পাকিস্তানের ইসলামাবাদে ইরান-যুক্তরাষ্ট্র শান্তি আলোচনা ভেস্তে যাওয়ার পর মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সরাসরি কোনো মন্তব্য না করলেও তাঁর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শেয়ার করা একটি নিবন্ধ নতুন বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। নিবন্ধে ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে, ইরান নতি স্বীকার না করলে ট্রাম্প হরমুজ প্রণালিতে নৌ-অবরোধের পথ নিতে পারেন।
প্রেক্ষাপট
ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের সম্পর্ক বহুদিন ধরেই উত্তেজনাপূর্ণ। ইসলামাবাদে অনুষ্ঠিত আলোচনায় কোনো সমঝোতায় পৌঁছানো যায়নি। এর পরপরই ট্রাম্প তাঁর নিজস্ব প্ল্যাটফর্ম ‘ট্রুথ সোশ্যাল’-এ জন সলোমনের লেখা একটি নিবন্ধ শেয়ার করেন। নিবন্ধটির শিরোনাম ছিল— “ইরান নতি স্বীকার না করলে প্রেসিডেন্টের হাতে থাকা ট্রাম্প কার্ড: নৌ-অবরোধ”।
জন সলোমন, যিনি রক্ষণশীল ওয়েবসাইট জাস্ট দ্য নিউজ-এর প্রতিষ্ঠাতা, তাঁর লেখায় বিশেষজ্ঞদের উদ্ধৃতি দিয়ে উল্লেখ করেছেন, ইরান যদি হরমুজ প্রণালির নিয়ন্ত্রণ ছাড়তে অস্বীকৃতি জানায়, তবে ট্রাম্প পাল্টা ব্যবস্থা হিসেবে বড় ধরনের নৌ-অবরোধ আরোপ করতে পারেন।
হরমুজ প্রণালির গুরুত্ব
হরমুজ প্রণালি বিশ্ব জ্বালানি বাজারের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
- বিশ্বের মোট তেল রপ্তানির প্রায় ২০ শতাংশ এই প্রণালি দিয়ে যায়।
- প্রতিদিন প্রায় ১ কোটি ৭০ লাখ ব্যারেল তেল হরমুজ প্রণালি দিয়ে পরিবাহিত হয়।
- ইরান দীর্ঘদিন ধরে এই প্রণালিকে কৌশলগত হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করে আসছে।
এই প্রণালিতে নৌ-অবরোধ আরোপ করা হলে বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে তীব্র অস্থিরতা দেখা দিতে পারে। তেলের দাম হঠাৎ বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে, যা আন্তর্জাতিক অর্থনীতিকে বড় ধাক্কা দিতে পারে।
ট্রাম্পের রাজনৈতিক বার্তা
যদিও ট্রাম্প সরাসরি কোনো ঘোষণা দেননি, তাঁর শেয়ার করা নিবন্ধকে অনেকেই রাজনৈতিক বার্তা হিসেবে দেখছেন। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, এটি ইরানের প্রতি চাপ সৃষ্টির কৌশল। ট্রাম্পের অতীত নীতিতেও দেখা গেছে, তিনি ইরানকে কঠোরভাবে মোকাবিলা করতে চান।
তবে সমালোচকরা বলছেন, নৌ-অবরোধের মতো পদক্ষেপ আন্তর্জাতিক আইন ও কূটনৈতিক সম্পর্ককে আরও জটিল করে তুলবে। এতে শুধু ইরান নয়, মধ্যপ্রাচ্যের অন্যান্য দেশও ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।
মূল তথ্যসমূহ
- ইসলামাবাদে ইরান-যুক্তরাষ্ট্র শান্তি আলোচনা ব্যর্থ
- ট্রাম্প সরাসরি মন্তব্য না করলেও ‘ট্রুথ সোশ্যাল’-এ নিবন্ধ শেয়ার
- নিবন্ধে হরমুজ প্রণালিতে নৌ-অবরোধের সম্ভাবনার ইঙ্গিত
- হরমুজ প্রণালি দিয়ে বিশ্বের ২০% তেল রপ্তানি হয়
- নৌ-অবরোধ হলে বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে অস্থিরতা দেখা দিতে পারে
আন্তর্জাতিক প্রতিক্রিয়া
বিশ্লেষকরা বলছেন, ট্রাম্পের এই ইঙ্গিত আন্তর্জাতিক কূটনীতিতে নতুন উত্তেজনা তৈরি করবে। ইউরোপীয় ইউনিয়ন ও এশিয়ার বড় অর্থনীতিগুলো হরমুজ প্রণালির ওপর নির্ভরশীল। ফলে নৌ-অবরোধের মতো পদক্ষেপ বিশ্বব্যাপী জ্বালানি নিরাপত্তাকে হুমকির মুখে ফেলতে পারে।
চীন ও ভারত, যারা হরমুজ প্রণালির মাধ্যমে বিপুল পরিমাণ তেল আমদানি করে, তারা এ ধরনের পদক্ষেপের বিরোধিতা করতে পারে। একই সঙ্গে মধ্যপ্রাচ্যে নতুন সংঘাতের আশঙ্কাও বাড়বে।

