নির্বাচন নিয়ে তারুণ্যের ভাবনা



আসছে একাদশতম জাতীয় সংসদ নির্বাচন। নির্বাচন নিয়ে তরুণ ও যুব সমাজের ভাবনা তুলে ধরতে পেপারস লাইফের বিশেষ আয়োজন নির্বাচন নিয়ে তারুণ্যের ভাবনা।  এ পর্বে বাংলাদেশ ফার্মাসিস্ট ফোরামের সাধারণ সম্পাদক সাদেক আহমেদ সৈকত জানিয়েছেন নির্বাচন নিয়ে তার ভাবনা।

আমার ভোট আমি দিবো , যাকে খুশি তাকে দিবো না। দেখে শুনে বুঝে স্বাধীনতার পক্ষের শক্তি ও উন্নয়ন করা দলকে কে দিবো।

কারা সেই স্বাধীনতার পক্ষের শক্তি কারা সেই উন্নয়নের কারিগর।

বাংলাদেশ স্বাধীনতা পেয়েছে একটি দলের নেতৃত্বে । সেই দলটির নাম আওয়ামী লীগ। দলের প্রধান যে ছিলেন , তার নাম বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান।

আওয়ামী লীগের একটি বিশেষত্ব হচ্ছে – ১৯৫২, ১৯৬৯, ১৯৭১, ১৯৭৫ , ১৯৮১, ১৯৯০, ১৯৯৫, ২০০৪ ভাষা আন্দোলন, স্বাধীনতা যুদ্ধসহ দেশ উন্নয়ন পর্যন্ত রক্ত দিয়ে যুদ্ধ করছে।

আমি একটি ব্যপার কিছুতেই মানতে পারিনা। জাতির পিতার পরিবারের সদস্যদের কি এমন দোষ ছিলো , যে জন্য তার পরিবারের সবাইকে হত্যা করতে হলো।

আমি ৭ই মার্চ ১৯৭১ দেখিনি ,কিন্তু ৭ই মার্চের বঙ্গবন্ধুর ভাষণ শুনেছি। দেখেছি কিভাবে একটি ভাষণ একটি দেশ সৃষ্টি করতে পারে। বঙ্গবন্ধু তো শুধু বাংলাদেশের নেতা ছিলেন না। তিনি ছিলেন বিশ্ব নেতা। এটা কি তার অপরাধ?

তিনি মানুষের কথা ভাবতেন। তিনি মানুষের অধিকারের কথা ভাবতেন। এখন মনে হচ্ছে এভাবে দেশ মনুষের কথা ভাবলে মনে হয় খুন হতে হয়। মা বাবা বউ বাচ্চা আত্মীয় স্বজন কে হারাতে হয়। কতটা নির্মম ।

আমি যখনই ভাবি আমি আমার দেশের মানুষের অধিকারের কথা বললে বঙ্গবন্ধুর মতো আমার পরিবারের সদস্যদের হত্যা করা হবে। তখন ধিক্কার দিতে ইচ্ছে হয়। ঘৃণা হয় এই ভেবে আমার জাতির পিতাকে আমরাই খুন করেছি। জাতির পিতা জীবিত থাকলে অনেক জাতির পিতার উত্তরসূরি তৈরি হতো আরো আগে। দেশ গড়ার কারিগর তৈরি হতো। কিন্তু আমরা পিছিয়ে গিয়েছি অনেক বছর। আমাদের পিছিয়ে দেয়া হয়েছে বারবার।

আমি যখন লেখাটা লিখছি তখন কখন যেন চোখের দু ফোটা অশ্রু কলম ভিজিয়ে দিলো। কোনো ভাবেই মেনে নিতে পারছি না দেশের মানুষের কথা বলায় তাকে হত্যা হতে হলো। আমি এখনো লজ্জিতো হই যখন দেখি বঙ্গবন্ধুর ছবির সামনে চরিত্রহীন মানুষগুলো এখনো অপমান করছে।

ভাগ্যগুনে বেচে যাওয়া বঙ্গবন্ধুর দু কন্যা বঙ্গবন্ধুর স্বপ্ন বাস্তবায়নে যখন কাজ করছেন। সেখানেও তাদের হত্যার জন্য তারা নির্লিপ্ত ভাবে ঘুরে বেড়ায় দেশকে থমকে দেয়ার জন্য। যারা বঙ্গবন্ধুর আদর্শ বুকে ধারন করেছেন; তাদেরকেই সড়িয়ে দেয়া হয়েছে। আজ বঙ্গবন্ধুর আদর্শ ধারন করেছি বলে হয়তো আমাকেও বঙ্গবন্ধুর মতো খুন হতে হবে। মা বাবা ভাই বোন স্ত্রী সন্তানসহ আমার পরিবারের সকল সদস্যদের খুন করা হবে।

তবুও বঙ্গবন্ধুর স্বপ্ন বাস্তবায়নে বঙ্গবন্ধুর কন্যার সাথে সারথী হলাম। তাতে যদি বঙ্গবন্ধুর বিদেহী আত্মা একটু শান্তনা পায়। তরুন প্রজন্মের একজন হিসেবে এটুকুই হোক শান্তনা।