প্রতিবছর বাংলাদেশে বিকল হচ্ছে প্রায় ৪০ হাজার কিডনি



সম্প্রতি একটি পরিসংখ্যান থেকে জানা যায় যে, বাংলাদেশে উদ্বেগজনক হারে বাড়ছে কিডনি রোগ। এছাড়াও, বেসরকারি একটি সংস্থার তথ্যমতে দেশে প্রতিবছর প্রায় ৪০ মানুষের কিডনি অকেজো হচ্ছে বলে উল্লেখ করা হয়।

দেশের শীর্ষস্থানীয় হাসপাতাল বারডেম গিয়ে দেখা যায়, সেখানেও কিডনি রোগীর অনেক ভিড়। সেখানে এক অসুস্থ তরুণীর স্বজনের সাথে কথা বলে জানা যায় যে, পাঁচ বছর বয়সে এই তরুণীর ডায়াবেটিস ধরা পড়েছিল। এখন ১০ বছর পর তার কিডনি বিকল হয়ে গেছে। এই অবস্থায় তারা চাঁদপুর জেলা শহর থেকে ঢাকায় বারডেমে এসেছেন।

তিনি আরও জানান যে, এখন ডায়ালাইসিস করাতে মাসে ৪০ হাজার টাকা প্রয়োজন। এই টাকা যোগাড় করা আমাদের মতো নিম্ন পরিবারের পক্ষে সম্ভব নয়। আমার স্বামীও পক্ষাঘাতগ্রস্ত হয়ে বিছানায় পড়ে আছেন। এখন কি করবো জানি না।

আরো জানা যায় যে, সরকারি হাসপাতালগুলোতে একবার ডায়ালাইসিস করাতে আড়াই হাজার টাকা থেকে সাড়ে তিন হাজার টাকা পর্যন্ত খরচ পড়ে।

তবে বেসরকারি হাসপাতালগুলোতে এই ব্যয় অনেক বেশি। এসব হাসপাতালে একবার ডায়ালাইসিস করাতে সাড়ে তিন হাজার টাকা থেকে আট হাজার টাকা পর্যন্ত ব্যয় হয়।

এ অবস্থায়, বারডেম হাসপাতালের কিডনি বিভাগের প্রধান অধ্যাপক সারোয়ার ইকবাল জানান রোগীদের পরিবারগুলোকে ব্যয় বহন করতে হিমশিম খেতে হয়।

তাছাড়া, শেষ পর্যায়ে কিডনি বিকল হওয়ার কারণে যত রোগীর ডায়ালাইসিস প্রয়োজন হয়, তার ৯০ ভাগ রোগীই এক বা দুইবার ডায়ালাইসিস করার পর আর এটা করাতে পারে না।

কারণ এর ব্যয় সামলাতে পারে না। ১০ ভাগের কম লোক এটার ব্যয় ভার বহন করতে পারে। এছাড়া কিডনি প্রতিস্থাপন করার ব্যয় কিছুটা কম হলেও এর ডোনার পাওয়া যায় না।

তবে এ ব্যাপারে, কিডনি ফাউন্ডেশনের প্রধান অধ্যাপক হারুন আর রশিদ বলছিলেন, ‘ব্যয়ের বিষয়টা যেমন আছে, তেমনি কিডনি রোগের শেষ অবস্থার রোগীদের জন্য দেশে ডায়ালিসিস বা কিডনি প্রতিস্থাপনের সুবিধাও এখনও সেভাবে গড়ে ওঠেনি।’

তিনি আরো জানান, ‘বছরে ৪০ হাজার রোগীর যে কিডনি বিকল হচ্ছে। তাদের সবার চিকিৎসা দিতে চাইলে মানসম্মত হাসপাতালের পাশাপাশি চিকিৎসার ব্যাপ্তিটা দরকার। এখন নিম্ন মধ্যম আয়ের দেশে নতুন ৪০ হাজার রোগীকে ডায়ালাইসিস সেবা দেয়া এবং প্রতিস্থাপন করা সম্ভব হয় না।’

কিডনি চিকিৎসার সুযোগ সুবিধা উল্লেখ করতে গিয়ে তিনি বলেন, ‘আমাদের যে সুযোগ সুবিধা আছে, তাতে আমরা ৪০ হাজার রোগীর মাত্র ২০ভাগকে ডায়ালাইসিস বা প্রতিস্থাপন করে দিতে পারি। তাতে ৮০ভাগ রোগীই চিকিৎসার অভাবে মৃত্যুবরণ করেন।’

তবে এই রোগের অন্যতম কারণগুলো হচ্ছে, নেফ্রাইটিস বা প্রস্রাবের প্রদাহ, ডায়াবেটিস, উচ্চরক্তচাপ বা অতিমাত্রায় ব্যাথানাশক ঔষধ প্রয়োগ করা এবং খাদ্যাভাস। বংশগত বিষয়ও এই রোগের একটা কারণ হতে পারে।

চিকিৎসকরা বলেছেন, যে সব রোগের কারণে কিডনি ক্ষতিগ্রস্থ হয়, সে সব রোগে আক্রান্তরা নিয়মিত কিডনি পরীক্ষা করান না। আর মানুষ এখনও সেভাবে সচেতন হয়ে উঠেনি বলেও উল্লেখ করেন তারা।