দেশের আমদানি-রফতানি উভয় সূচকে নেতিবাচক ধারা



দেশে আমদানির ক্ষেত্রে হঠাৎ স্থবিরতা দেখা দিয়েছে। রফতানি আয়ের যে গতি ছিল তাও কমে এসেছে। ফলে দেশের আমদানি-রফতানি উভয় সূচকে নেতিবাচক ধারা দেখা দিয়েছে।

টাকার বিপরীতে ডলারের দাম বৃদ্ধির কারণে আমদানিতে ভাটা পড়েছে বলে মনে করছেন গবেষকগণ।

গত ফেব্রুয়ারি মাসে আমদানিতে নেতিবাচক প্রবৃদ্ধি হয়েছে। আর মার্চ মাসে রফতানি আয়েও নেতিবাচক ধারা লক্ষ্য করা গেছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের এক প্রতিবেদনে এই তথ্য তুলে ধরা হয়েছে।

প্রতিবেদনের তথ্যানুযায়ী, গত ফেব্রুয়ারিতে ৩৩৮ কোটি ৩২ লাখ ডলার রফতানি আয় হলেও মার্চে রফতানি আয় হয়েছে ৩৩৪ কোটি ২ লাখ ডলার। এছাড়া গত জানুয়ারিতে পণ্য আমদানিতে ব্যয় হয়েছে ৬১২ কোটি ৮ লাখ ডলার। ফেব্রুয়ারিতে আমদানিতে ব্যয় হয়েছে ৪৭০ কোটি ৩৯ লাখ ডলার। অর্থাৎ এক মাসে আমদানি ব্যয় কমেছে ১৪১ কোটি ৬৯ লাখ ডলার।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দেশের অভ্যন্তরীণ চাহিদা মেটাতে বিদেশ থেকে চাল ও গম আমদানি কমেছে। এই অর্থবছরের জুলাই থেকে ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত আট মাসে চাল ও গম আমদানির জন্য লেটার অব ক্রেডিট বা এলসি খোলার পরিমাণ কমেছে ৬৬ শতাংশ। এমনকি শিল্পের জন্য ক্যাপিটাল মেশিনারির এলসি খোলার পরিমাণ কমেছে ২৫ দশমিক ৯৯ শতাংশ। বাংলাদেশ ব্যাংকের হিসাব অনুযায়ী, এই সময়ে সার্বিক এলসি খোলার পরিমাণ কমেছে ২১.৭৭ শতাংশ। অবশ্য এ সময়ে এলসি নিষ্পত্তি বেড়েছে ৯.০৪ শতাংশ।

২০১৮-১৯ অর্থবছরে পণ্য রফতানি করে ৩৯ বিলিয়ন (তিন হাজার ৯০০ কোটি) ডলার আয়ের লক্ষ্যমাত্রা ঠিক করেছে সরকার। ২০১৮-১৯ অর্থবছরের প্রথম ৯ মাসে (জুলাই-মার্চ) বিভিন্ন পণ্য রফতানি থেকে বাংলাদেশ আয় করেছে ৩ হাজার ৯০ কোটি ৩০ লাখ ডলার। এই অংক গত বছরের একই সময়ের চেয়ে ১২ দশমিক ৫৭ শতাংশ বেশি।