সিংহাসনের লড়াইয়ের যুগেও স্টারবাকস!



সর্বকালের সবচেয়ে ব্যয়বহুল টেলিভিশন শো গেম অব থ্রোনস’র সমাপ্তি নিয়ে এ মুহূর্তে চলছে তুমুল সমালোচনা। তবে এসবকিছুকে ছাপিয়ে গেছে একটি ছোট ভুল। এজন্য দায়ী একটি ২ ডলারের স্টারবাক কফি কাপ।

এই শোর চতুর্থ পর্বে উইন্টারফেলের উদযাপন দৃশ্যে দর্শকরা হঠাৎ দেখতে পান একটি সাদা ও সবুজ রঙের কফি কাপ টেবিলে রাখা ডায়েনারিসের সামনে। সেটি মধ্য যুগের কোনো কাপ নয়, একেবারে এ সময়ের ডিসপোজেবল কফি কাপ।

যে দৃশ্যে এ ঘটনাটি ঘটে, সেটাও কোনো সাধারণ উদযাপনের দৃশ্য ছিল না; কাহিনীর খুবই গুরুত্বপূর্ণ একটি মুহূর্ত ডায়েনারিস টারগারয়েন তখন স্থির চোখে দেখছিল টোরমুড জন স্নোকে তামাশা করছে, যা থেকে ডায়েনারিসের এ উপলব্ধি হচ্ছে যে, আয়রনের থ্রোনের দাবিদার তার এ আত্মীয়টির জনপ্রিয়তাও তার জন্য কম হুমকি নয়, আর ঠিক তখনই দর্শক দেখতে পায় ডায়েনারিসের সামনে শোভা পাচ্ছে কাগজের মোড়কে স্টারবাকের একটি কফি কাপ।

স্টারবাকের প্রথম দোকান চালু হয়েছিল সিয়াটলের পাইক প্লেস মার্কেটে ১৯৭১ সালে, আর কাল্পনিক ওয়েস্টরসে থ্রোনসের গোড়াপত্তন ঘটে মধ্য যুগের কোনো সময়ে, এ সময়ের কফি পেতে ড্যানিকে উৎসবে যোগ দেয়ার আগে তার ড্রাগনের পিঠ থেকে নেমে গিয়ে নিশ্চয়ই রাস্তার ধারের কোনো স্টারবাক শপে ঢুঁ মারতে হয়েছে!

তবে অনেকেই কফি কাপটিকে স্টারবাকের বললেও খুব নজর করে দেখলে বোঝা যায়, পুরোপুরি স্টারবাকের কাপসদৃশ হলেও স্টারবাকের মারমেইড লোগোটি স্পষ্ট নয়। তবে কাপটি স্টারবাকের কি অন্য কপিশপের, এ প্রশ্নের চেয়েও বড় হয়ে দাঁড়িয়েছে সেটে কফি কাপটি এসেছে কার হাত ধরে? কে কফি খাচ্ছিল?

কফি কাপটি এমিলিয়া ক্লার্কের হাতের নাগালের মধ্যে রাখা, তার মানে অনায়াসেই বলা যায় কাপটি এ অভিনেত্রীর। এস্কোয়ার ম্যাগাজিনের অনুসন্ধানে বেরিয়ে এসেছে এমিলিয়া ক্লার্ক কফিতে আসক্ত। ইন স্টাইল ম্যাগাজিনে ২০১৭ সালে এক সাক্ষাত্কারে ক্লার্ক বলেছিলেন, সঠিক কফিটি চিনতে পারার মধ্য দিয়ে তার প্রাপ্তবয়স্ক হিসেবে উত্তরণ ঘটে। ‘কৈশোর থেকে তারুণ্যে প্রবেশের সময় কিছু উল্লেখযোগ্য মুহূর্ত আসে যখন তুমি নিজেকে আবিষ্কার করতে শুরু করো: কে তুমি, তুমি কী পছন্দ করো, তুমি কোন ধরনের কফি পছন্দ করো, কাদের সান্নিধ্য তোমাকে আনন্দিত করে…,’ বলেছিলেন ক্লার্ক।

কফি কাপ রয়ে যাওয়ার ঘটনায় এখন এ প্রশ্নটি সামনে চলে এসেছে, এ রকম ব্যয়বহুল এবং খুবই আধুনিক স্পেশাল ইফেক্টের সময় একটি টিভি সিরিজে কী করে এ রকম হাস্যকর ভুল ফিল্মিং ও পোস্ট প্রডাকশনে চোখ এড়িয়ে যায়!