“ভগবানের ইচ্ছায় সেতু ধসে পড়েছে”


"ভগবানের ইচ্ছায় সেতু ধসে পড়েছে"


ভারতের পশ্চিমের রাজ্য গুজরাটের মোরবি জেলার মাচ্চু নদীর উপর ব্রিটিশ আমলে তৈরি একটি ঝুলন্ত সেতু ধসে পড়ে ১৩৫ জন প্রাণ হারান। ১৪০ বছরের পুরাতন ওই সেতুটি সংস্কার কাজের জন্য প্রায় সাত মাস বন্ধ রাখা হয়েছিল। সংস্কারের দায়িত্ব দেয়া হয়েছিল ওরেভা কোম্পানিকে।

কোম্পানির ব্যবস্থাপক দীপক পারেখ দাবি করেছেন ঈশ্বরের ইচ্ছায়ই নাকি এক সেতু ধসে পড়েছে। আদালতে দাঁড়িয়ে এমন কথাই বলেছেন গুজরাটে সেতু ধসকাণ্ডে গ্রেপ্তার দীপক।

সেতুটির সংস্কার এবং রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্বে থাকা ওরেভা কোম্পানির কর্মকর্তাসহ পুলিশ এখন পর্যন্ত নয়জনকে গ্রেপ্তার করেছে।

বুধবার তাকে চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট এমজে খানের আদালতে তোলা হলে সেখানে তিনি বলেন, “ভগবানের ইচ্ছাতেই এমন দুর্ভাগ্যজনক একটি ঘটনা ঘটেছে।”

আরও পড়ুনঃ সাংবাদিক হত্যার ৮৬% ঘটনায় অভিযুক্তরা রেহাই পান: ইউনেসকো

অবশ্য সেতু ধসের দায় ভগবানের উপর চাপাতে চাইলেও পুলিশ জানিয়েছে যে তারে সেতুটি ঝুলে ছিল সেটিতে মরিচা ধরে গিয়েছিল। সংস্কার কাজের সময় তারগুলো পাল্টে ফেলার কথা থাকলেও ওভেরা গ্রুপ সে কাজ করেনি। এমনকি সরকারের অনুমতি ছাড়াই এবং সুরক্ষা মান যাচাই না করেই গত ২৬ অক্টোবর সেতুটি জনগণের জন্য পুনরায় খুলে দেয়া হয়।

এদিকে যে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান সেতু মেরামতের কাজ করেছে তারা সরকারি অবকাঠামো রক্ষণাবেক্ষণের কাজ করার যোগ্যই ছিল না বলেও আদালতে দাবি করেন রাষ্ট্রপক্ষের একজন আইজীবী। তা স্বত্বেও ওই ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে ২০০৭ সালে একবার এবং ২০২২ সালে পুনরায় সেতুটির সংস্কারের দায়িত্ব দেয়া হয়। বলে জানিয়েছেন তিনি।

কোনো ঝুলন্ত সেতুর পাটাতন পরিবর্তন করার পর যদি তার পরিবর্তন করা না হয় তবে পুরাতন তারের পক্ষে নতুন পাটাতনের ওজন সহ্য করা সম্ভব হয় না। সংস্কারের অংশ হিসেবে মাচ্চু নদীর উপরের সেতুটির পাটাতনে চারস্তরের অ্যালুমিনিয়াম শিট ব্যবহার করা হয়েছে। ফলে নতুন পাটাতনের ওজন অনেক বেড়ে গেছে।

ওরেভা কোম্পানির ব্যবস্থাপনা পরিচালক জয়সুখভাই প্যাটেল সেতুটি পুনরায় খুলে দেয়ার ঘোষণার সময় বলেছিলেন, সংস্কার করার পর আগামী আট থেকে ১০ বছর সেটি অক্ষত থাকবে। কিন্তু খুলে দেয়ার পাঁচ দিনের মাথায়ই সেটি ছিঁড়ে পড়ে।