দিনাজপুরে সবচেয়ে বড় ঈদ জামাত


eid


এবার ঈদ-উল ফিতরে দেশের সবচেয়ে বড় ঈদ জামাতটি দিনাজপুরে অনুষ্ঠিত হয়েছে বলে দাবি করা হচ্ছে। আয়োজকদের দাবি, দিনাজপুর জেলার ঐতিহাসিক গোর-এ শহীদ বড় ময়দানে ঈদ-উল ফিতরের ঈদের জামাতে এবার প্রায় ৬ লাখ মুসল্লি এক সাথে নামাজ আদায় করেছেন।

সংসদ সদস্য ইকবালুর রহিম জানান, বুধবার অনুষ্ঠিত ঈদ-উল ফিতরের জামাতে ৬ লক্ষাধিক লোকের সমাগম ঘটেছে।

ঐতিহাসিক গোর-এ শহীদ বড় ময়দানে বুধবার (০৫ জুন) সকাল ৮টা ৪০ মিনিটে এই বিশাল ঈদ জামাতটি অনুষ্ঠিত হয়। নামাজের ইমামতি করেন দিনাজপুর জেনারেল হাসপাতাল জামে মসজিদের ইমাম মাওলানা শামসুল আলম কাশেমী।

ইকবালুর রহিম ছাড়াও বৃহৎ এই ঈদের জামাতে বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি এম. এনায়েতুর রহিম, জেলা প্রশাসক মাহমুদুল আলম, পুলিশ সুপার সৈয়দ আবু সায়েমসহ সর্বস্তরের মুসল্লিরা অংশ নেন।

দিনাজপুর ছাড়াও বগুড়া, নীলফামারী, ঠাকুরগাঁও এবং পঞ্চগড় জেলাসহ আশে-পাশের জেলার মুসল্লিরাও এখানে নামাজ আদায় করতে আসেন। বৃহৎ এই জামাতে নামাজ আদায় করতে পেরে খুশি আশেপাশের ও দূর-দূরান্ত থেকে আগত মুসল্লিরা।

যে কোন ধরনের নাশকতা ঠেকাতে কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়। বসানো হয় ওয়াচ টাওয়ার। র‌্যাব, পুলিশ, আনসারসহ সব ধরনের আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী ঈদগাহের নিরাপত্তায় মোতায়েন ছিল। একই সঙ্গে গোয়েন্দা নজরদারিসহ সিসি ক্যামেরাও স্থাপন করা হয়।

প্রায় ২২ একরের বিশাল এই মাঠে যেন গত বছরের তুলনায় আরও বেশি মানুষ নামাজ আদায় করতে পারে সেজন্য গত কয়েকদিন ধরেই মাঠ প্রস্তুত করার কাজ সম্পন্ন করা হয়।

জানা গেছে, ৫২ গম্বুজের ঈদগাহ মিনার তৈরিতে খরচ হয়েছে ৩ কোটি ৮০ লাখ টাকা। শোলাকিয়ার চেয়ে বড় জামাতের আয়োজন করতে এই উদ্যোগ।

প্রসঙ্গত, ঈদগাহ মাঠের মিনারের প্রথম গম্বুজ অর্থাৎ মেহেরাব (যেখানে ইমাম দাঁড়ান) এর উচ্চতা ৪৭ ফিট। এর সঙ্গে রয়েছে আরও ৪৯টি গম্বুজ। এছাড়া ৫১৬ ফিট লম্বায় ৩২টি আর্চ নির্মাণ করা হয়েছে। পুরো মিনার সিরামিক্স দিয়ে নির্মাণ করা হয়েছে। ঈদগাহ মিনারের পেছনে করা হয়েছে অজুর ব্যবস্থা। প্রতিটি গম্বুজ ও মিনারে রয়েছে বৈদ্যুতিক লাইটিং। ফলে রাতে ঈদগাহ মিনার আলোকিত হয়ে উঠে।