বগুড়ায় করোনা আক্রান্তে একদিনেই চার জনের মৃত্যু




দেশজুড়ে চলমান করোনা সংক্রমণে এই ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে বগুড়ায় আরও ৪ জনের মৃত্যু হয়েছে। ৪টি মৃতদেহই ধর্মীয় নিয়মানুসারে দাফন ও সৎকারের ব্যবস্থা করে কোয়ান্টাম ফাউন্ডেশন বগুড়া শাখার স্বেচ্ছাসেবীরা।

শুক্রবার সকালে বগুড়া শহরের বাদুরতলায় জাহাঙ্গীর আলম (৬৫) নামে বাসের এক টিকেট মাস্টারের মৃত্যু হয় শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালে। একই হাসপাতালে মারা যান শাজাহানপুর উপজেলার রানীরহাটের জোড়া মন্ডলপাড়ার চাল ব্যবসায়ী মনসুর আলী (৬৫)।

সিরাজগঞ্জের উল্লাহপাড়ার জিকিড়ার বাসিন্দা নারায়ন চন্দ্র (৮০) নামে এক অবসরপ্রাপ্ত প্রাইমারি স্কুলের শিক্ষকের মৃত্যু হয় মোহাম্মদ আলী হাসপাতালে। টিএমএসএস হাসপাতালে মারা যান শেরপুর উপজেলার শাহপাড়ার মৃত বিভতি বসু কুন্ডুর স্ত্রী দীপা রানী সাহা (৬৫)।

জানা যায়, জাহাঙ্গীর আলম আইসোলেশনে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শুক্রবার সকাল ১০টায় মারা যায়। তিনি গত ৩০ জুন হাসপাতালে ভর্তি হন। এর আগে গত ২৫ জুন নমুনা পরীক্ষায় তিনি কোভিড পজিটিভ হিসেবে শনাক্ত হন। কোয়ান্টাম ফাউন্ডেশন, বগুড়া শাখার স্বেচ্ছাসেবী টিম স্বাস্থ্যবিধি মেনে হাসপাতাল চত্বরে জানাজা শেষে নামাজগড় কবরস্থানে দাফন করে। চাল ব্যবসায়ী মনসুর আলী ১৭ জুলাই করোনা উপসর্গ নিয়ে মেডিকেলে ভর্তি হন এবং ২৪ জুলাই ভোরে মারা যান। কয়েকদিন আগে তিনি তার এক আত্মীয় করোনাভাইরাসে মারা গেলে তার নামাজে জানাযায় অংশ নেয়ার পর থেকে শ্বাসকষ্ট ও কাশিতে ভুগছিল। তার আগে থেকেই এ্যাজমা রোগ ছিল।

বগুড়ার শেরপুর উপজেলার দীপা রানী সাহা টিএমএসএস হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যায়। গত ৬ জুলাই তিনি করোনা পজিটিভ হন। শুক্রবার ২৪ জুলাই তিনি মারা যান। পরে কোয়ান্টাম ফাউন্ডেশনের স্বেচ্ছাসেবীরা শেরপুর উপজেলার মহাশশ্মানে শেষকৃত্য অনুষ্ঠিত হয়।

এর আগে শুক্রবার সকাল সাড়ে ৭টায় মারা যান নারায়ন চন্দ্র। ১৭ জুলাই সিরাজগঞ্জে নমুনা পরীক্ষায় তিনি কোভিড পজিটিভ হিসেবে শনাক্ত হন। শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে গত ১৮ জুলাই তাকে মোহাম্মদ আলী হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। পরে সে মারা যায়। কোয়ান্টাম ফাউন্ডেশন, বগুড়া শাখার ৬ জনের একটি স্বেচ্ছাসেবী টিম স্বাস্থ্যবিধি মেনে মৃতদেহকে ধর্মীয় নিয়মানুসারে সৎকারের জন্য বগুড়ার ফুলবাড়ী শশ্মানে শেষকৃত্যের ব্যবস্থা করে।