সময়ের কাছেই হয় জীবনের উপলব্ধি


সময়ের কাছেই হয় জীবনের উপলব্ধি


অতীত বর্তমান ভবিষ্যৎ তিনটি সময় আমাদের জীবনের সাথে মিশে আছে। বলা যায়, আমরা যে যেখানেই বসবাস করিনা কেনো এই সময় গুলোকে নিয়েই আমাদের চলতে হবে। প্রজন্মের পর প্রজন্ম আসবে কিন্তু এই শব্দ তিনটি বদলাবেনা। আমরা অনেক সময় সামনে ছুটতে ছুটতে যখন পিছন ফিরে তাকাই, তখন একটা সময় আমাদের অতীত গুলো সামনে ভাসে কিন্তু এই অতীত গুলো স্বীকার করে নেয়ার সৎ সাহস অনেক সময় থাকেনা। কিন্তু সামনে এগিয়ে যেতে নিজেদের অতীত নামক অধ্যায় টা যারা গ্রহণ করে নেয় যা ছিলো তা শুধুই অতীত, হোক তা খারাপ বা ভালো জীবনে এগিয়ে যেতে সুবিধা হয়।

‘অতীতকে ভুলে যাও, অতীতের দুশ্চিন্তার ভার অতীতকেই নিতে হবে’ – ড. আসলার।

অনেকে ভেবেই বসে থাকে অতীত মানে কালো অধ্যায় কিন্তু ব্যাপারটাকে যদি একটু ঘুরিয়ে বলা যায় যে, অতীত মানে আপনার ভবিষ্যৎ সুন্দর সময় যে সময় টা আসলে আপনার জীবনে প্রাপ্য ছিলো।

নিজে থেকে উপলব্ধি করতে শিখতে হবে খারাপ সময় প্রতিটা মানুষের জীবনে আসবে,‌ আবার চলেও যায়। কিন্তু আমাদের বুঝতে হবে কোনটা নিয়ে আমরা পড়ে থাকব। সামনে এগিয়ে যাওয়ার জন্য অতীত কে মেনে নেয়া হচ্ছে সবচেয়ে বুদ্ধিমানের কাজ। কারণ সে যতই খারাপ হোক, চলে গিয়েছে সেইটা ভেবে ভেবে মন খারাপের কিংবা নিজেদের ভবিষ্যৎ নষ্ট করার কোনও যুক্তি নেই। হোক সেইটা পরীক্ষার রেজাল্ট, সম্পর্ক,নেশা কিংবা জীবনে ঘটে যাওয়া খারাপ কোনও সময়। 

কারণ আমরা কেউ মায়ের পেট থেকে পড়েই ম্যাচুরিটি নিয়ে জন্মাই না। ভুল হতেই পারে। মানুষ তো তাই ভুলকে ভুল বলে স্বীকার করে নিন আত্মবিশ্বাসী হয়ে যান। সামনে এগিয়ে যাওয়ার জন্য সেখানে অনেক বাধা আসবে। অনেক সময় অতীতটাও আসবে। কিন্তু ইগ্নর করতে শিখুন। কারণ যেভাবেই হোক আপনাকে সামনে এগিয়ে যেতে হবে।

জীবন কখনো কোনোকিছুর জন্য থেমে থাকেনা। আজকে যদি নিজের সমস্যা গুলোর মুখোমুখি না হতে পারেন, তাহলে কালও পারবেননা যেইটা করতে হবে আজই করতে হবে। মাথা ঠাণ্ডা করে ভাবতে হবে কেউ আপনাকে ব্ল্যাকমেইল করছে, খারাপ কথা বলছে! বলুক, কারো খারাপ কথায় নিজেকে পিছিয়ে রাখলে কি চলবে?

কারণ যে আপনাকে খারাপ বলছে, খোঁজ নিয়ে দেখুন সে হয়তোবা তার নিজের জীবন নিয়ে সুখি না। এইজন্য আপনার পিছনে পড়ে আছে। সুযোগটা কোনও না কোনও ভাবে আপনিও দিচ্ছেন। কারণ আপনি তো ভেবেই নিয়েছেন আপনি দুর্বল। কিন্তু কেনো এই দুর্বলতা? একবার কি ভাবছেন, এই দুর্বলতা যার দ্বারা আপনি আক্রান্ত তার মজার খোরাক হচ্ছেন? আপনি কি এখনো তার বা তাদের ভাবনাতেই চলছেননা?

চেষ্টা করুন চুপ হয়ে যাওয়ার, প্রতিবাদ পরে করবেন, আগে চুপ হয়ে যেতে শিখুন। তার মানে এই না যে সবসময়ই চুপ থাকবেন। যেখানে বলার শুধু সেখানে বলুন নিজেকে একটু একটু করে গুছিয়ে নিতে শিখুন। কারো ভাবনাতে চলার অভ্যাস টা ত্যাগ করুন।

কারণ আরেকজনের ভাবনায় নাতো আপনার রেজাল্ট আসবে না, আসবে সম্পর্ক। প্রতিযোগিতাটা নিজেই নিজের সাথে তৈরি করুন। যেখানে উইনার ও আপনি আর হেরে গেলে লুজারও  আপনি। কিন্তু লুজার হয়ে যাওয়া মানেই কিন্তু আপনার হেরে যাওয়া নাহ। মনে করুন আপনার সামনে এগিয়ে যাওয়ার আরেক ধাপ।

আপনি এগোলেন, দেখবেন এভাবে একটা সময় আপনি ঠিকই জিতে গিয়েছেন। আপনার ম্যাচুরিটি লেভেল অন্য জায়গায় চলে যাবে। পিছন ফিরে তাকালে তখন এই সময় গুলোকে ভাবলে আপনার ইম্যাচুরিটির হাস্যজ্জ্বল স্মৃতি ছাড়া কিছুই মনে হবেনা। হাসি পাবে ভেবে কতো বোকামি করেছেন। আর তাকিয়ে দেখুন যারা চেয়েছিলো আপনি পিছনে পড়ে থাকেন, আজও তারা পিছেই পড়ে আছে!

যেখানে জীবন যুদ্ধে আপনি অনেক এগিয়ে, সেখানে তারা আজ আপনি নাহয় কাল আরেকজনের পিছে পড়ে থাকবে। হিংসায় লিপ্ত হয়ে আছে এইটাই হয়তোবা তাদের কাজ। আমরা নিজ নিজ কর্ম নিয়ে যাবো। তাই তাদেরকে তাদেরটা নিয়ে যেতে দিন আপনি আপনার টা নিয়ে যান।

তাই নিজে নিজেকে বুঝতে শিখুন। নিজের ভুল গুলো গ্রহণ করতে শিখুন। আর অতীতকে ধন্যবাদ দিতে শিখুন। আজ এইটার জন্য আপনি এগিয়ে গিয়েছেন।

কারণ খারাপ কথা বলে মানুষকে টেনে হিঁচড়ে পিছনে নিয়ে যাওয়া অনেক সহজ, কিন্তু কাউকে আত্মবিশ্বাসী করে সামনে এগিয়ে যেতে বলা মানুষের এই সমাজে বড্ড অভাব।

তাই ভয় করে নয় জয় করে চলতে হবে। নিজেদের অতীতকে ধন্যবাদ দিতে শিখুন। সর্বোপরি ভালোবাসতে শিখুন নিজেকে, নিজের সবসময়কে। বদলে ফেলতে শিখুন নিজের মন মানসিকতা। সেখানে তাদের পরিবর্তন হোক, না হোক আপনার তো হচ্ছে!

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ভাষায় বলতে হয়,
‘অতীতকাল যত বড় কালই হ’ক নিজের সম্বন্ধে বর্তমান কালের একটা স্পর্ধা থাকা উচিত। মনে থাকা উচিত তার মধ্যে জয় করবার শক্তি আছে।’

লেখিকা : ফয়জুন নেছা তিথি
ফার্মাসিস্ট, এম ফার্ম
ইউনিভার্সিটি অব ডেভেলপমেন্ট অল্টারনেটিভ