ফাইনালের ট্র্যাজিডি পেরিয়ে অবশেষে চ্যাম্পিয়ন!



তিনটি এশিয়া কাপ, তিনটি ত্রিদেশীয় সিরিজ – ছয়টি ফাইনালে খুব কাছ থেকে শিরোপা জিততে না পারার আক্ষেপ জানেন বাংলাদেশের ক্রিকেটাররা। কোনো কোনোটা খুব কাছে যেয়ে হারতে হয়েছিল।

এমন হারে আক্ষেপ জমায়, যেই আক্ষেপের পাহাড় শক্তি হয়ে লড়াই করার মানসিকতা যোগায়। বিশ্বকাপের আগে আয়ারল্যান্ডে ত্রিদেশীয় সিরিজে ফেভারিট ছিল বাংলাদেশই।

সেই ফেভারিট তকমা নিয়ে শতভাগ সাফল্য টাইগারদের। প্রতিটি ম্যাচেই জিতেছে দাপটের সাথে। টিম বাংলাদেশের সামনে দাঁড়াতে পারেনি কেউ। প্রতিপক্ষকে নিয়ে যেন রীতিমতো ছেলে খেলা করা বাংলাদেশ ফাইনালে মুখোমুখি হয়েছিল ওয়েস্ট ইন্ডিজের।

এই উইন্ডিজকে গ্রূপ পর্বে দুইবারই হারিয়েছিল বাংলাদেশ। তাই জয়ের সমূহ সম্ভাবনা নিয়ে ফাইনালে বাংলাদেশের চিন্তার নাম সাকিব আল হাসান। আয়ারল্যান্ডের বিপক্ষে ইনজুরিতে পড়ে ফাইনাল যে খেলা হচ্ছে না তার।

সাকিবকে ছাড়াই জিতেছে বাংলাদেশ। সৌম্য, মোসাদ্দেক, মুশফিকরা হার মানেননি।

বৃষ্টিবিঘ্নিত এই ম্যাচে বাংলাদেশের জিততে হলে করতে হতো ২৪ ওভারে ২১০ রান। রানের পাহাড়ে চড়তে গিয়ে ভড়কে যাননি ওরা। বরং ভয়কে জয় করে জিতেছে ৭ বল আগে, ৫ উইকেটে।

শুরু থেকেই ঝড় তোলা সৌম্য সরকারকে থামানো যাচ্ছিল না কিছুতেই। তামিম ১৬, সাব্বির ০ রানে আউট হলেও সৌম্য ছিলেন অপ্রতিরোধ্য। মুশফিককে সাথে এগিয়ে যেতে থাকেন জয়ের দিকে।

সৌম্য ৬৬ (৪১), মুশফিক ৩৬ (২২) এবং মিথুন ১৭ (১৪) রানে আউট হলে কিছুটা চাপে পড়ে। তবে স্বস্তি হিসেবে ক্রিজে ছিলেন মাহমুদুল্লাহ রিয়াদ। সাথে ছিলেন সাকিবের পরিবর্তে সুযোগ পাওয়া মোসাদ্দেক হোসেন।

সুযোগ পেলে কিভাবে কাজে লাগাতে হয়, মোসাদ্দেক যেন তার এক দৃষ্টান্ত রেখে গেলেন আজকের খেলায়। মাহমুদউল্লাহকে দর্শক করে ২২ বলে ৫২ রানের এক ক্যামিওতে বাংলাদেশকে জিতিয়ে মাঠ ছেড়েছেন। তার এই মারমূখী ইনিংসে ছিল ২টি চার ও ৫টি বিশাল ছয়।

২০ বলে অর্ধশতাক করে আব্দুর রাজ্জাকের ২১ বলে অর্ধশতকের রেকর্ড ভেঙে এখন একদিনের ক্রিকেটে দ্রুততম হাফ সেঞ্চুরির মালিক মোসাদ্দেক হোসেন সৈকত।

২২তম ওভারে ২ চার ও ২ ছয়ে ২২ রান নিয়ে ম্যাচ ওই ওভারেই বাংলাদেশের পক্ষে টেনে আনেন মোসাদ্দেক হোসেন।

এর আগে সাকিবকে ছাড়া শুরু করা বাংলাদেশকে শুরু থেকে চাপের মুখে রাখে দুই উইন্ডিজ ওপেনার শাই হোপ ও সুনীল আমব্রিজ।

কিছুতেই তাদের উদ্বোধনী জুটি ভাঙতে পারছিল মাশরাফি, মোস্তাফিজ, মিরাজরা। ২০.১ ওভারে উইন্ডিজ বিনা উইকেটে তোলে ১৩১ রান। এর পর বৃষ্টি বাঁধা দিলে খেলা নির্ধারিত হয় ২৪ ওভারে।

নির্ধারিত ২৪ ওভারে উইন্ডিজ সংগ্ৰহ করে ১৫২ রান। কিন্তু ডার্ক ওয়ার্থ লুইস ম্যাথডে বাংলাদেশের জন্য পরিবর্তিত লক্ষ্য দাঁড়ায় ২৪ ওভারে ২১০।

সৌম্য সরকার, মোসাদ্দেক হোসেন ও মুশফিকুর রহিমের ঝড়ো ব্যাটিংয়ে ২২.৫ ওভারেই জয় পায় বাংলাদেশ।

এটিই বাংলাদেশের দুইয়ের অধিক দল নিয়ে খেলা কোনো সিরিজের প্রথম শিরোপা। এই জয়ে আত্মবিশ্বাসে টইটুম্বুর বমাশরাফি বাহিনীর পরবর্তী লক্ষ্য ইংল্যান্ড। বিশ্বকাপ মিশনেও যে এবার সফল হতে হয়!