কাঁচা আম ৫ টাকা কেজি



বাংলাদেশ ঘুরে গেলো ঘূর্ণিঝড় ‘ফণী’। আগে থেকেই সতর্ক অবস্থান নেওয়ায় মানুষের জীবন রক্ষা করা সম্ভব হলেও ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে ফসলের।

অন্যান্য জেলার মতো সাতক্ষীরার ওপর দিয়ে বয়ে যাওয়ার সময় ফসলের ক্ষেত, গাছপালা ও আম-বাগানগুলোর ওপর তাণ্ডব চালিয়ে গেছে এই ঝড়।

শনিবার (৪ মে) দিনশেষে তুমুল ঝড়ো-হাওয়া থেমে গেলেও তাই এখন দমবন্ধ অবস্থা আমচাষিদের। শত শত মণ আম ঝরে গেছে ঝড়ে।

জেলার সব বাগানেই একই অবস্থা। সবার কাছেই কাঁচা আম। তাই পড়ে গেছে দর। আর এক সপ্তাহের মধ্যে পাকার কথা আগাম জাতের এসব আম, কেজিপ্রতি ৬০ থেকে ৭০ টাকায় বিক্রি হতো, কিন্তু এখন ৫ টাকা কেজিতে বেচতে বাধ্য হচ্ছেন চাষিরা।

সাতক্ষীরা সদরের আম চাষি মকবুল হোসেন বলেন, ‘ঘূর্ণিঝড় ফণীর কারণে আমার ২০টি বাগানের প্রায় ২৫০ মণ আম পড়ে গেছে। দুদিন আগে যে আম ১২শ’ টাকা মণ বিক্রি করেছি, সেই আম আজ ২০০ টাকা মণ বিক্রি করতে হয়েছে।’

সাতক্ষীরা বড় বাজারের মানিক ফল ঘরের মালিক মতিয়ার রহমান বলেন, ‘জেলার চাহিদা মিটিয়ে ঢাকার বাজার দখল করেছে সাতক্ষীরার কাঁচা আম। প্রতিদিন ৪ থেকে ৫ হাজার মণ কাঁচা আম কিনে ঢাকায় পাঠাই আমি। তবে ঝড়ে পড়া আম বিক্রি হয় না। এবার ব্যবসায়ীরা ক্ষতিগ্রস্ত হবে।’

সাতক্ষীরা জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতর সূত্রে জানা যায়, সাতক্ষীরা জেলা থেকে ২০১৬-১৭ অর্থবছরে প্রায় ৩২ মেট্রিক টন এবং ২০১৭-১৮ অর্থবছরে ২৭ মেট্রিক টন আম বিদেশে রফতানি করা হয়েছে।

এবার রফতানি বাড়ানোর লক্ষ্যে পাঁচশ’ কৃষককে প্রশিক্ষণও দেওয়া হয়। চলতি মৌসুমে জেলায় আম উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে ৫০ হাজার মেট্রিক টন।

এই লক্ষ্যে প্রায় ৪ হাজার ১০০ হেক্টর জমির ৩ হাজার ৯৮৯টি বাগানে আম গাছ পরিচর্যা করা হচ্ছে। তবে ফণী’র কারণে আম ঝরে যাওয়ায় এবার রফতানিতে প্রভাব পড়বে বলে মনে করছে কৃষি বিভাগ।

সাতক্ষীরা সদর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ আমজাদ হোসেন জানান, ‘ঝরে পড়ে যাওয়া আম দিয়ে আচার তৈরি করে বা বিক্রি করে ক্ষতির পরিমাণ কিছুটা কমানো সম্ভব হবে।’

এছাড়াও ঝড়ে এই ক্ষয়-ক্ষতির প্রভাব পাকা আমের বাজারের ওপর পড়বে বলে আশঙ্কা করছেন ব্যবসায়ীরা।