নারী চিকিৎসককে হত্যার হুমকি, গ্রেপ্তার ছাত্রলীগ নেতা ২ ঘণ্টায় জামিনে মুক্ত



সিলেটের উইমেন্স মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে কর্তব্যরত ইন্টার্ন নারী চিকিৎসককে প্রকাশ্যে ছুঁড়ি দেখিয়ে হত্যার হুমকি দাতা দক্ষিণ সুরমা উপজেলা ছাত্রলীগের সহ-সভাপতি সারোয়ার হোসেন গ্রেফতারের দুই ঘণ্টার মধ্যে মুক্তি পেয়েছেন।

জানা গেছে, কয়েকদিন আগে এক রোগীকে নিয়ে সিলেটের উইমেন্স মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে গিয়েছিলেন সারোয়ার হোসেন। এ সময় সেখানে কর্তব্যরত ইন্টার্ন চিকিৎসক রোগীর সঙ্গে একজনকে থাকতে বলে অন্যদের বাইরে যেতে বললে তাতে ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠেন সারোয়ার। কথা কাটাকাটির এক পর্যায়ে ছাত্রলীগ নেতা সারোয়ার ছুরি দেখিয়ে হত্যার হুমকি দেন বলে ওই চিকিৎসক অভিযোগ করেন।

এ ব্যাপারে, ওই চিকিৎসক ঘটনার বিবরণ সম্পর্কে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বিষয়টি আলোচনা শুরু হয়। চিৎকার করে সারোয়ারের গালিগালাজ ও হুমকি-ধামকি এবং তার মারমুখী আচরণের একটি ভিডিও সে সময় ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়ে।

এবং ওই ঘটনার পর থেকেই সারোয়ারকে গ্রেপ্তারের দাবিতে মানববন্ধন ও কর্মবিরতির মত কর্মসূচি পালন করে আসছিলেন ইন্টার্ন চিকিৎসকরা।

এর মধ্যে গত ১১ মে বিকালে উইমেন্স মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক (প্রশাসন)  ফেরদৌস হাসান কোতোয়ালি থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন।

এই ঘটনায় সোমবার রাতে সারোয়ারের নামে মামলা হওয়ার পর মঙ্গলবার তাকে দুপুরের দিকে  গ্রেপ্তার করার কথা জানান সিলেট কোতোয়ালি থানার ওসি সেলিম মিয়া।

কিন্তু বেলা ৩টার দিকে থানায় গিয়ে সারোয়ারের জামিনের কাগজ দেখিয়ে তাকে মুক্ত করে নিয়ে যান তার আইনজীবী।

এ বিষয়ে, ওসি সেলিম মিয়া বলেন, সোমবার রাতে মামলা হওয়ার পর সারোয়ার আজ আদালতে গিয়ে আত্মসমর্পণ করে জামিন পান। কিন্তু বিষয়টি আমাদের জানা ছিল না। আদালত থেকে ফেরার সময় আমরা তাকে গ্রেপ্তার করি।