করোনায় আক্রান্ত হয়ে অভিনেতা সাদেক বাচ্চুর মৃত্যু


সাদেক বাচ্চু


করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুবরণ করেছেন বর্ষীয়ান অভিনেতা সাদেক বাচ্চু। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৬৫ বছর।

আজ সোমবার দুপুর ১২টা ৫ মিনিটে রাজধানীর ইউনিভার্সেল মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে শেষনিশ্বাস ত্যাগ করেছেন তিনি।

অভিনেতার পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, ৬ সেপ্টেম্বর হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়লে অভিনেতা সাদেক বাচ্চুকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। করোনার উপসর্গ থাকায় চিকিৎসকদের পরামর্শে কোভিড-১৯ পরীক্ষার জন্য তাঁর নমুনা সংগ্রহ করা হয়। গত শুক্রবার পরীক্ষার ফল হাতে পেয়েছেন তাঁরা। এতে দেখা যায় সাদেক বাচ্চু কোভিড-১৯ পজিটিভ।

পরবর্তীতে আইসিইউ সাপোর্ট সহজভাবে নিশ্চিত করার জন্য পারিবারিক সিদ্ধান্তে অভিনেতা সাদেক বাচ্চুকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল থেকে মহাখালীর ইউনিভার্সেল মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে বিগত দুই দিন কৃত্রিম শ্বাসপ্রশ্বাস দেওয়া হয়। কিন্তু সবচেষ্টা ব্যর্থ করে তিনি চলে যান না-ফেরার দেশে।

পাঁচ দশকের ক্যারিয়ারে মঞ্চ, বেতার, টেলিভিশন ও সিনেমায় ছিল তাঁর পদচারণ। নব্বইয়ের দশকে পরিচালক এহতেশামের ‘চাঁদনী’ ছবিতে অভিনয় করে পরিচিতি পান তিনি। রেডিও বা টেলিভিশনের আগে তিনি অভিনয় শুরু করেন মঞ্চে। তাঁর নাট্যদলের নাম মতিঝিল থিয়েটার। মৃত্যুর আগ পর্যন্ত তিনি দলটির সভাপতি ছিলেন।

তাঁর অভিনীত নাটকের সংখ্যা হাজারের বেশি। প্রথম অভিনীত সিনেমা শহীদুল আমিন পরিচালিত ‘রামের সুমতি’।

সাদেক বাচ্চুর পৈত্রিক নিবাস বাংলাদেশের চাঁদপুর জেলায়। তবে তিনি ঢাকায় জন্মগ্রহণ করেন। তার বাবা ছিলেন ডাক বিভাগের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা। মাধ্যমিক স্কুল সার্টিফিকেট পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হওয়ার তিন মাস পর তার বাবা মৃত্যুবরণ করেন। বাবার মৃত্যুর পর ১৫ বছর বয়সে ডাক বিভাগের চাকরিতে যোগদান করেন।

ব্যাক্তিগত জীবনে তিনি শাহনাজ জাহানের সাথে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ। তিনি দুই কন্যা ও এক পুত্র সন্তানের জনক।