ক্রসফায়ারে প্রদীপ ব্যক্তিগত অস্ত্রে আরাম পেতেন, নিজে গুলি করেন ২০-৩০ বার




ক্রসফায়ারে প্রদীপ সরকারি অস্ত্র তেমন নিতেন না তার ব্যক্তিগত ওয়াল্টার ব্যবহার করতেন। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের গঠিত তদন্ত কমিটিকে এ তথ্য জানিয়েছেন টেকনাফ থানার সাবেক এই ওসি।

প্রদীপ তদন্ত কমিটিকে বলেন, ‘আমার সাড়ে সাত লাখ টাকা দামের একটি ওয়াল্টার পিস্তল আছে। আমার কাছে যেটা আরামদায়ক মনে হয়, আমি সেটা ব্যবহার করি। তাছাড়া সরকারি কাজে ব্যক্তিগত অস্ত্র ব্যবহার করা যায়।’

মেজর (অব.) সিনহা মো. রাশেদ খান হত্যার ঘটনা তদন্তে গঠিত স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কমিটির জানতে চেয়েছিলেন, আপনার সময়কালে ১০৬টি বন্দুকযুদ্ধের ঘটনায় ১৭৪ ব্যক্তি নিহত হয়েছেন। এগুলোতে কি আপনি সরাসরি নেতৃত্ব দিয়েছিলেন. প্রদীপ বলেছেন, বেশির ভাগই তাঁর নেতৃত্বে হয়েছে।

কমিটি জানতে চেয়েছিল, আপনি কতবার নিজে গুলি করেছেন, কী অস্ত্র দিয়ে গুলি করেছেন? জবাবে প্রদীপ বলেছেন, তিনি ২০-৩০ বার গুলি করেছেন, ব্যক্তিগত অস্ত্র দিয়ে।

তদন্ত কমিটির প্রধান চট্টগ্রামের অতিরিক্ত বিভাগীয় কমিশনার (উন্নয়ন) মোহাম্মদ মিজানুর রহমান গত সোমবার দুপুরে সচিবালয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খানের কাছে এই প্রতিবেদন জমা দেন।

কমিটি প্রদীপকে ব্যক্তিগত অস্ত্রের গুলির হিসেব কীভাবে রাখতেন জানতে চাইলে, প্রদীপ বলেন, জিডি করে নিজের পিস্তলের গুলির হিসাব রাখতেন।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রণালয়ে কমিটির আরও কিছু প্রশ্নের উত্তরে প্রদীপ যা বলেন; ইন্সপেক্টর লিয়াকত আপনার বিচারে কেমন পুলিশ অফিসার?

ওসি প্রদীপ: ‘মধ্যমানের অফিসার। লিয়াকত ঘোড়া ডিঙিয়ে ঘাস খায়। সে আমাকে না জানিয়ে এসপিকে ফোন দেয়।’

প্রদীপের কাছে কমিটি জানতে চায়, আপনি কি সামনে থেকে নেতৃত্ব দেন, নাকি অধীনস্থদের পেছনে থাকেন?

ওসি প্রদীপ: ‘আমি সামনে থেকেই পরিচালনা করি।’

সামরিক বাহিনীর দুই কর্মকর্তাকে ‘স্যার’ বলতে অসম্মতি জানিয়েছিলেন, এটা কি সত্যি?

ওসি প্রদীপ: ‘আমি বলেছিলাম, আপনাকে স্যার বলতে হবে সেটা কোথায় লেখা আছে? এটা বলা ঠিক ছিল না। এ জন্য আমি অনুতপ্ত।’

টেকনাফের লায়লা বেগমের বাড়ি নিয়ে আলোচনা হচ্ছে, সেটা নাকি আপনার জলসাঘর? কেউ বলছেন বিকল্প থানা। সে ব্যাপারে আপনি কী জানেন?

ওসি প্রদীপ: ‘আমি কখনো সেখানে যাইনি।’