এবার ইউটিউবে পুলিশি নজরদারি



সম্প্রতি, নিউজিল্যান্ড ও শ্রীলঙ্কায় দুটি বড় সন্ত্রাসী হামলার পর থেকে সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যম  অনেকটাই বদলে গেছে। এবার শুরু হয়েছে ‘পুলিশিং’ বা কঠোর নজরদারি ব্যবস্থা।

এ ক্ষেত্রে ভিডিও শেয়ারিং প্ল্যাটফর্ম ইউটিউব কর্তৃপক্ষ নজরদারিতে রাখছে।

উল্লেখ্য, গত ১৫ মার্চ ক্রাইস্টচার্চে জুমার নামাজের সময় আল নুর ও লিনউড মসজিদে বন্দুক হামলা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ঘটনা সরাসরি সম্প্রচার করেন হামলাকারী। ঘ

টনা জানার পর থেকেই ওই ভিডিও সরিয়ে ফেলতে দ্রুত পদক্ষেপ নেন ইউটিউবের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা সুজান ওজসিসকি। কর্মী ছাড়াও তাদের মেশিন লার্নিং (এমএল) প্রযুক্তি কাজে লাগান তারা।

এ সময় বন্ধ করে দেওয়া হয় এ-সংক্রান্ত নতুন ভিডিও সার্চ। কিন্তু তারপরেও ইউটিউব তা নিয়ন্ত্রণ করতে পারেনি।

সেসময় সন্ত্রাসী হামলার ভিডিওটি সরাসরি সম্প্রচারের পর সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যমে ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়ে। এর মধ্যেই শ্রীলঙ্কায় সন্ত্রাসী হামলার ঘটনায় সাময়িকভাবে বন্ধ করে দেওয়া হয়েছিল ইউটিউবসহ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমগুলো।

এরপর থেকেই ভিডিও প্ল্যাটফর্মসহ এ ধরনের মাধ্যমগুলো নিয়ন্ত্রণসহ কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি উঠছে।

এসব সহিংস ভিডিও সম্প্রচার হওয়ার পর থেকে ইউটিউবে নানাভাবে আবার ফিরে এসেছে। ইউটিউবের প্রধান নির্বাহী ওজসিসকি নিজেও তা পর্যবেক্ষণ করেছেন।

এছাড়াও তিনি দেখেছেন, পুরোনো ভিডিও শনাক্ত করে মুছে ফেলতে না ফেলতে আরেকভাবে তা আবারো আপলোড হয়ে যায়।  এর সমাধান হিসেবে কত্ত্রিপক্ষ কঠোর ‘পুলিশিং’ ব্যবস্থা চালুর ঘোষণা দেয়।

এ ব্যাপারে, গুগলের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা সুন্দর পিচাই বলেছেন, ‘ইউটিউব জনপ্রিয়তার শীর্ষে আসা মানে এর দায়িত্ব বেড়ে যাওয়া। ভবিষ্যতে আরও পরিবর্তন আসবে ইউটিউবে।’

গত ২১ এপ্রিল শ্রীলঙ্কায় সন্ত্রাসী হামলার পর থেকে দেশটির সরকার অগ্রহণযোগ্য কনটেন্টের বিরুদ্ধে সরাসরি ব্যবস্থা নিচ্ছে। শ্রীলঙ্কার সরকার ভুয়া খবর ছড়ানো ঠেকাতে ইউটিউবসহ সব ধরনের সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যম বন্ধ করার ঘোষণা দেয়।

নিউজিল্যান্ডের ঘটনার পর অস্ট্রেলিয়া সরকার ঘৃণিত সহিংস উপাদান সরিয়ে নেওয়াসংক্রান্ত আইন পাস করেছে। যুক্তরাষ্ট্রেও সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যম নিয়ন্ত্রণ নিয়ে আলোচনা হচ্ছে।

তাই বলা যায়, বিশ্বজুড়ে সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যমে পুলিশিং আরও জোরদার হবে বলে আশা করা যাচ্ছে।