আপনি কত% মানুষ আর কত% প্রাণী ?


man and animal

জাহিদ বিন মনির

২০১৯। ফাইভ জি বা আরো আধুনিক সংস্করণ। বিজ্ঞানের অন্যতম আবিষ্কার। যেখানে কম সময়ে অনেক কাজ করা যায় অথচ ‘কথা কম কাজ বেশি’ এই প্রবাদে প্রতিষ্ঠিত আধুনিক যুগে এসেও দেখা যায়- আলোচনায় ভূমিকা বা সমালোচনাই অধিক প্রাধান্য পায়। সমস্যা নিয়ে কথা তো হয়ই না আর সমাধান শব্দটি বিলুপ্ত প্রায়। তাই ভূমিকায় ভিড় করব না।

অনেক দিন আগের কথা। তখন সত্য যুগ প্রায় শেষের দিকে। হঠাৎ করে দেখা গেল পৃথিবীতে বাঘের সংখ্যা আর্শ্চয্যজনক ভাবে বেড়ে গেছে। বনের পশু-পাখিরা বড়ই আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছে, এই বুঝি বাঘ এলো। প্রতিদিনই বিপুল সংখ্যক বাঘের ব্রেকফাস্ট, লাঞ্চ আর ডিনারে নিরীহ প্রাণীরা প্রাণ হারাচ্ছে। চারিদিকে হাহাকার। সেইসময় বনের সবচেয়ে বুড়ো ও বুদ্ধিমান শিয়ালের পরামর্শে গভীর রাতে খুবই গোপনে সভা ডাকা হলো। ভদ্র, সভ্য, নিরীহ প্রাণীগুলো একে একে বন থেকে দূরে ঐ পাহাড়টার নিচে আসতে শুরু করলো। সবার মুখেই ভয়ের ছাপ। বাঘের আক্রমণে বেঁচে গেলেও আহতরা সভার একপাশে শুয়ে ব্যথায় কাতরাচ্ছে। শুরু হলো আলোচনা, অনেক তর্ক-বির্তকের পর তারা সিন্ধান্ত নিলো আর কোন রাস্তা নেই; প্রার্থনা ছাড়া। চলো সবাই মিলে স্রষ্টার কাছে প্রার্থনা করি।

ঠিক হলো গভীর রাতে সবাই মিলে এখানে এসেই প্রার্থনা করবে। তারপর থেকে প্রার্থনা শুরু, মাস গেল, বছর কেটে গেল, যুগও পার হয়ে গেল তবুও প্রার্থনার বিরতি নেই । ওদিকে বাঘের অত্যাচারে প্রাণীর সংখ্যাও কমতে শুরু করেছে। অবশেষে প্রার্থনার সমাপ্তি ঘটল, স্রষ্টা প্রার্থনা শুনলেন। প্রাণীরা জয়ধ্বনি দিতে দিতে নিশ্চিন্তে যে যার ঘরে ফিরে গেল। স্রষ্টা অতিরিক্ত বাঘ হত্যা করলেন না, কারণ সবই তো তার সৃষ্টি। তবে সমাধান ঠিকই করলেন- বেছে বেছে অত্যাচারি বাঘগুলোকে মানুষ বানিয়ে দিলেন। বাঘগুলো মানব রূপে মনুষ্য সমাজে মিশে গেল আর বনে শান্তি ফিরে এলো।

কিছুদিন পরে আরেক সমস্যা দেখা দিল । মানুষরূপী বাঘেরা মানব সমাজেও অত্যাচার শুরু করল। যতই মানুষের মতো দেখা যাক তারা তো বাঘই । যাই হোক নানা যুগে, নানান কালে মানুষের হিংস্রতার ব্যাখ্যা দিতে গিয়ে এমন বহু রূপকথার জন্ম হয়েছে। কোথাও বাঘকে মানুষ বানানো হয়েছে কোথাও বা সাপকে। তাই আমরা স্বার্থান্বেষী মানুষদের দ্বিমুখী সাপ বলে গালি দেই। আচ্ছা বাঘ, সাপ ও অনান্য প্রাণী বা পর্দাথের তো ধর্ম আছে। এই যেমন- চুম্বকের ধর্ম আর্কষণ করা , বাঘের ধর্ম হিংস্রতা, পাখির ধর্ম উড়া। তবে মানুষের ধর্মটা কি? ( বলে রাখি আমি এখানে ধর্ম বলতে সাম্প্রদায়িকতা/জাতি নিয়ে আলোচনা করতে চাচ্ছি না, যদিও সত্য ধর্ম মানুষকে সর্বপ্রথম মানবতার শিক্ষাই দেয়।)

তো মানুষের ধর্মটা কি? কল্পনা করুন মানুষ একটা প্রাণী বা পর্দাথ। অনান্য প্রাণী বা পর্দাথের যেমন প্রধান বৈশিষ্ট বা ধর্ম আছে তেমনি মানুষেরও আছে, তবে কি সেটা? আর কেনই বা মানুষ অন্য প্রাণীর তুলনায় শ্রেষ্ঠ? আর কিসেরই বা পার্থক্য?

এটা সত্য যে সকল গুণাবলির সর্বোত্তম সংস্করণটা মানুষের আছে। যেমন- বুদ্ধিমত্তা, অন্য প্রাণীরাও বুদ্ধিমান তবে মানুষের বুদ্ধিমত্তা অন্যতম। ক্রিয়েটিভিটি, সব প্রাণীর আছে, তবে মানুষের ক্রিয়েটিভিটি সর্বশ্রেষ্ঠ। তবে কিছু বিষয় আছে যা শুধু মানুষের মাঝেই খুঁজে পাওয়া যায়। যেমন- মানবতা বা সভ্যতা। এছাড়াও বোধের বহিঃপ্রকাশ মানুষ সর্বশ্রেষ্ঠ হওয়ার অন্যতম কারণ।

এক্ষেত্রে একই জাতীয় বোধের কারণে সাধারণ প্রাণী এক ধরনের আচরণ করে আর মানুষ আরেক ধরনের। দেখে নিন নিচের ছকটি আর মেপে ফেলুন আপনি আপনি কত% মানুষ আর কত% প্রাণী ?

সাধারণ প্রাণী                             বোধ                      মানুষ
সাধারণ প্রাণী রাগের বহিঃপ্রকাশ ঘটায় আক্রমণে। অর্থাৎ সাধারণ প্রাণী রেগে গেলেই তেড়ে আসে।                       ক্রোধ / রাগ মানুষের রাগ বা ক্রোধ তেজস্বিতায় রূপান্তরিত হয়।
সাধারণ প্রাণী লোভের বহিঃপ্রকাশ ঘটায় দখলের মাধ্যমে।                         লোভ মানুষের লোভ প্রয়োজনের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকে।
সাধারণ প্রাণীতে কাম/ সেক্স বোধটা ধর্ষণের মাধ্যমে প্রকাশ পায়।                       
                      কাম / সেক্স
 
মানুষের কাম / সেক্স বোধটা প্রেম / ভালবাসায় রূপান্তরিত হয়।
সাধারণ প্রাণী অহংকারের কারণে আধিপত্য ছড়াতে চেষ্টা করে ।                       অহংকার মানুষ অহংকার বোধটাকে বিনয়ে রূপান্তরিত করে।
প্রাণীরা মোহে পরলে দখল করতে চেষ্টা করে এবং আর হিংসা করে ।                         
                       মোহ
 (লোভ ও মোহ অনেকটা একই। তবে মোহতে অধিক আকৃষ্টতা থাকে।)
মানুষ মোহ বোধটা প্রয়োজনে রূপান্তরিত করে এবং ছাড় দেওয়ার ইচ্ছা পোষণ করে।
প্রাণীরা প্রতিশোধ নেয় খুন করে বা ক্ষতি করে ।        মাৎসর্য্য / প্রতিশোধ নেয়ার ধরন মানুষ প্রতিশোধ নেয় ন্যায়পরায়নতার মাধ্যমে বা ক্ষমা করে।