চাঁদপুর: তরুণদের মাদকাসক্তি প্রতিরোধে খেলাধুলার বিকল্প নেই উল্লেখ করে পাঠ্যক্রমে খেলাধুলা অন্তর্ভুক্তির কথা জানিয়েছেন শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন। শুক্রবার, ৩০ অক্টোবর চাঁদপুরের কচুয়া সরকারি পাইলট উচ্চবিদ্যালয় প্রাঙ্গণে তিনি এ কথা বলেন।
কচুয়া উপজেলা ও পৌর বিএনপি আয়োজিত ‘ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন ফুটবল টুর্নামেন্ট ২০২৬’-এর ফাইনাল ম্যাচ শেষে প্রধান অতিথির বক্তব্য দেন শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন। তিনি জানান, দেশের সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় পর্যায়ে ইতিমধ্যে ফুটবল প্রতিযোগিতা সফলভাবে সম্পন্ন করা হয়েছে এবং শিগগিরই দেশব্যাপী প্রাইম মিনিস্টার্স গোল্ডকাপ টুর্নামেন্ট শুরু করা হবে।
শিক্ষামন্ত্রী বলেন, নিয়মিত ক্রীড়াচর্চা নতুন প্রজন্মকে মাদকাসক্তি ও অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড থেকে দূরে রাখতে সহায়তা করে। পাশাপাশি বিদ্যালয় পর্যায় থেকে নিয়মিত খেলাধুলার সুযোগ পেলে শিক্ষার্থীরা ভবিষ্যতে জাতীয় ও আন্তর্জাতিক ক্রীড়াঙ্গনে পেশাদার খেলোয়াড় হিসেবে নিজেদের প্রতিষ্ঠিত করার সুযোগ পাবে।
দেশের শিক্ষাব্যবস্থা ও শিক্ষার্থীদের উন্নয়ন নিশ্চিত করতে শারীরিক ও মানসিক বিকাশের ওপর জোর দিচ্ছে শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়। এর অংশ হিসেবে মাঠপর্যায়ের প্রতিটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে বার্ষিক ক্রীড়া প্রতিযোগিতা ও নিয়মিত অনুশীলন আয়োজনের জন্য সংশ্লিষ্ট শিক্ষা কর্মকর্তাদের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন জানান, চলতি বছরের মধ্যেই দেশের সব শিক্ষার্থীর হাতে নতুন শিক্ষাবর্ষের পাঠ্যবই তুলে দেওয়ার প্রস্তুতি সম্পন্ন করা হচ্ছে। নিয়মিত পাঠ্যপুস্তকের পাশাপাশি এবার শিক্ষার্থীদের সৃজনশীল বিকাশের জন্য ‘লার্নিং উইথ হ্যাপিনেস’, ‘আমার কারিগরি শিক্ষা’, ‘বাংলাদেশের সংস্কৃতি’ এবং ‘খেলাধুলা’ শীর্ষক বিশেষ বিষয়ভিত্তিক বই বিতরণ করা হচ্ছে।
ফুটবল ও মাঠের খেলার পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের জীবনরক্ষাকারী দক্ষতা হিসেবে সাঁতার শেখানোর উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। আগামী দিনে সারা দেশের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে সাঁতার প্রতিযোগিতা আয়োজনের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের সাঁতার শেখার প্রতি উৎসাহিত করা হবে বলে জানান শিক্ষামন্ত্রী।
ফাইনাল খেলা ও পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য ও বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী মহিলা দলের কেন্দ্রীয় সহসভাপতি নাজমুন নাহার বেবি। এ সময় কচুয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা অমিত রায়, কচুয়া সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার আব্দুল হাই চৌধুরী এবং কচুয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আজিজুল ইসলামসহ উপজেলা ও পৌর বিএনপির নেতারা উপস্থিত ছিলেন।
কচুয়া সরকারি পাইলট উচ্চবিদ্যালয় মাঠের ওই অনুষ্ঠানে স্থানীয় শিক্ষক, অভিভাবক ও বিপুলসংখ্যক শিক্ষার্থী উপস্থিত ছিলেন। শিক্ষামন্ত্রী তাঁর বক্তব্যে প্রতিটি বিদ্যালয়ে খেলার মাঠ সংরক্ষণ এবং নিয়মিত শরীরচর্চা ও ক্রীড়া প্রতিযোগিতা আয়োজনের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের মেধা ও মননের সুষম বিকাশ নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
সূত্র: বাসস

