জয় দিয়ে শুরু ইতালির চ্যাম্পিয়নের, ড্র করেছে স্প্যানিশ চ্যাম্পিয়ন


জয় দিয়ে শুরু ইতালির চ্যাম্পিয়নের, ড্র করেছে স্প্যানিশ চ্যাম্পিয়ন


করোনাভাইরাসের মধ্যেই শুরু হয়েছে ফুটবলের নতুন মৌসুম, লড়াইয়ে্র প্রথম ম্যাচেই হোঁচট খেয়েছে স্প্যানিশ চ্যাম্পিয়ন রিয়াল মাদ্রিদ। অন্যদিকে জয় দিয়েই মৌসুম শুরু করেছে ইতালির চ্যাম্পিয়ন জুভেন্টাস।

ঘরের মাঠে রোববার রাতে সেরি আ’তে নিজেদের প্রথম ম্যাচে ৩-০ গোলে জিতেছে তুরিনের ক্লাবটি। জুভেন্টতাসে জার্সিতে অভিষেকটা রাঙাতে একেবারেই দেরি করলেন না ২০ বছর বয়সী তরুণ দেইয়ান কুলুসেভসকি।

ম্যাচের ত্রয়োদশ মিনিটে ডি-বক্সে রোনালদো বল হারালে পেয়ে যান তরুণ সুইডিশ এ মিডফিল্ডার, প্রথম ছোঁয়ায় বাঁ পায়ের দারুণ শটে দূরের পোস্ট দিয়ে ঠিকানা খুঁজে নেন তিনি।

ভাগ্য সহায় থাকলে ২৪তম মিনিটে ব্যবধান দ্বিগুণ হতে পারতো; রোনালদোর জোরালো শট ক্রসবারে বাধা পায়। ১০ মিনিট পর আবারও হতাশ করেন পর্তুগিজ ফরোয়ার্ড। অ্যারন র‌্যামজির শট প্রতিপক্ষের পায়ে প্রতিহত হয়ে বল যায় তার পায়ে, এবারও শট লক্ষ্যে রাখতে পারেননি তিনি।

দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতে জানলুকা ফ্রাবোত্তার জোরালো শট ঝাঁপিয়ে ঠেকান সাম্পদোরিয়া গোলরক্ষক। ৫৮তম মিনিটে আবারও ব্যর্থ রোনালদো; আট গজ দূর থেকে তার বাঁ পায়ের শট ক্রসবারের ওপর দিয়ে যায়।

৭৮তম মিনিটে দ্বিতীয় গোলের দেখা পায় জুভেন্টাস। কর্নারে তাদের প্রথম প্রচেষ্টা গোলরক্ষকের বুকে প্রতিহত হওয়ার পর খুব কাছ থেকে জালে বল ঠেলে দেন বোনুচ্চি।

পাঁচ মিনিট পর ভয়চেখ স্ট্যাসনির নৈপুণ্যে জাল অক্ষত থাকে জুভেন্টাসের। আলবিন একদালের হেড দারুণ ক্ষিপ্রতায় ঠেকান পোলিশ এই গোলরক্ষক।

৮৮তম মিনিটে অবশেষে গোলের দেখা পান রোনালদো। র‌্যামজির পাস ডি-বক্সে ডান দিকে পেয়ে কোনাকুনি শটে স্কোরলাইন ৩-০ করেন পাঁচবারের বর্ষসেরা ফুটবলার। বল দূরের পোস্টে লেগে জালে জড়ায়।

অন্যদিকে রিয়াল সোসিয়েদাদের মাঠে পয়েন্ট হারিয়েছে জিনেদিন জিদানের দল। লা লিগায় রোববার গোলশূন্য ড্র হয়েছে রিয়াল ও সোসিয়েদাদের ম্যাচ। ২০০২ সালের পর এই প্রথম দল দুটির লড়াইয়ে কোনো গোল হলো না।

জিতলে কোচ হিসেবে লা লিগায় জয়ের সেঞ্চুরি হতো জিদানের। উপলক্ষ রাঙাতে পারেননি স্প্যানিশ চ্যাম্পিয়ন। জমাট রক্ষণ ভাঙার সৃষ্টিশীলতা ছিল না তাদের খেলায়। খুব বেশি সুযোগ তৈরি করতে পারেননি তারা।

গতবার কোপা দেল রের কোয়ার্টার-ফাইনাল থেকে রিয়ালকে বিদায় করে দেওয়া সোসিয়েদাদ শুরু থেকে ছিল রক্ষণাত্মক। নিজেদের অর্ধে এক রকম গুটিয়ে ছিল দলটি।

রদ্রিগো-ভিনিসিউস-মার্টিন ওডেগার্ডরা ভাঙতে পারেননি জমাট রক্ষণ। গতি আর পায়ের কারিকুরিতে বাঁ দিকে ভীতি ছড়ান ভিনিসিউস, কিন্তু ফাইনাল পাস দিতে পারেননি তিনিও।

পঞ্চদশ মিনিটে ডি-বক্সের বাইরে থেকে গোলরক্ষক বরাবর শট নিয়ে সুযোগ নষ্ট করেন করিম বেনজেমা। প্রথমার্ধে ছয় কর্নারের একটি থেকে গোলের আশা জাগিয়েছিল রিয়াল। ৩৪তম মিনিটে সের্হিও রামোসের বুলেট গতির ভলি সোসিয়েদাদের একজনের গায়ে লেগে বাইরে চলে যায়।

খেলার ধারার বিপরীতে ৪২তম মিনিটে প্রতি-আক্রমণে প্রায় এগিয়েই যাচ্ছিল সোসিয়েদাদ। খুব কাছ থেকে আলেকজান্ডার ইশাকের শট এগিয়ে এসে পা বাড়িয়ে ব্যর্থ করে দেন থিবো কোর্তোয়া। এটাই ছিল প্রথমার্ধের সেরা সুযোগ।

দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতে প্রথম সুযোগটা পায় সোসিয়েদাদ। ৪৭তম মিনিটে পোর্তোর চিপ পাসে আন্দের বাররেনেটিয়ার ভলি একটুর জন্য লক্ষ্যে থাকেনি।

এরপর অবশ্য আবার খোলসে ঢুকে যায় সোসিয়েদাদ। একের পর এক আক্রমণ করা রিয়াল ভুগছিল রক্ষণ ভাঙতে। ৬২তম মিনিটে ডি-বক্সের বাইরে থেকে আচমকা শটে চেষ্টা করেন বেনজেমা, কিন্তু গোলরক্ষককে ফাঁকি দিতে পারেননি তিনি।

৭৮তম মিনিটে প্রতি আক্রমণ থেকে দারুণ একটা সুযোগ আসে রিয়ালের সামনে। নিজেদের অর্ধ থেকে টনি ক্রুসের উঁচু করে বাড়ানো বল ধরে এগিয়ে যান বেনজেমা। নিজে শট না নিয়ে বাড়ান সুবিধাজনক জায়গায় থাকা মার্ভিন পার্ককে, অভিষিক্ত এই তরুণ তালগোল পাকিয়ে হতাশ করেন দলকে।

এরপর তেমন সুযোগ তৈরি করতে পারেনি কোনো দলই। ফলে এক পয়েন্ট নিয়েই সন্তুষ্ট থাকতে হয় চ্যাম্পিয়ন রিয়াল মাদ্রিদকে।