‘শিশু থেকে বৃদ্ধ সর্বোপরি রোহিঙ্গাদের দেখামাত্রই গুলির নির্দেশ ছিলো’


‘শিশু থেকে বৃদ্ধ সর্বোপরি রোহিঙ্গাদের দেখামাত্রই গুলির নির্দেশ ছিলো’


মিয়ানমারের সেনাসদস্যদের নির্দেশ দেয়া হয়েছিলো শিশু থেকে বৃদ্ধ সর্বোপরি রোহিঙ্গাদের দেখামাত্রই গুলি করার। এমনকি রাখাইন রাজ্যে অভিযানের সময় শব্দ পেলেও গুলির নির্দেশ ছিলো।

মঙ্গলবার মার্কিন গণমাধ্যম দ্য নিউইয়র্ক টাইমস একটি বিস্তারিত প্রতিবেদন বলা হয়েছে, রাখাইনে রোহিঙ্গা গণহত্যা মামলায় মিয়ানমারের দুই সেনাসদস্য এমন স্বীকারোক্তিতে গণহত্যার আর নির্যাতনে ভয়াবহতার বর্ণনা পাওয়া যায়।

নিউইয়র্ক টাইমস এর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মিও উইন তুন ও জো নাইং তুন নামের দুই সেনাসদস্য এমন স্বীকারোক্তি দিয়েছেন।

মিয়ানমারের সেনাসদস্য জো নাইং তুন বলেন, তাঁর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার নির্দেশনা ছিল: ‘শিশু বা প্রাপ্তবয়স্ক-যাকেই দেখবে, মেরে ফেলবে।’ যদিও পত্রিকাটি বলছে, নিরপেক্ষ কোনো সূত্র থেকে এই স্বীকারোক্তির সত্যতা তার নিশ্চিত হতে পারেনি।

গত মাসে ওই দুই সেনাসদস্য মিয়ানমার থেকে পালান। এরপর গতকাল সোমবার তাঁদের নেদারল্যান্ডসের দ্য হেগে নেওয়া হয়। এই শহরেই জাতিসংঘের আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত (আইসিসি) অবস্থিত। দুই সেনাসদস্যকে গ্রেপ্তার দেখানো না হলেও তাঁদের এই আদালতের হেফাজতে রাখা হয়েছে।

মিয়ানমারের সাবেক ওই দুই সেনাসদস্য স্বীকার করেছেন, রোহিঙ্গা গণহত্যা, হত্যার পর গণকবর দেওয়া, রোহিঙ্গা গ্রামগুলোয় ধ্বংসযজ্ঞ চালানো এবং ধর্ষণের যেসব অভিযোগ মিয়ানমার সেনাবাহিনীর বিরুদ্ধে উঠেছে, তার সবই সত্য।

স্বীকারোক্তির ভিডিওচিত্রে মিও উইন তুন বলেছেন, ২০১৭ সালের আগস্ট মাসে রাখাইনের একটি রোহিঙ্গা গ্রামে তিনি অভিযানে গিয়েছিলেন। ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার নির্দেশ ছিল, ‘যা দেখবে, যা শুনবে সবকিছুতেই গুলি কর।’