শিগগিরই অনলাইনে বাংলাদেশি শ্রমিক নিয়োগ দেবে মালয়েশিয়া



বিদেশি শ্রমিকদের জন্য একটি অনলাইন জব পোর্টাল খুলবে মালয়শিয়া। এর মাধ্যমে সেদেশে নতুন শ্রমিক নিয়োগ দেওয়া হবে। এর মাধ্যমে নতুন করে বাংলাদেশিদের জন্য দেশটির শ্রমবাজার উন্মুক্ত হচ্ছে।

এ বিষয়ে মালয়েশিয়ার মানবসম্পদ মন্ত্রী এম কুলাসেগেরান বলেছেন, মালয়েশিয়া সরকারের অনলাইন মাধ্যমে নতুন লোক নিয়োগের প্রক্রিয়া চূড়ান্ত পর্যায়ে, বিশেষ করে নেপাল এবং বাংলাদেশের জন্য কয়েক মাসের মধ্যে চূড়ান্ত হবে।

মালয়েশিয়ার মানবসম্পদ মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা যায়, বাংলাদেশ এবং নেপাল থেকে নতুন করে শ্রমিক নেওয়ার জন্য একটি অনলাইন জব পোর্টাল খোলা হচ্ছে। এই অনলাইন পোর্টাল থেকে চাকরি প্রত্যাশীরা নিজেরাই চাকরি খুঁজতে পারবেন এবং নিয়োগকর্তারাও চাকরির জন্য লোক নিয়োগ করতে পারবেন। নতুন এই প্রক্রিয়া নিয়ে কাজ করা ইন্ডিপিডেন্ট ফরেন ওয়ার্কার্স কমিটি ইতোমধ্যে রিপোর্ট তৈরি করেছে। এই রিপোর্ট কেবিনেট থেকে অনুমোদনের পর প্রক্রিয়ার কাজ শুরু হবে বলে জানা গেছে। এই রিপোর্টে বিদেশি শ্রমিক নিয়োগে নতুন কী ব্যবস্থা নেওয়া যায় বিভিন্ন দেশের এ ধরনের লোক নিয়োগ প্রক্রিয়া পর্যবেক্ষণ করে সে বিষয়ে সুপারিশ করা হয়েছে। কেবিনেট অনুমোদন দেওয়ার পর মালয়েশিয়ান কোম্পানি কিংবা ব্যক্তিপর্যায়ে বিদেশি শ্রমিক নিজেরাই নিয়োগ করতে পারবে। যার যেসব ক্যাটেগরির শ্রমিক প্রয়োজন তারা নিজেরাই তা বেছে নিতে পারবে পোর্টালের মাধ্যমে। এই পোর্টালের তদারকি করবে মানবসম্পদ মন্ত্রণালয়। কেন্দ্রীয়ভাবে এই পোর্টালের নাম প্রাথমিকভাবে দেওয়া হচ্ছে মালয়েশিয়ান রিক্রুটিং এজেন্সি (এমআরএ)। এই পোর্টাল শুধুমাত্র বিদেশি শ্রমিকদের বিষয়ে কাজ করবে।

জানা গেছে, মালয়েশিয়ান নিয়োগকর্তাকে ২ লাখ ৫০ হাজার রিঙ্গিত সিকিউরিটি ডিপোজিট হিসেবে সরকারের কাছে জমা রাখতে হবে। যদি কোনও নিয়োগকর্তা শ্রমিকের পারিশ্রমিক দিতে ব্যর্থ হয় কিংবা নির্যাতন করে অথবা অসদাচরণ করে, তাহলে এই সিকিউরিটি ডিপোজিট থেকে শ্রমিককে ক্ষতিপূরণ দেওয়া হবে।

মালয়েশিয়ার মানবসম্পদমন্ত্রী এম কুলাসেগেরান সেদেশের গণমাধ্যমকে বলেন, সরকারের নতুন প্রক্রিয়া চূড়ান্তকরণের দ্বারপ্রান্তে। কয়েক মাসের মধ্যেই নতুন এই প্রক্রিয়াটি চালু হবে। মধ্যসত্ত্বভোগীদের কারণে বিদেশি শ্রমিক নিয়োগ প্রক্রিয়ায় যে সমস্যা হচ্ছে এ বিষয়ে সরকার অবগত আছে। নতুন পোর্টালটি চালু হওয়ার পর যার যার প্রয়োজন অনুযায়ী ক্যাটেগরিভিত্তিক শ্রমিক নিয়োগ করতে পারবে। নতুন আবেদন আসার ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে এমআরএ’কে জবাব দিতে হবে।

এর আগে বাংলাদেশি ১০টি রিক্রুটিং এজেন্সি একচেটিয়া ভাবে ও দুর্নীতির মাধ্যমে মালয়েশিয়ায় শ্রমিক নিয়োগ করছে এমন অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে গেল বছরের সেপ্টেম্বর মাস থেকে এসপিপিএ সিস্টেমের মাধ্যমে নতুন শ্রমিক নিয়োগ বন্ধ রাখে মালয়েশিয়ার সরকার।

এরপর জিটুজি প্লাস থেকে সরে এসে পুরনো পদ্ধতিতে (জিটুজি) লোক নিয়োগের আগ্রহ প্রকাশ করলেও ৭ মাস ধরে মুখ থুবড়ে পড়ে আছে মধ্যপ্রাচ্যের পর সবচেয়ে বড় এই শ্রমবাজার। মালয়েশিয়া সরকার এই বিষয়ে দুই দেশের মধ্যে জয়েন্ট টেকনিক্যাল কমিটির বৈঠক করলেও এই বাজার নিয়ে এখনও কোনও বিষয় স্পষ্ট নয়।

জনশক্তি, কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ ব্যুরোর দেওয়া তথ্যমতে, ২০১৮ সালের নভেম্বর মাসে মালয়েশিয়ায় গেছেন ১৮ হাজার ৮৯৩ জন। এরপর ডিসেম্বর মাসে গেছেন ১ হাজার ৪৭৬ জন। এই বছর জানুয়ারি মাসে ২১ জন, ফেব্রুয়ারি মাসে ১৪ জন এবং মার্চ মাসে ২০ জন মালয়েশিয়ায় গেছেন।

উল্লেখ্য যে, মধ্যপ্রাচ্যের পর বাংলাদেশি জনশক্তি রফতানির অন্যতম এই বাজার ২০০৯ সালে কর্মী নেওয়া বন্ধ করে দেয়। এরপর আবার ২০১২ সালের ২৬ নভেম্বর জনশক্তি রফতানিকারকদের বাদ দিয়ে সরকারিভাবে দেশটিতে কর্মী পাঠাতে জিটুজি চুক্তি করা হয়। এরপর আবারও জনশক্তি রফতানিকারকদের যুক্ত করে ২০১৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে দুই দেশের মধ্যে জি টু জি প্লাস (সরকারি-বেসরকারি) সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হয়।

তবে সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হওয়ার ১২ ঘণ্টার মধ্যেই মালয়েশিয়া বলে, এই মুহূর্তে তারা আর কর্মী নেবে না। এতে কর্মী পাঠানোর প্রক্রিয়া ঝুলে যায়। এরপর ২০১৬ সালের নভেম্বরে মালয়েশিয়ার মন্ত্রীর নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধিদল বাংলাদেশে আসে। ওই বৈঠকের পর আবার কর্মী পাঠানোর প্রক্রিয়া শুরু হয়।

সর্বশেষ ২০১৮ সালে আবারও মালয়েশিয়ায় কর্মী পাঠানো নিয়ে ধোঁয়াশার সৃষ্টি হলে মালয়েশিয়া সরকার এবং পরে প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয় ঘোষণা দেয় ১০টি রিক্রুটিং এজেন্সির পরিবর্তে নিবন্ধিত সব রিক্রুটিং এজেন্সির মাধ্যমে কর্মী পাঠাতে পারবে বাংলাদেশ। আর পুরানো এসপিপিএ অনলাইন প্রক্রিয়া বাতিল করে নতুন প্রক্রিয়ায় এই নিয়োগ করা হবে। এসপিপিএ সিস্টেম সচল রাখা হয় ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত। সেপ্টেম্বরের পর ওই সময়ের মধ্যে ৫০ হাজার ১০৮ জন কর্মী মালয়েশিয়া গিয়েছে বলে জানিয়েছে বিএমইটি।