৯৬ টাকায় মিলছে বাড়ি!



প্রতিটি বাড়ির মূল্য মাত্র ১ ইউরো অর্থাৎ বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ৯৬ টাকা। বাড়িগুলো একেকটা প্রায় ৪৩০ থেকে ১ হাজার ৬১৪ বর্গফুটের। বাড়ীর বারান্দা থেকে দেখা যায় ভূমধ্যসাগরের অপরূপ দৃশ্য। জানালা দিয়েই কাছের সৈকতের সৌন্দর্য অনুভব করা যায়।

কি মনে মনে ভাবছেন বাড়ীগুলো নিশ্চিত ভুতুড়ে। না ভয় পাওয়ার কারণ নেই। শুনতে ভুতুড়ে শোনালেও বাড়ীগুলো মোটেই তেমন নয়। মূলত ইতালির দক্ষিণাঞ্চলীয় দ্বিপ সিসিলির সাম্বুকা নগর প্রশাসন এই বিজ্ঞাপন দিয়েছে। দেশি-বিদেশি যে কারও জন্যও এই অফার প্রযোজ্য বলে জানিয়েছে তারা।

এই মনোরম শহরে বাড়ি পানির দামে বিক্রির সিদ্ধান্ত নেওয়া হলেও এসব বাড়ি কিনে কেউ পানিতে পড়বেন না নিশ্চিত! খোদ সাম্বুকা নগর প্রশাসনই গ্যারান্টি দিয়েছে এর। এটি আসলে প্রতীকী মূল্য।

শহরটির ডেপুটি মেয়র ও পর্যটনবিষয়ক কাউন্সিলর জুজেপ্পে কাচোপ্পো বলেন, ‘এই বাড়িগুলো বর্তমানে নগর প্রশাসনের মালিকানায় রয়েছে। আমরা বাড়ি বিক্রির মধ্যস্বত্বভোগী কোনো পক্ষ নই যে, বিক্রেতা ও ক্রেতার মধ্যে কোনো মিথ্যা তৈরি করব। এখানে প্রতারণার কোনো ঝুঁকি নেই। আপনি ওই বাড়ি কিনতে চান, তো সঙ্গে সঙ্গেই তা হাতে পেয়ে যাবেন।’

তবে এসব বাড়ি কিনতে একটি ছোট্ট শর্ত জুড়ে দিয়েছে কর্তৃপক্ষ। ক্রেতাকে একটি বাড়ি কেনামাত্রই তা ঘষেমেজে ঝকঝকে করে তুলতে হবে। তা করতে হবে নিজের গাঁটের পয়সা খরচ করেই। এর জন্য তিন বছর পাবেন ক্রেতা। সংস্কারের জন্য ন্যূনতম ব্যয় ১৫ হাজার ইউরো (বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ১৪ লাখ ৩৬ হাজার টাকা) থেকে শুরু। নিরাপত্তা আমানত হিসেবে ফেরতযোগ্য ৫ হাজার ইউরো (৪ লাখ ৭৮ হাজার টাকা) জমা রাখতে হবে শুরুতে। সংস্কারকাজ শেষ হলেই সেটি ফেরত দেওয়া হবে ক্রেতাকে। কাচোপ্পো জোর দিয়ে বলেন, ক্রেতা হতাশ হবেন না, গ্যারান্টি।

মূলত শহরটিকে আবার জমজমাট করার লক্ষ্যে এই বাড়িগুলোকে এত সস্তায় বিক্রি করা হচ্ছে। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে দেখা গেছে, ইতালির আরও অনেক গ্রামের মতোই এই এলাকাও ক্রমে জনশূন্য হয়ে পড়ছে। স্থানীয় বাসিন্দারা বড় বড় শহরে গিয়ে থিতু হচ্ছেন। আর তাই এমন সিদ্ধান্ত নিয়েছে শহর কতৃপক্ষ।