আপনার পায়ের সৌন্দর্যের জন্য তারা শ্বাসকষ্টে ভোগেন



জানেন কি? পাদুকা কারখানায় ব্যবহৃত নানা ধরনের রাসায়নিকের কারণে অধিকাংশ শ্রমিকের একসময় শ্বাসকষ্টের সমস্যা দেখা দেয়। বয়সের ভারে শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা যেমন কমে তেমনি বাড়ে ওষুধের খরচ। একসময় ওষুধের পেছনে চলে যায় তার আয়ের বড় একটা অংশ।

দীর্ঘ ১৬ বছর ধরে চট্টগ্রামের একটি পাদুকা তৈরির কারখানায় কাজ করছেন মানিকগঞ্জের বাবুল মিয়া। এর মধ্যে ১০ বছরের বেশি সময় ধরেই ভুগছেন শ্বাসকষ্টে। পাদুকা শিল্পের দক্ষ এ কারিগর জানান, আগে তার শ্বাসকষ্টের সমস্যা ছিল না। এ পেশায় আসার পর পাদুকা কারখানায় ব্যবহৃত নানা ধরনের রাসায়নিকের সংস্পর্শে এ রোগ বাঁধিয়েছেন তিনি।

চট্টগ্রামের পূর্ব মাদারবাড়ী এলাকার দিপালী সুজ কারখানায় কাজ করেন মো. হাফিজুর রহমান। ১৩ বছর ধরে এ পেশায় যুক্ত হাফিজুরও ভুগছেন একই সমস্যায়। নিয়মিত শ্বাসকষ্ট লেগে থাকায় অনেক সময় কারখানায় আসতে পারেন না তিনি।

কেবল বাবুল মিয়া বা হাফিজুর নন, একই সমস্যায় ভুগছেন পাদুকা শিল্পের শত শত শ্রমিক ও কারিগর। অথচ তাদের দক্ষ হাতের নিপুণ কাজেই তৈরি হয় নানা নকশার পাদুকা, যা দিয়ে মেটে দেশের পাদুকার অভ্যন্তরীণ চাহিদার বড় অংশ।

পাদুকা শিল্পে শ্রমিক-কারিগরদের শ্বাসকষ্টজনিত রোগে ভোগার সবচেয়ে বড় কারণ কারখানার অস্বাস্থ্যকর পরিবেশ এবং পাদুকা তৈরিতে নানা ধরনের রাসায়নিকের ব্যবহার।

সংশ্লিষ্টরা জানান, সনাতনী পদ্ধতির পাদুকা কারখানায় নিম্নমানের রাসায়নিক ও উপকরণ ব্যবহার করা হয়। চীন থেকে আসা এসব উপকরণ ব্যবহারে সুরক্ষামূলক কোনো পদ্ধতিই অনুসরণ করা হয় না।

মূলত তিন ধরনের কেমিক্যাল বা রেজিন ব্যবহার হয় পাদুকা তৈরিতে। এর মধ্যে রয়েছ- পিও গাম, দুদ গাম ও এলকো গাম। রেক্সিন, সিনথেটিক লেদার, চামড়া, জুতোর মোটা কাপড় ও রাবারের মধ্যে জুতোর সংযুক্তিতে ব্যবহার করা হয় এসব গাম। গাম ব্যবহারের পর ইলেকট্রিক ভাল্বের কুণ্ডলীতে তাপ দিয়ে জোড়া দেয়া হয়।

এজন্য প্রতিটি ছোট আকৃতির কারখানায় প্রায় ১০ থেকে ১৫ জন শ্রমিক এক সঙ্গে কাজ করেন। যার কারণে কারখানার অভ্যন্তরীণ পরিবেশ ভয়ানকভাবে দূষিত থাকে। ফলে শ্বাসকষ্ট-জাতীয় রোগ ছাড়াও অনেকে হূদরোগের ঝুঁকিতে থাকেন।

চট্টগ্রাম ক্ষুদ্র পাদুকা শিল্প মালিক গ্রুপের সহসভাপতি মঞ্জুর খান বলেন, এ খাতের জন্য বিশেষায়িত কোনো প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা নেই। ক্ষুদ্র বিনিয়োগকারীরাও নিজ উদ্যোগে প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করতে পারছে না।

ফলে শ্রমিকদের নানা অসুখ-বিসুখ লেগে থাকে। এর ফলে মালিকদের কাঙ্ক্ষিত উৎপাদনের মাধ্যমে লাভের ধারায় থাকা কঠিন হয়ে পড়ছে।

উল্লেখ্য, সারা দেশে ক্ষুদ্র পাদুকা শিল্পে প্রায় ৫০ হাজার মানুষ কাজ করে, যার মধ্যে ১২ থেকে ১৫ হাজারই কাজ করেন চট্টগ্রামে। চট্টগ্রাম ক্ষুদ্র পাদুকা শিল্প মালিক গ্রুপের সদস্য সংখ্যা পাঁচ শতাধিক। এর বাইরেও প্রায় ৩০০ কারখানা রয়েছে নগরীর বিভিন্ন এলাকায়।