খিচুড়ি রান্না শিখতে বিদেশে যাওয়া হচ্ছে না সরকারি কর্মকর্তাদের


খিচুড়ি রান্না


খিচুড়ি রান্না শিখতে বিদেশে যাওয়া হচ্ছে না সরকারি কর্মকর্তাদের। বেশ কয়েকদিনের আলোচনা সমালোচনার পর অবশেষে বিদেশে ভ্রমণের এই পরিকল্পনা বাতিল করেছে পরিকল্পনা কমিশন।

প্রথমবারের মতো শতভাগ সরকারের টাকায় দেশের সব সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের জন্য শিক্ষার্থীদের জন্য দুপুরে রান্নাকরা খাবার বিতরণের লক্ষ্যে সম্প্রতি পরিকল্পনা কমিশনে উন্নয়ন প্রকল্প প্রস্তাবনা (ডিপিপি) জমা দেওয়া হয়। প্রকল্প প্রস্তাবনায় বিদেশে প্রশিক্ষণে অর্থ বরাদ্দের বিষয়টি নিয়ে সমালোচনা শুরু হয়। তবে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় সমালোচনাকে প্রোপাগান্ডা হিসেবে আখ্যায়িত করেছে। অবশেষে বিদেশে ভ্রমণের এই পরিকল্পনা বাতিল করেছে পরিকল্পনা কমিশন।

এর আগে প্রকল্পটি নিয়ে গণমাধ্যমে খবর প্রকাশিত হয়। প্রতিবেদনে বলা হয়, খিচুড়ি রান্না শিখতে বিদেশে যাওয়ার জন্য ৫ কোটি টাকা বরাদ্দ চাওয়া হয়েছে।

গণমাধ্যমে এই খবর প্রকাশের প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী মো. জাকির হোসেন বলেন, ‘এটি নিউজ নয়, প্রোপাগান্ডা। যারা প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করবে তাদের প্রশিক্ষণের প্রয়োজন আছে? তাই কিছু বরাদ্দ রেখে প্রস্তাব করা হয়েছে।’

বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে তাৎক্ষণিক ব্রিফিংয়ে বলেন, ‘হৈ চৈ করার মতো কিছু হয়নি। বিএনপি-জামায়াতের লোকজন সাংবাদিকতা পেশা নিয়ে এখানে চলে এসেছেন।’

এই প্রস্তাবের পক্ষে যুক্তি তুলে ধরে বলেন, “যে কোন ক্ষেত্রে শিক্ষা এবং প্রশিক্ষণের গুরুত্ব আছে”।

খিচুড়ি বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে যেসব সংবাদের জের ধরে সেজন্য সাংবাদিকদের সমালোচনা করেন তিনি। একই সাথে বিএনপিকেও তিনি সমালোচনার কাঠগড়ায় দাঁড় করান।

সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, “আমরা মিডডে মিলের ভালো দিক শেখার জন্য, বিদেশে তাদের ম্যানেজমেন্টটা জানার জন্য, শেখার জন্য, কিভাবে করছে—এই জন্য হয়তো সামান্য কিছু টাকা ডিপিপিতে ধরা আছে।”

খিচুড়ি বিতর্ক ইস্যুতে আরেকটি সমালোচনা ছিল প্রস্তাবিত কর্মকর্তার সংখ্যা নিয়ে। যেসব গণমাধ্যমের খবরের সূত্র ধরে বিতর্ক হচ্ছে গত কয়েকদিন ধরে সেখানেই এই কর্মকর্তাদের সংখ্যা উল্লেখ করা হয় এক হাজার।

কিন্তু এই তথ্য ভুল উল্লেখ করে জাকির হোসেন বলেন, প্রাথমিক প্রস্তাবে প্রশিক্ষণের জন্য ৫০০ কর্মকর্তাকে পাঠানোর কথা বলা হয়েছিল।

এখানে এই সংখ্যা নির্ধারণের ব্যাখ্যায় প্রতিমন্ত্রী বলেন, “আমাদের থানার সংখ্যা ৫০৯, এখন যেহেতু থানা শিক্ষা কর্মকর্তাকে পাঠানোর কথা ভাবা হয়েছিল, তখন ৫০০ কর্মকর্তাকে পাঠানোর কথা ভাবা হয়েছিল। কিন্তু এরপর পরিকল্পনা কমিশন সেটা সংশোধন করে দুইটি টিম বা দলে পাঠাতে বলেছে।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, “এখন দুই টিমে কতজন যাবে সেটা ঠিক হয় নাই, পাঁচজন পাঁচজন দশজন হতে পারে, আবার এগারো এগারো ২২ জনও হতে পারে।”