চাকরি টিকিয়ে রাখার ৭ উপায়



ব্যক্তির চাকরি হচ্ছে সমাজে তার ভূমিকা ও অবস্থানের একটি মাধ্যম। আর্থিক ও মর্যাদার ক্ষেত্রেও যথেষ্ট ভূমিকা রয়েছে চাকরির। তবে দীর্ঘদিন চাকরির সঙ্গে যুক্ত থাকা বেশির ভাগ মানুষ হতাশা ও বিষণ্নতায় ভোগেন।

একটা নির্দিষ্ট সময় পর্যন্ত চাকরির সাথে যুক্ত থাকতে হয়। একই কাজ করতে করতে একঘেয়েমি আর ক্লান্তি ঘিরে ধরে। এরই মধ্যে ধাপে ধাপে উন্নতিও করতে হয়।

সফলভাবে চাকরি করার জন্য কিছু নিয়ম মেনে চলতে উপদেশ দেন বিশেষজ্ঞরা। আসুন জেনে নেই এমন কিছু উপায়;

শেখার কোন শেষ নেই;

আমাদের দেশে বেশিরভাগ ক্ষেত্রে চাকরিজীবীরা নতুন কিছু শেখার চেষ্টা করেন না, সেটা প্রযুক্তিগত কিছু হোক বা কাজ করার নতুন থিওরি হোক। এই মানসিকতা থেকে বের হয়ে আসুন। নিজের কাজকে সহজ করার জন্য প্রতিদিন কিছু একটা শেখার চেষ্টা করুন। এ জন্য আপনি কাজের ফাঁকে নিজের কাজ বিষয়ে কিছু পড়ার চেষ্টা করুন। গুগলে খুঁজলেই পড়ার জন্য আপনি কিছু না কিছু পেয়ে যাবেন। সেগুলো পড়তে থাকুন। টেকনিক্যাল জ্ঞান বাড়াবার জন্য বর্তমানের প্রযুক্তি বিষয়ে খোঁজখবর রাখুন। খুঁজে দেখুন আপনার কাজের ধরন অনুসারে কোন প্রযুক্তি আপনাকে সহায়তা করতে পারে। সেগুলো শিখে নিন দ্রুত। যত শিখবেন ততই বৈচিত্র্যপূর্ণভাবে আপনি আপনার কাজ করতে পারবেন।

ইতিবাচক মনোভাব

মনের মতো চাকরি পাওয়ার ভাগ্য খুব কম মানুষের থাকে। এজন্য বেশির ভাগ চাকরিজীবীর একধরনের মানসিক অস্বস্তি থাকে। এ ছাড়া প্রতিদিনের রুটিন ওয়ার্কও একঘেয়ে হয়ে যেতে পারে। একঘেয়ে কাজ দীর্ঘদিন করতে কারোই ভালো লাগার কথা নয়। এসব বিষয় থেকে মুক্ত থাকতে ইতিবাচক থাকতে হবে। সবকিছুতে ইতিবাচক থাকুন। যে কাজটি করছেন সেখান থেকে আনন্দ খুঁজে নিতে শিখুন। কাজের ধরন অনুসারে কীভাবে কাজ করে আপনি আনন্দ পাচ্ছেন, সেটা খুঁজে বের করার জন্য নির্দিষ্ট সময়ের একটা প্রকল্প নিতে পারেন নিজে নিজে। যে পদ্ধতিটিতে নিজের আরাম খুঁজে পাবেন, সেটি প্রতিদিন ব্যবহার করুন। নির্দিষ্ট সময় পরপর নতুন পদ্ধতি খুঁজে নিন।

সৃষ্টিশীলতার চর্চা

চাকরি শুরু করার আগে আপনি সৃষ্টিশীল যা করতেন, চাকরির ফাঁকে ফাঁকে সেগুলোর চর্চা অব্যাহত রাখুন। হতে পারে আপনি গিটার, বাঁশি বা এ রকম বাদ্যযন্ত্র বাজাতে পারেন, তাহলে অবসরে সেগুলো বাজান। গান করতে পারলে অবসরে গান করুন, লেখালেখি করতে পারলে তার চর্চা করুন। অবসর সময় খুঁজে বের করুন।

পরিবারকে সময় দিন

নিজের জন্য কোয়ালিটি টাইম পার করা খুব জরুরি। আপনি যদি বিবাহিত হয়ে থাকেন, তাহলে নিজের পরিবারকে সময় দিন। ব্যাচেলর হলে আপনার বন্ধুবান্ধবের সঙ্গে নিয়ম করে মিশুন, আড্ডা দিন, বাইরে ঘুরুন। বাবা-মা থাকলে তাঁদের সঙ্গে দেখা করুন। আর যদি তাঁদের থেকে দূরে থাকেন, তাহলে অবশ্যই নিয়ম করে তাঁদের সঙ্গে কথা বলুন। দেখবেন মানসিকভাবে বেশ ফুরফুরে লাগছে আপনাকে। চাকরির একঘেয়েমি থেকে বাঁচতে এই কাজগুলো আপনার ‘ব্রিদিং স্পেস’ হিসেবে কাজ করবে।

পেশাগত এবং ব্যক্তিগত জীবন এক করবেন না

অফিস জীবন এবং ব্যক্তিগত জীবনকে এক করবেন না কখনোই। মনে রাখবেন, অফিসে আপনি কাজ করতে যান। সেখানে আপনার সবকিছুই অফিস এবং কাজকে কেন্দ্র করেই ঘটতে থাকে। কিন্তু ব্যক্তিগত জীবনে আপনার যা কিছু, সেটা একান্তই আপনার। এখানে আপনি যা করেন, সেটা মাস শেষে বেতন পাওয়ার জন্য নয়, ভালোবেসে করেন। কাজেই অফিসের কাজকর্মকে যত দূর সম্ভব অফিসে রেখে বাসায় ফিরুন। এতে আপনার মানসিক শান্তি অটুট থাকবে।

ছুটি ফেলে রাখবেন না

নিজের নির্ধারিত ছুটিগুলো সর্বোচ্চ ব্যবহার করতে চেষ্টা করুন। বোনাস কিংবা ওভারটাইমের ফাঁদে নিজের ছুটি নষ্ট করবেন না। নিজের পাওনা ছুটি কীভাবে ব্যবহার করবেন, তা নিয়ে নতুন করে ভাবুন। নতুন কোনো জায়গায় ঘুরতে যেতে পারেন, নিজের প্রয়োজনীয় কাজগুলো ঠিকভাবে শেষ করতে পারেন, পরিবারকে সময় দিতে পারেন, পুরোনো বন্ধুদের সঙ্গে দেখা করতে পারেন কিংবা কিছু না করে স্রেফ ঘুমিয়েও কাটাতে পারেন। যা–ই করুন না কেন, নিজের ছুটিগুলোকে অর্থবহ করে তোলার চেষ্টা করুন। দেখবেন ছুটি শেষে আপনি তরতাজা, কর্মচঞ্চল হয়ে উঠেছেন আগের চেয়েও বেশি।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারে সচেতন থাকুন

বর্তমান সময়ে সোশ্যাল মিডিয়া আপনার কর্মঘণ্টার একটা বড় অংশ নষ্ট করে। তাই এটি ব্যবহারে সচেতন থাকুন। সবচেয়ে ভালো হয় অফিসে কাজ করার সময় সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহার না করা। এখানে প্রচুর তথ্য পাবেন যেগুলো আপনাকে মানসিকভাবে ভালো থাকতে দেবে না। আর মানসিকভাবে আপনি ফিট না থাকলে মন দিয়ে কাজও করতে পারবেন না। অফিসে শুধু যোগাযোগ বা গুরুত্বপূর্ণ কাজ করার জন্য সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহার করুন।