লিপিস্টিক কথন



লিপিস্টিক ছাড়া নারীর সাজ অসম্পূর্ন। মূলত সাজের অনেকটাই লিপিস্টিকের উপর নির্ভর করে। সাজের শেষে লিপিস্টিক যেমন ভিন্ন মাত্রা যোগ করে তেমনি লিপিস্টিকের রঙের সাথে সাজের অসামাঞ্জস্যতা পুরো সাজটাই মাটি করে দিতে যথেষ্ট।

সেই প্রাচীন সিন্ধু সভ্যতা থেকে নারীরা ঠোটের সাজে লিপিস্টিক ব্যবহার করছে। প্রাচীন মিশরীয়রা সামুদ্রিক আগাছা থেকে আরোহিত পার্পল-লাল রং এর এক প্রকার পদার্থের সাথে ০.০১% আয়োডিন এবং কিছু ব্রোমিন মিশিয়ে এক ধরনের রঞ্জক পদার্থ ব্যবহার করতেন, যা লিপস্টিক হিসেবে প্রয়োগ করা হতো।

রানী ক্লিওপেট্রা তাঁর ঠোঁটে লিপস্টিক ব্যবহার করতেন যা তৈরি হতো মেরুন রংয়ের বিটল পোকা থেকে, এর ফলে ঠোঁটে একটি গাঢ় লাল আভা ফুটে উঠতো, এছাড়া বেজ দেওয়া জন্য ব্যবহৃত হতো পিপড়া। তবে এখন ঠোট রাঙ্গাতে নারীদের আর পোকামাকড়ের নির্যাস ব্যবহার করতে হয় না। লিপিস্টিকের যেমন রয়েছে ব্র্যান্ড, তেমনি রয়েছে রঙয়ের বিচিত্র।

মূলত লিপস্টিক হচ্ছে ফাউন্ডেশনের মতো। এটি ঠোঁটে তখনই মানিয়ে যায়, যখন এটি ত্বকের সঙ্গে মানানসই করা হয়। সেক্ষেত্রে প্রথমেই করতে হবে উপযুক্ত রঙ বাছাই। অনেক সময় শেড বুঝতে না পারার কারণেই লিপিস্টিক হয়ে পরে দৃষ্টিকটু।

ঠোঁটের প্রাকৃতিক রঙ অনুযায়ী লিপস্টিক বাছাই করুন। যাদের ঠোঁট সাদা, তারা পিচ বা চেরি রঙের লিপস্টিক পরুন। যাদের ঠোঁটে লালচে আভা রয়েছে তারা হট পিংক, কমলা বা ক্যানবেরি রঙের লিপস্টিক বাছাই করুন। কালচে ঠোঁটের জন্য ব্রিক রেড ও বারগান্ডি রঙের লিপস্টিক আদর্শ।

যারা নিয়মিত নুড লিপ কালার ব্যবহার করে অভ্যস্ত, তারা নিজেদের স্কিন টোনের চেয়ে একটু গাঢ় অথবা একটু হালকা টোনের নুড লিপ কালার বেছে নিন। ফরসা ত্বকের অধিকারীদের গোলাপি শেডের লিপস্টিক, হলদে ফরসাদের মেরুন, খয়েরি ও একটু তামাটে বা শ্যাম বর্ণের নারীদের স্যান্ডি বেজ লিপ কালারে ভালো মানায়।

নীল ও কালোভিত্তিক গাঢ় রঙগুলো মূলত অকেশনালি পরা হয়। এ রঙগুলো পরলে অবশ্য বয়স খানিকটা ভারি দেখায়। অনেক সময় বেমানানও লাগে।

এখনকার দিনে যদিও লিপ লাইনারকে খুব একটা প্রাধান্য দেয়া হয় না। লিপ লাইনার মূলত প্রয়োজন। অর্থাত্ লিপ লাইনার কেবল ব্যবহারকারীর সুবিধার জন্য। এই যেমন ঠোঁটের কিউপিড বোনকে স্পষ্ট করতে বা ঠোঁটের রেখা বাড়াতে চাইলে এর ব্যবহার করা যেতে পারে। তবে এমন লিপ পেন্সিল বা লাইনার ব্যবহার করুন, যা ঠোঁটের রঙের সঙ্গে মেলে, লিপস্টিকের রঙের সঙ্গে নয়। লিপ লাইনারের রেখা যেন স্পষ্ট না থাকে বা আঁকাবাঁকা লাইন ফুটে না ওঠে। ঠোঁট লাইন করার পর আঙুলের ডগা দিয়ে লাইনারের রঙ একটু স্ম্যাজ করে নিন। এরপর লিপস্টিক লাগানোর সময় ঠোঁটের মাঝখানে আগে পয়েন্ট করে লাগান। এরপর ব্রাশ দিয়ে ওপরের দিকে, নিচে ও কোনাগুলোয় ছড়িয়ে দিন। পুরো ঠোঁটেই লিপস্টিক ঘষে নিতে নেই।

মেরুন, খয়েরি, বেগুনির মতো গাঢ় শেডের ম্যাট লিপস্টিক লাগাতে চাইলে প্রথমে নিচের ঠোঁটের মাঝখানে লাগান। এবার দুই ঠোঁট চেপে নিয়ে আঙুল দিয়ে পুরো ঠোঁটে বুলিয়ে নিন। লিপস্টিক দীর্ঘস্থায়ী করতে সরাসরি ঠোঁটে লিপস্টিক লাগানোর পর দুই ঠোঁটের মাঝে টিস্যু রেখে চেপে নিন। এতে বাড়তি রঙ উঠে যাবে ও কালার বেজ তৈরি হবে। এরপর ওপরে আরো এক কোট লিপ কালার বুলিয়ে নিলেই হবে।

যাদের ঠোঁট পাতলা, তারা ভরাট দেখাতে ঠোঁটের বাইরের কর্নারে লিপস্টিকের গাঢ় শেড ও ঠোঁটের মাঝে হালকা শেড ব্যবহার করুন। এ সময় কিউপিড বোনে হাইলাইটার ব্যবহার করা যেতে পারে। নিচের ঠোঁটের মাঝের অংশেও হাইলাইটার দিতে পারেন। এক কোট লিপস্টিক লাগানোর পর ঠোঁটে অঙুল দিয়ে ট্যালকম পাউডার বুলিয়ে নিন। এরপর একই কায়দায় আবার আরেক কোট লিপস্টিক লাগিয়ে গ্লস পরে নিন। ব্যস, লাস্যময়ীর হাসি ধরে রাখতে সুন্দর ঠোঁট একদম তৈরি।