এক ঘণ্টা বাড়তি সুযোগ: শপিংমল ও দোকানপাট বন্ধের নতুন সময়সীমা


এক ঘণ্টা বাড়তি সুযোগ: শপিংমল ও দোকানপাট বন্ধের নতুন সময়সীমা

দেশজুড়ে জ্বালানি সাশ্রয়ে দোকানপাট ও শপিংমল বন্ধের সিদ্ধান্তে কিছুটা নমনীয় হয়েছে সরকার। পূর্বনির্ধারিত সন্ধ্যা ছয়টার পরিবর্তে এখন থেকে রাত সাতটা পর্যন্ত খোলা রাখা যাবে সব ধরনের বিপণিবিতান।

রোববার সচিবালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত এই সময় পরিবর্তনের ঘোষণা দেন।


সিদ্ধান্তে বদল: ব্যবসায়ী ও সাধারণ মানুষের স্বস্তি

মধ্যপ্রাচ্যের অস্থিরতা এবং বৈশ্বিক জ্বালানি সংকটের প্রেক্ষাপটে সরকার দেশের অভ্যন্তরীণ বিদ্যুৎ সাশ্রয়ে কঠোর অবস্থান নিয়েছিল। এরই অংশ হিসেবে আজ থেকে সারা দেশে সন্ধ্যা ছয়টার মধ্যে সব ব্যবসা প্রতিষ্ঠান বন্ধের নির্দেশনা কার্যকর হওয়ার কথা ছিল। তবে ব্যবসায়ী সম্প্রদায়ের অনুরোধ এবং সাধারণ ক্রেতাদের দুর্ভোগের কথা বিবেচনা করে সরকার এক ঘণ্টা সময় বাড়ানোর এই নতুন সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে।

প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত সাংবাদিকদের জানান, সরকার পরিস্থিতির ওপর নিবিড়ভাবে নজর রাখছে। তিনি বলেন, “আমরা জানি ব্যবসায়ীদের জন্য সন্ধ্যা ছয়টা বেশ আগে হয়ে যায়। বিশেষ করে অফিসফেরত মানুষ কেনাকাটার সুযোগ পান না। সামগ্রিক অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড সচল রাখা এবং বিদ্যুৎ সাশ্রয়ের মধ্যে একটি ভারসাম্য বজায় রাখতেই আমরা এক ঘণ্টা সময় বাড়িয়ে সাতটা করেছি।”

সংকটের প্রেক্ষাপট ও সরকারি কৌশল

রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের রেশ কাটতে না কাটতেই মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে যুদ্ধ ছড়িয়ে পড়ায় বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের সরবরাহ ব্যবস্থা ভেঙে পড়ার উপক্রম হয়েছে। আমদানিনির্ভর দেশ হিসেবে বাংলাদেশকেও এই ধাক্কা সামলাতে হচ্ছে হিমশিম। সরকারের লক্ষ্য হচ্ছে পিক আওয়ারে (সন্ধ্যা থেকে রাত) বিদ্যুতের চাহিদা কমিয়ে আনা, যাতে লোডশেডিংয়ের মাত্রা নিয়ন্ত্রণে রাখা যায়।

বিশ্লেষকদের মতে, এক ঘণ্টা সময় বাড়ানোয় ব্যবসায়ীদের বড় ধরনের লোকসান এড়ানো সম্ভব হবে। তবে সরকারি এই নির্দেশনার কঠোর বাস্তবায়ন নিশ্চিত করা না গেলে বিদ্যুৎ সাশ্রয়ের মূল উদ্দেশ্য ব্যাহত হতে পারে। জেলা প্রশাসন এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে যাতে রাত সাতটার পর কোনোভাবেই অপ্রয়োজনীয় আলোকসজ্জা বা দোকান খোলা না থাকে।


আজকের ঘোষণার মূল পয়েন্টগুলো:

  • নতুন সময়সীমা: সারা দেশের সব দোকানপাট, বিপণিবিতান ও শপিংমল এখন থেকে রাত সাতটা পর্যন্ত খোলা থাকবে।

  • কার্যকারিতা: বর্ধিত এই সময়সীমা আজ (রোববার) থেকেই কার্যকর বলে গণ্য হবে।

  • ব্যতিক্রম: ওষুধের দোকান (ফার্মাসি), হাসপাতাল এবং জরুরি সেবামূলক প্রতিষ্ঠান এই নির্দেশনার আওতামুক্ত থাকবে।

  • পর্যবেক্ষণ: আগামী দুই সপ্তাহ এই পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করা হবে। যদি বিদ্যুতের চাহিদা নিয়ন্ত্রণে না আসে, তবে সরকার পুনরায় কঠোর সিদ্ধান্তে ফিরে যেতে পারে।


সরকারের এই সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানালেও ক্ষুদ্র ও মাঝারি ব্যবসায়ীরা বলছেন, রাত আটটা পর্যন্ত সময় দিলে তাঁদের জন্য আরও সুবিধা হতো। তবে জাতীয় স্বার্থে এবং বিদ্যুৎ সংকট মোকাবিলায় সরকারের এই ‘মিডল গ্রাউন্ড’ বা মাঝামাঝি অবস্থানকে ইতিবাচক হিসেবেই দেখছেন অর্থনীতিবিদরা।

বিদ্যুৎ প্রতিমন্ত্রী হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, “আমরা সুযোগ দিচ্ছি, কিন্তু অপচয় রোধে কোনো আপস করা হবে না।” সাতটার পর শপিংমলগুলো বন্ধ হলেও রাস্তাঘাটে বা বড় ভবনে যাতে বিদ্যুতের অপচয় না হয়, সেদিকে কড়া নজরদারি রাখা হবে।