কোম্পানি ভারতীয় রিলায়েন্স ইন্ডাস্ট্রিজ। ফোর্বসের তালিকায় ১৩তম স্থানে থাকা কোম্পানির বর্তমান সিইও মুকেশ আম্বানি।  ১৯৫৭ সালে তার বাবার প্রতিষ্ঠিত কোম্পানিটির পরিশোধন, পেট্রোকেমিক্যাল, তেল, গ্যাস ও বস্ত্র ব্যবসা দেখছেন। অন্যদিকে ছোট ভাই অনিলের দায়িত্বে রয়েছে টেলিকমিউনিকেশন, সম্পদ ব্যবস্থাপনা, বিনোদন ও বিদ্যুৎ উৎপাদন ব্যবসা।এছাড়াও,  রিলায়েন্স ক্যাপিটালের বর্তমান নির্বাহী পরিচালক পদে আছেন অনিল আম্বানির বড় ছেলে আনমোল।