দেশের অটোমোবাইল বাজারে সাশ্রয়ী যাতায়াতের নতুন দিগন্ত উন্মোচন করল ওমোডা ৯ মডেলের প্লাগ-ইন হাইব্রিড ইলেকট্রিক ভেহিকেল (পিএইচইভি)। সম্প্রতি এক রেঞ্জ টেস্টে মাত্র একবারের পূর্ণ চার্জ এবং ৬৫ লিটার জ্বালানিতে ১,২৫৫ কিলোমিটার পথ পাড়ি দিয়ে তাক লাগিয়ে দিয়েছে এই গাড়িটি, যেখানে প্রতি কিলোমিটারে ব্যয় মাত্র ৬ টাকা।
যাতায়াত খরচে বৈপ্লবিক পরিবর্তন
পরিবহন খরচ যখন সাধারণ মানুষের কপালে চিন্তার ভাঁজ ফেলছে, ঠিক তখনই স্বস্তির বার্তা নিয়ে এলো ওমোডা ৯। দীর্ঘপথ পাড়ি দেওয়ার সক্ষমতা এবং অবিশ্বাস্য জ্বালানি সাশ্রয়—এই দুইয়ের মিশেলে ওমোডা ৯ এখন আলোচনার তুঙ্গে। সম্প্রতি পরিচালিত একটি বৈজ্ঞানিক রেঞ্জ টেস্টে দেখা গেছে, গাড়িটি তার ৬৫ লিটারের ফুয়েল ট্যাংক এবং শক্তিশালী ইলেকট্রিক ব্যাটারির সমন্বয়ে পাড়ি দিয়েছে ১,২৫৫ কিলোমিটার। অর্থাৎ, ঢাকা থেকে চট্টগ্রাম গিয়ে ফিরে আসা এবং আরও কয়েকশ কিলোমিটার পথ পাড়ি দেওয়ার সক্ষমতা রাখে এই এসইউভি।
বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে হাইব্রিড প্রযুক্তির ব্যবহার নতুন নয়, তবে প্লাগ-ইন হাইব্রিড বা পিএইচইভি (PHEV) প্রযুক্তিতে ওমোডা ৯ যে দক্ষতা দেখিয়েছে, তা এক কথায় অনন্য। সাধারণ জ্বালানিচালিত গাড়ি যেখানে কিলোমিটার প্রতি ১৫ থেকে ২০ টাকা খরচ করে, সেখানে ওমোডা ৯-এর ৬ টাকার খরচ মধ্যবিত্ত ও উচ্চ-মধ্যবিত্ত গ্রাহকদের জন্য এক বিশাল আশীর্বাদ।
প্রযুক্তির মুন্সিয়ানা: কেন এটি আলাদা?
ওমোডা ৯-এর এই সাফল্যের মূলে রয়েছে এর অত্যাধুনিক ইঞ্জিন এবং ইলেকট্রিক ড্রাইভ সিস্টেমের সমন্বয়। প্লাগ-ইন হাইব্রিড হওয়ার কারণে এটি যেমন ব্যাটারির শক্তিতে চলতে পারে, তেমনি প্রয়োজনবোধে সরাসরি পেট্রোল ইঞ্জিনের সহায়তা নেয়। শহরের জ্যামে যখন ইঞ্জিনের দক্ষতা কমে যায়, তখন এর ইলেকট্রিক মোড সচল থেকে জ্বালানি সাশ্রয় নিশ্চিত করে। আবার হাইওয়েতে ইঞ্জিনের গতি ও ব্যাটারির শক্তি মিলে তৈরি করে এক শক্তিশালী পারফরম্যান্স।
এক নজরে ওমোডা ৯-এর মূল বৈশিষ্ট্যসমূহ:
অবিশ্বাস্য রেঞ্জ: এক ট্যাংক তেল ও পূর্ণ চার্জে ১,২৫৫ কিলোমিটার।
জ্বালানি সাশ্রয়: প্রতি কিলোমিটারে যাতায়াত খরচ মাত্র ৬ টাকা।
জ্বালানি ধারণক্ষমতা: ৬৫ লিটারের বিশাল ফুয়েল ট্যাংক।
পরিবেশবান্ধব: প্রচলিত কার্বন নিঃসরণকারী গাড়ির তুলনায় অনেক কম কার্বন নির্গত করে।
স্মার্ট ড্রাইভিং মোড: শহর এবং হাইওয়ের জন্য আলাদা ড্রাইভিং মোড সুবিধা।
দেশের বাজারে প্রভাব ও ভবিষ্যৎ সম্ভাবনা
অটোমোবাইল খাতের বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, ওমোডা ৯-এর এই সাফল্য বাংলাদেশের বাজারে ইলেকট্রিক ও হাইব্রিড গাড়ির গ্রহণযোগ্যতা আরও বাড়িয়ে দেবে। বর্তমানে তেলের দামের ঊর্ধ্বগতির বাজারে মানুষ এমন একটি বাহন খুঁজছে যা একই সাথে স্টাইলিশ এবং পকেট-ফ্রেন্ডলি।
ওমোডা ৯-এর বিল্ড কোয়ালিটি এবং ইন্টেরিয়র ডিজাইনও নজরকাড়া। ভেতরে রয়েছে প্রিমিয়াম সব সুযোগ-সুবিধা, যা লাক্সারি গাড়ির অভাব পূরণ করবে। তবে সবচেয়ে বড় চমক এর ইকোনমি রেট। একজন চাকরিজীবী বা ব্যবসায়ীর জন্য মাসিক যাতায়াত খরচে এটি যে বড় ধরনের সাশ্রয় এনে দেবে, তা বলাই বাহুল্য।

