বেঁচে থাকতে কেন এত অনিহা?


বেঁচে থাকতে কেন এত অনিহা?


পৃথিবী জুড়ে মেঘের কালো ঘনঘটা। আকাশ জুড়ে বিশাল কালো এক ছায়া। সেই ছায়ায় হারিয়ে যাচ্ছে স্বপ্ন, হারিয়ে যাচ্ছে বেঁচে থাকার ইচ্ছে। আর এভাবেই এক এক করে ঝড়ে যাচ্ছে বেঁচে থাকার আশা দেখনো সেই সব মানুষজন।

সুশান্ত সিং রাজপুত আত্মহত্যা করেছেন। হারিয়ে গেছেন কালের গহ্বরে। আর ফিরবেন না। আর হাসাবেন না। নিজের অমুল্য প্রতিভায় বিস্মিত করবেন না আর। সে যে হারিয়ে গেছেন কোনো এক অজানায়।

তিন বছর আগে লিংকিং পার্কের গায়ক ও প্রধান গীতিকার চেস্টার বেনিংটন নিজেকে নিঃশেষ করে দেন। কিন্তু কেন? তরুণ প্রজন্মের হাতে থাকা স্মার্ট ফোনের মিউজিক প্লে লিস্টের প্রধানই তো ছিলো লিংকিং পার্ক এর গান।

তাও তিনি সুখি ছিলেন না? এতগুলো মানুষের আনন্দের উপলক্ষ্য তৈরি করেও তিনি ছিলেন অসুখি। আর তাই তো তিনিও হারিয়ে গেছেন।

রবিন উইলিয়ামস ছিলেন বিশ্ববিখ্যাত একজন কৌতুক অভিনেতা। সারাটা জীবন মানুষকে হাসি-আনন্দের মধ্যে রেখেছেন। কিন্তু নিজে কি সুখী ছিলেন? নাহ! তিনিও এক ব্যর্থ জীবনের অংশ ছিলেন। করেছিলেন আত্মহত্যা।

প্রতিবেশী দেশ ভারতের বিখ্যাত কৌতুক শো ‘মিরাক্কেল’-এর উপস্থাপক মীর আফসার আলীকে কে না চেনে? স্টেজে মীর মানেই যেন এক পশলা হাসির উপকরণ। মীরের কৌতুক, অভিনয়ে হাসেননি এমন কাউকে পাওয়া যাবে কি?

হাজার হাজার মানুষের মুখে হাসি ফোটানো সেই মীর আফসার আলীও আত্মহত্যার চেষ্টা করেছিলেন। একবার দুইবার নয়, চার-চারবার আত্মহত্যার প্রচেষ্টা চালিয়েছেন তিনি।

এখন খবরের কাগজ খুললেই আত্মহত্যার খবর। অনলাইন নিউজ পোর্টালে আত্মহত্যার ছড়াছড়ি। আজ এ আত্মহত্যা করছে তো কাল ও।

পছন্দের জামাকাপড় কিনে দেওয়া হয়নি বলে মায়ের সাথে অভিমান। গলায় ফাঁস দিয়ে ঝুলে পড়ে তরুণী। পরিখার ফলাফল মন মতো হয়নি বলে বাসায় বকা খেয়ে বিষ খায় অদূর ভবিষ্যতে দেশের সম্ভাবনার দুয়ার খুলে দেওয়া ছেলেটি।

এগুলো তো এখন নিত্যদিনের ঘটনা। কিন্তু কেন? কেন এভাবে নিজেকে শেষ করে দেওয়া? কেন হারিয়ে যাওয়া, পালিয়ে যাওয়া? মুখ লুকিয়ে কেন এভাবেই বেঁচে থাকার প্রতি অনিহা!

জীবন তো একটাই। এই এক জীবনে লড়াই করতে হয়। বেঁচে থাকতে হয়। নিজের জীবনের শেষ বিন্দু দিয়ে ভালো থাকার চেষ্টা করতে হয়। এই হতাশার জীবনে এক টুকরো আলো খুঁজে পাওয়ার চেষ্টা করতে হয়।

অথচ বর্তমান সময়ে যেন বেঁচে থাকার চেয়ে মরে যাওয়াই সহজ! কিন্তু এ করোনাকালে প্রকৃতি দেখছে বেঁচে থাকার জন্য মানুষের আকুতি। দেখছে, প্রাণ খুলে নিঃশ্বাস নেওয়ার জন্য হাঁসফাঁস করছে সারা বিশ্বের লাখ লাখ মানুষ।

পারছে কোথায়? ক্ষুদ্র এক অণুজীবের কাছে জিম্মি এ মানবজাতি লড়াই করছে। বেঁচে থাকার লড়াই, অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখার লড়াই। এই লড়াইয়ে জিততে হবে। হার মানলে চলবে না। হারিয়ে গেলে চলবে না।

তবুও বেঁচে থাকা অর্থহীন মনে করা সেই সব মানুষদের কাছে হারতে হচ্ছে। তাদের কাছে যে বেঁচে থাকার চেয়ে মরে যাওয়াই স্বস্তির। পালিয়ে বেঁচে যাওয়া শান্তির।

যে লড়াইয়ে আজ গোটা বিশ্বের সকল মানুষ এক হয়ে যুদ্ধ ঘোষণা করেছে, সেই যুদ্ধে হারতে হচ্ছে বেঁচে থাকার চেয়ে মৃত্যুকে আপন করে নেওয়া সেইসব মানুষের কাছে?

আজ হাসপাতালে হাসপাতালে মানুষ ঘুরছে বেঁচে থাকার নেশায়। তবুও আত্মহত্যা কেড়ে নিচ্ছে জীবনের সব কিছু, সব স্বপ্নগুলো ধুলিস্যাৎ করে হাওয়া হয়ে যাচ্ছে নিমিষেই। হারিয়ে যাচ্ছে সব মৃত্যুর আলিঙ্গনে!

সাকিব আহমেদ
এম. ফার্ম. 
ইউনিভার্সিটি অব ডেভেলপমেন্ট অল্টারনেটিভ