পছন্দের চরিত্র আমাকে কেউ দেয় না




মোহাই মেনুল ইসলাম নিয়ন

বর্তমান সময়ে টেলিভিশন জগতের জনপ্রিয় মুখ কাজী উজ্জ্বল। অভিনয়ের সবগুলো মাধ্যমে সফল পদচারণা রয়েছে এই অভিনেতার। তবে বেশিরভাগ সময় তাকে ছোট পর্দায় ছেলের বা মেয়ের বাবা বা মামা চরিত্রে অভিনয় করতে দেখা যায়। পেশাগত দিক থেকে কাজ করে গেলেও এখন পর্যন্ত নাকি নিজ পছন্দের চরিত্রে অভিনয়ের সুযোগ পাননি এই অভিনেতা। সুস্ময় সুমন পরিচালিত একটি একক নাটকের শুটিং এর ফাঁকে এক সাক্ষাতকারে উঠে আসে কাজী উজ্জলের এরকম আরও অজানা কথা।

পেপার’স লাইফ:  কেমন আছেন?

কাজী উজ্জ্বল: খুব একটা ভালো নেই। চিকুনগুনিয়া জ্বরে ভুগছি। সমস্ত শরীর জুড়ে ব্যথা করছে। এর ভয়াবহতা এতোই কঠিন যে আমি আশা করবো অতি বড় কোন শত্রুরও যেন আল্লাহ তা’লা এই রোগ না দেন।

পেপার’স লাইফ: বর্তমানে কি নিয়ে ব্যস্ততা যাচ্ছে?

কাজী উজ্জ্বল: সবকিছুর একটা চেইঞ্জ আসছে। একটা সময় ছিল আমরা ছোট বেলা থেকে দেখেছি বাবা চরিত্রগুলো হাসান ইমাম, আবুল হায়াতসহ সিনিয়র অভিনেতারা করতেন। পরবর্তীতেঁ আস্তে আস্তে একটা সময়ে দেখা গেল ইয়াং জেনারেশন এই যেমন ধরুন আজ জোভান, তউসিফ, এলেন শুভ্র, টয়া, মিথিলা এদের একটা নতুন স্পেফিক বাবা চরিত্রের দরকার ছিল। ওদের সাথে আমার ক্যামিস্ট্রিটা সবসময়ের জন্য ভালো। এই জেনারেশনের সবারই বাবা আমি। বাবা, মামা প্রাইভেট ইউনিভারসিটির টিচার।

পেপার’স লাইফ: আপনি কি এই ধরনের চরিত্রেই স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করেন?

কাজী উজ্জ্বল: না, সবচাইতে স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করি যে চরিত্রে সেটা আমাকে কেউ দেয় না। কারণ আমার চেহারার মধ্যে একটা ইনোসেন্ট নাকি ভাব আছে। আমি সবচাইতে পছন্দ করি ক্রিমিনাল বা নেতিবাচক ক্যারেক্টার। যেটা আমার ইনোসেন্ট চেহারার কারণে আমি পাচ্ছি না।

পেপার’স লাইফ: ঈদের নাটক নিয়ে কিছু বলুন। এবারের ঈদে সিরিয়াস নাটকগুলোই দর্শক বেশী পছন্দ করেছে। আগে তো কমেডি নাটকগুলো পছন্দের তালিকায় ছিল দর্শকদের।

কাজী উজ্জ্বল: ঈদের নাটকের ব্যপারটা হচ্ছে মানুষ এখন টিভি নয়, ইউটিউবে নাটক দেখে। বেসিক্যালি সত্যি কথা হচ্ছে একটা সময়ে যখন বিটিভি ছিল তখন চিঠি লিখতাম গ্রামে আজকে কিন্তু আমার নাটক যাবে বিটিভিতে। বন্ধুবান্ধব, আত্মীয়স্বজনদের কাছে প্রচুর চিঠি লিখতাম। এখন তো সেই সময়টা নেই। এখন হচ্ছে ফেইসবুকের আপডেট। টাইমশিডিউল সব এই ফেইসবুকেই হয়। আর ঈদের সময়গুলোতে মানুষ একটু আনন্দ পেতে চায়, হাঁসতে চায়। তাই কমেডি নাটকগুলোর ডিমান্ড বেশী থাকে। এর ভিতরেই কিছু এক্সেপশোনাল নাটক থাকে, যেগুলো দেখার পরে মানুষকে একটু ভাবায়। সমাজের কিছু কিছু ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র বিষয়গুলোকে নাটকে তুলে ধরা হয়। যা মানুষকে আপ্লুত করে।

পেপার’স লাইফ: পত্রপত্রিকাগুলোতে দেখা গিয়েছে এবারের ঈদে আগের তুলনায় দর্শক বাংলা নাটক বেশী দেখেছে। অর্থাৎ টিভি নাটকে দর্শক সংখ্যা বাড়ছে। তাহলে কি আমাদের ইন্ডাস্ট্রি চেইঞ্জ হতে শুরু করেছে?

কাজী উজ্জ্বল: দেখুন, এটা আমার মতে সম্পূর্ণ আপেক্ষিক একটা বিষয়। আসলে চেইঞ্জ হচ্ছে না। আমি আগেও বলেছি এখনো বলছি সবার আগে আমাদের নীতির পরিবর্তন হওয়া দরকার। যেমন, একটা নাটক বানিয়ে আমাকে বিজ্ঞাপনদাতার দিকে তাকিয়ে থাকতে হবে কেন? এটা আমার সৃজনশীলতা। আমার জীবনযৌবন সব আমি এই নাটকের পিছনে ঢেলে দিয়েছি। বিজ্ঞাপনদাতা আমার নাটকের উপর ১২ লাখ টাকা বিনিয়োগ করে আমার সৃজনশীলতার উপর খবরদারি করছে। আমার ক্রিয়েটিভিটাকে কিনতে চায়। বিজ্ঞাপন এজেন্সিগুলো আমাকে বলে দিচ্ছে অমুক আর্টিস্ট নেন। আমার নাটকে যদি একটা ল্যাংড়া মফিজ লাগে তাহলে আমি তাকে নিয়েই কাজ করবো। কিন্তু তারা (বিজ্ঞাপন এজেন্সি) বলছে না ল্যাংড়া মফিজ না, আমার পছন্দের একজনকে নিতে হবে। পুরো ইন্ডাস্ট্রিতেই এই সিন্ডিকেট অবস্থা চলছে।

পেপার’স লাইফ: এই অবস্থা পরিবর্তনে আপনার মতামত কি?

কাজী উজ্জ্বল: এটা হচ্ছে কারণ তাদের (বিজ্ঞাপন এজেন্সি) হাতে বিজ্ঞাপন, তাদের হাতে পয়সা। আসলে আমাদের দেশে সিস্টেম নাই। সিস্টেমটা হওয়া উচিত পে চ্যানেল। একটা নাটক আমি বানালাম, ১০ লক্ষ ভিউয়ার্স যদি ৫০ পয়সা করেও দেয় তাতে পাঁচ লক্ষ টাকা পাবে। ঐ চ্যানেল পাঁচ লক্ষ টাকা পাবার জন্য ৭০ মিনিটের নাটকে ২২০ মিনিট বিজ্ঞাপন দেখায়। আমি বিজ্ঞাপনের বিরুদ্ধে নই। বিজ্ঞাপন দেখাবে। কিন্তু তার তো একটা সীমাবদ্ধতা রয়েছে। কেন এই দেশে এখনো পে চ্যানেলটা হচ্ছে না! বছরে ১২০০ কোটি টাকা ডিস চ্যানেল কর্তৃপক্ষ নিয়ে যাচ্ছে। এটি কার কাজে আসে? নির্মাতা, অভিনেতা কারোরই কিন্তু কাজে আসে না। বিজ্ঞাপন এজেন্সিগুলো এখানে কর্পোরেট অফিসের মত খবরদারি করছে আর দেশের শিল্পসাহিত্য, সৃজনশীলতাকে গলা টিপে হত্যা করছে। পে চ্যানেল ছাড়া এই অবস্থার পরিবর্তন কোনভাবেই সম্ভব নয়।

পেপার’স লাইফ: পেপার’স লাইফকে আপনার মূল্যবান সময় দেয়ার জন্য অসংখ্য ধন্যবাদ।

কাজী উজ্জ্বল: আপনাকেও ধন্যবাদ।