উচ্চ চর্বিযুক্ত খাবার বিষন্নতার কারণ : গবেষণা



সম্প্রতি গবেষকদের করা এক প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে যে, যে সকল মানুষ উচ্চচর্বিযুক্ত খাবার গ্রহণ করেন অন্যান্য সকল মানুষদের থেকে তারা অধিক বিষণ্ণতায় ভোগেন।

যুক্তরাজ্যের ইউনিভার্সিটি অব গ্লাসগো ও যুক্তরাষ্ট্রের সান ফ্রান্সিসকোভিত্তিক গ্লাডস্টোন ইনস্টিটিউটের বিশেষজ্ঞরা গবেষণাগারে ইঁদুরের ওপর পরীক্ষা চালানোর মাধ্যমে  পাওয়া ফলাফল নিবন্ধ আকারে প্রকাশ করেছেন ট্রান্সলেশনাল সাইকিয়াট্রি জার্নালে।

গবেষকরা বিষন্নতার চিকিৎসায় রোগীদের সাধারণ কিছু অ্যান্টিডিপ্রেসেন্ট ওষুধ গ্রহণের পরামর্শ দেন। যদিও বা স্থূলকায় রোগীদের ক্ষেত্রে এসব ওষুধে কাজ হয় খুব সামান্যই। তাছাড়া এ গবেষণায় বিষন্নতার চিকিৎসায় এসব ওষুধের ব্যর্থতার কারণটি উঠে এসেছে।

গবেষকদের করা এই গবেষণার জন্য পরীক্ষাগারে পর্যবেক্ষণাধীন ইঁদুরগুলোকে উচ্চচর্বিযুক্ত খাবার দেয়া হয়। এসব খাবারের মোট উপাদানের ৬০ শতাংশই ছিল স্যাচুরেটেড ও আনস্যাচুরেটেড ফ্যাট।

এই গবেষণাটিতে বিশেষজ্ঞরা ইঁদুরের মস্তিষ্কে উচ্চচর্বিযুক্ত খাবার গ্রহণের কারণে ফ্যাটি অ্যাসিড জমা হওয়ার মাত্রা পর্যবেক্ষণ করেন। একই সঙ্গে যে ধরনের শারীরবৃত্তীয় পরিবর্তন মানসিক স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর যেগুলো ,তার ওপর এসব পদার্থের প্রভাবের মাত্রাও নির্ণয় করেন তারা।

এতে দেখা যায়, গবেষণাগারে ইঁদুরগুলোকে উচ্চচর্বিযুক্ত খাবার খাওয়ানোর পর থেকেই সেগুলোর মস্তিষ্কের হাইপোথ্যালামাস অংশে (মস্তিষ্কের গোড়ায় পিটুইটারি গ্লান্ডের কাছাকাছি একটি অঞ্চল। এটি দেহের তাপমাত্রা, দৈনন্দিন শারীরবৃত্তীয় চক্র, ক্ষুধা ও যৌন আচরণ এবং আবেগ নিয়ন্ত্রণের পাশাপাশি রক্তে কিছু হরমোন নিঃসরণ করে) পামিটিক অ্যাসিড নামে এক ধরনের স্যাচুরেটেড ফ্যাটি অ্যাসিডের প্রবাহ বেড়ে গেছে। মূলত অলিভ অয়েল, পনির, মাখন, মার্জারিন ও কিছু মাংসপণ্য পামিটিক অ্যাসিডের সবচেয়ে বড় উৎস।