যেন গল্প, তবুও সত্যি…



ভালোবাসা কি? এই একটি প্রশ্ন যার উত্তর প্রতিটি মানুষ ভেদে ভিন্ন হয়। কারো কাছে ভালোবাসার মানে ওই মানুষটিকে পাশে নিয়ে সারাজীবন কাটিয়ে দেয়া যাকে ছাড়া নিজেকে কল্পনা করাও অসম্ভব বলে মনে হয়।

আবার প্রিয় মানুষটিকে অন্য কারো সাথে আজীবন দূর থেকে দেখে দীর্ঘশ্বাস ফেলা ভালোবাসার নজিরও কম নয়। কখনো বিজয় আবার কখনো বিসর্জন এমন সব পরিণতির মধ্য দিয়েই ভালোবাসা বেঁচে রয়েছে। ভালোবাসার এমনি এক নজির আজ আপনারা জানবেন যা হয়তো আপনার আমার মনে গেঁথে থাকবে আজীবন।

ভারতের নদিয়ার নবদ্বীপের মাজদিয়া মাঠপাড়ার বাসিন্দা সজল দাস (২৮)। বছর চারেক আগেই বিয়ে করেছেন। স্ত্রী মিঠু দাসের প্রতি ভালোবাসা ছিলো তার প্রচণ্ড। কিন্তু স্ত্রীর বদলে যাওয়া তিনি লক্ষ্য করছিলেন অনেকদিন যাবতই।

অবশেষে সজল বুঝতে সক্ষম হলেন যে তার স্ত্রী যোগাযোগ রাখছেন তার প্রাক্তন প্রেমিকের সাথে। অবশেষে যখন মিঠু দাস প্রাক্তন প্রেমিকের সাথে চার বছরের বিবাহিত জীবন বাদ দিয়ে ঘর ছাড়েন তখনই সবটা দিনের আলোর মতো পরিষ্কার হয়ে যায়।

যেখানে সজলের আচরণ হওয়ার কথা মারমুখী সেখানে সবাইকে অবাক করে স্ত্রীর ভালোবাসার মর্যাদা প্রতিষ্ঠা তিনি নিজেই করেন। মিঠু দাসকে ডিভোর্স দিয়ে বিবাহ জীবন থেকে তাকে মুক্ত করেন সজল।

এরপর সজল যা করলেন তা আমাদের কাছে কল্পনাতীত। সমস্ত খরচ নিজে বহন করে নিজ উদ্যোগে প্রেমিক এবং স্ত্রীর রেজিস্ট্রি করানো সহ যাবতীয় সকল কিছুর পরিচালনা করেন সজল নিজেই।

এমন ব্যতিক্রমী ঘটনার ঘটনাস্থল ভারতের নদিয়ার নবদ্বীপের মাজদিয়া মাঠপাড়া। নিজ ভালোবাসা অন্য কাউকে সঁপে যখন সজল বাড়ি ফেরেন তখন তিনি শূন্য। তার সম্বল তখন পুরোনো কিছু ছবি আর তার হৃদয়ে থাকা মিঠুর স্মৃতি।

সেসব মনে পড়ে যাওয়াতেই কান্না আটকে রাখতে ব্যর্থ হন তিনি। ‘ভালোবাসা মানে তো কাউকে জোর করে ধরে রাখা নয় বরং সে যেন ভালো থাকে সেটা করতে দেওয়া। জোর করে তো আর ভালোবাসা পাওয়া যায় না। তাই ওকে আটকে রাখিনি। ও যাকে ভালবাসে তার কাছে ভাল থাকুক।’

ক্রন্দনরত অবস্থাতেই এসব বলেন তিনি। সজল আরো বলেন, ‘মিঠু এই চার বছরে কখনো আমাকে ভালোবাসতেই পারেনি। যা করেছিলো সবটাই ছিলো অভিনয়। এবার অন্তত সত্যিকার ভাবে কাউকে ভালোবেসে সংসার করুক এটাই ছিলো আমার চাওয়া।’

সত্যিকারের ভালোবাসা যে সত্যিই নিঃস্বার্থ হয় সজল দাস আবারো একবার তা প্রমাণ করে দিলেন।