সন্তান জন্মদানে সক্ষম হবে রোবট?



বেড পার্টনার বা শয্যাসঙ্গী হিসেবে রোবটের ভবিষ্যৎ নিয়ে গুঞ্জন শোনা যাচ্ছে বেশ দীর্ঘদিন ধরেই। যেসব প্রতিষ্ঠান গুলো সেক্সডল প্রস্তুত করেন তাদের মাঝে এই নিয়ে চলছে ব্যাপক গবেষণা ও বিনিয়োগ।

একই সাথে রোবট যেন সন্তান জন্মদানে সক্ষম হয় সেদিকেও তারা সমান গুরুত্ব দিচ্ছেন। কিন্তু এ নিয়ে বিজ্ঞানীরা ভাবছেন একটু অন্যভাবে। তারা আশাবাদী হয়ে উঠছেন মানুষের সঙ্গে যৌনতার বাইরে ‘যান্ত্রিক প্রজনন’ নিয়ে।

এমন ধারণা নিয়েই কথা বলেছেন তথাকথিত রোবট বিবর্তনবাদী বিজ্ঞানীরা। তাদের বক্তব্য, নতুন রোবট তৈরি এবং এই মেশিনকে আরো উন্নত করার ঝক্কি কেন মানুষকে নিতে হবে, যদি রোবট নিজেই সেই কাজটি করতে সক্ষম হয়ে ওঠে? এটি যেন এক হাইটেক ডারউইনবাদ!

এমন কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ও রোবট তৈরি করা যা নিজের সোর্স কোড নিজেই বিশ্লেষণ করতে পারবে। এবং পাশাপাশি অন্য এক বা একাধিক সঙ্গীর সঙ্গে যৌথভাবে তাদের সোর্স কোডের সমাবেশ ও পুনর্বিন্যাস ঘটিয়ে নতুন রোবট তৈরি করতে পারবে এমন লক্ষ্যকে সামনে রেখেই গবেষণা করছেন বিজ্ঞানীরা।

এ ঘটনাটি হবে অনেকটা প্রাণীর বংশবিস্তারের মতো। এখানেই শেষ নয়, পরিবেশ প্রতিবেশের প্রভাবে জীব যেমন ক্রমবিবর্তনের মধ্য দিয়ে যায় তেমনিভাবে পরিবেশের জন্য নিজেকে আরো উপযোগী করে তুলতে পারবে রোবটের সন্তানও।

এই ধরনের প্রযুক্তি উদ্ভাবনের পথেই আছেন কিছু গবেষক এমন তথ্য পাওয়া গিয়েছে প্রযুক্তি পত্রিকা অয়্যার্ড থেকে।

ভবিষ্যতে রোবট কীভাবে নিজেদের ‘জেনেটিক ইনফরমেশন’ বিনিময়, সংযোজন, বিয়োজন ও সমন্বয় করতে সক্ষম হবে তারই একই সাধারণ সিস্টেম তৈরি করে দেখিয়েছেন আমস্টারডামের ভ্রিজে ইউনিভার্সিটির কম্পিউটার বিজ্ঞানীরা।

ন্যাচার মেশিন ইনটেলিজেন্স নামক একটি জার্নালে এই গবেষণাটি সম্প্রতি প্রকাশ পেয়েছে। প্রোগ্রামিং করা একাধিক রোবট (বাবা-মা অর্থে) যেগুলো নতুন রোবট তৈরি করতে পারে- তাদের এই ‘সন্তান’ প্যারেন্ট রোবটগুলোর কোডের একটি মিশ্রণ ধারণ করে এমনটাই দেখিয়েছে এই গবেষক দলের উদ্ভাবিত সিস্টেম।

এছাড়া সোর্স কোডের কিছু মডিউল দেখে মনে হয়েছে সেগুলোর পরিব্যক্তি (মিউটেশন) ঘটে গেছে কিংবা নিজের মধ্যেই সোর্স কোডের মিশ্রণ তৈরি করেছে।

‘এইটা রোবটের জগতে আমাদের ব্যাপক বৈচিত্র্য এনে দেবে’, এমনটাই বলেছেন এই প্রকল্পের বিজ্ঞানী ডেভিড হাওয়ার্ড অয়্যার্ডকে।

তিনি আরো বলেন, ‘এটা এমনকিছু ডিজাইন করার সক্ষমতা দেবে যা সাধারণত আমাদের ধরাছোঁয়ার বাইরে’। বছর বিশেকের মধ্যেই মানুষ প্রজননে সক্ষম এমন রোবট ব্যাপকহারে বাণিজ্যিক উৎপাদনে যাবে এমন বিশ্বাসে বিশ্বাসী হার্ডওয়্যার।

পাশাপাশি যখন একাধিক রোবট মিলেমিশে তৈরি করবে নতুন রোবট সেটি হবে আরো দক্ষ, ঠিক যেমনটি ঘটেছে প্রাণীর বিবর্তনের ক্ষেত্রে।