গরমে কেন খাবেন আইস টি?



বাঙ্গালির প্রতিদিনের জীবনে ওতপ্রোতভাবে জড়িয়ে আছে চায়ের নাম। এই গরমেও অনেকেই চা ছাড়া এক দিন ভাবতে পারেন না। তবে সেক্ষেত্রে কিন্তু আইস টি বেছে নিতে পারেন। কারণ সারা দিন পর ক্লান্তি কাটাতে এক গ্লাস ঠাণ্ডা চা যেন সবচেয়ে বেশি জরুরি হয়ে পড়ে।

আইস টিয়ের কিন্তু বেশকিছু উপকারিতাও রয়েছে। আসুন জেনে নেই আইস টি’র উপকারিতা;

শরীরে সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন অ্যান্টি-অক্সিডেন্টের। শরীরের কোষ যেন ফ্রি রেডিক্যালসের প্রভাবে ক্ষতিগ্রস্ত না হয়, সেজন্য অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট গ্রহণ করতে হবে। আর চায়ে রয়েছে ১০ গুণ বেশি পলিফেনল অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট, যা ফল ও শাকসবজিতে পাওয়া যায়।

এই গরমে ডিহাইড্রেশন খুবই পরিচিত সমস্যা। তাই গ্রীষ্মকালে শরীরকে যতটা হাইড্রেটেড রাখা যায়, ততই ভালো। হার্ভার্ড স্কুল অব পাবলিক হেলথ ঠাণ্ডা চাকে পানির পরেই হাইড্রেশনের অন্যতম ভালো উৎস হিসেবে তালিকভুক্ত করেছে।

কোলার পরিবর্তে বেছে নিতে পারেন আইস টি। ১২ আউন্স কোলায় থাকে ৩৯ গ্রাম চিনি, যা বলতে গেলে প্রায় সাড়ে ৯ চামচ চিনি ও ১৪০ ক্যালরিতে পূর্ণ। অন্যদিকে ১২ আউন্স চিনি ছাড়া ঠাণ্ডা বা আইসড টিতে চিনির মাত্রা তো একেবারেই থাকে না, থাকে কেবল দুই ক্যালরি।

যারা প্রতিদিন অন্তত তিন কাপ চা পান করেন, তাদের হার্ট অ্যাটাকের আশঙ্কা হ্রাস পায় ২০ শতাংশ। অন্যদিকে স্ট্রোকের ঝুঁকিও কমে ৩৫ শতাংশ। তাছাড়া চা পানে কোলেস্টেরলের মাত্রাও হ্রাস পায়।

কয়েকটি গবেষণায় দেখা গেছে, চা পান করলে অকালে দাঁত পড়ে যাওয়ার আশঙ্কা হ্রাস পায়। চা আমাদের মুখের ভেতরের পিএইচ মাত্রা ঠিক রাখে, ফলে ক্যাভিটি হতে পারে না। পাশাপাশি কার্বোনেটেড বেভারেজ যেমন দাঁতের এনামেল নষ্ট করে, চা সেটা করে না।

বিভিন্ন গবেষণায় দেখা গেছে, চায়ের মধ্যকার এপিগ্যালোক্যাটেকাইন গ্যালেট নামক উপাদান নানা ধরনের ক্যান্সার প্রতিরোধে সহায়তা করে।

বিট্রিশ এক গবেষণায় দেখা গেছে, ঠাণ্ডা চা তাত্ক্ষণিকভাবে স্ট্রেস কমাতে সাহায্য করে। চা পানকারীদের মধ্যে জরিপ করে দেখা গেছে, যারা টানা ছয় সপ্তাহে দিনে চার কাপ কালো চা পান করেছেন, তাদের রক্তে কর্টিসল হরমোনের মাত্রা হ্রাস পেয়েছে।