গুরুতর অপরাধ দমনে দ্রুত বিচার আইনের খসড়া প্রকাশ সরকারের



ঢাকা: জননিরাপত্তা জোরদার এবং চাঁদাবাজি, দস্যুতা ও ডাকাতির মতো গুরুতর অপরাধের মামলা দ্রুত নিষ্পত্তির লক্ষ্যে দ্রুত বিচার আইনের খসড়া প্রকাশ করেছে সরকার। শুক্রবার, ৩০ অক্টোবর ‘দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনাল (সংশোধন) আইন, ২০২৬’ শীর্ষক খসড়াটি জনমত যাচাইয়ের জন্য উন্মুক্ত করা হয়।

আইন ও বিচার বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, চাঁদাবাজি, ডাকাতি, দস্যুতা, ছিনতাই এবং আইনশৃঙ্খলা বিঘ্নকারী অপরাধের মামলা নিষ্পত্তিতে দীর্ঘসূত্রতার কারণে অপরাধ দমন কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে এবং জননিরাপত্তার ঝুঁকি বাড়ছে। এ অবস্থায় আদালতের বিচারপ্রক্রিয়া ও আইনের শাসন সুসংহত করতে ২০০২ সালের ২৮ নম্বর আইন বা ‘দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনাল আইন, ২০০২’ যুগোপযোগী করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

সচিবালয় নির্দেশমালা ২০২৪-এর ২২৮ নম্বর অনুচ্ছেদ এবং রুলস অব বিজনেসের রুল ৩১-এ অনুযায়ী খসড়াটি জনসাধারণের অবগতির জন্য প্রকাশ করা হয়েছে। প্রস্তাবিত আইনের ১৬ ধারায় আসামি বা অপরাধসংশ্লিষ্ট অনলাইন ও ডিজিটাল কথোপকথন, যোগাযোগ, স্থিরচিত্র এবং ভিডিও ফুটেজকে বিচারিক কার্যক্রমে ডিজিটাল সাক্ষ্য হিসেবে আইনগতভাবে গ্রহণযোগ্য করার প্রস্তাব রাখা হয়েছে।

এ ছাড়া খসড়ার ৬ ধারায় পূর্ববর্তী মাদকসংক্রান্ত অপরাধের উল্লেখের পরিবর্তে ১৮৬০ সালের দণ্ডবিধির (১৮৬০ সালের ৪৫ নম্বর আইন) ৩৮৪ থেকে ৩৮৯ ধারার অধীন চাঁদাবাজি এবং ৩৯২ থেকে ৪০২ ধারার অধীন দস্যুতা ও ডাকাতির অপরাধকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। পাশাপাশি ‘আইনশৃঙ্খলা বিঘ্নকারী অপরাধ (দ্রুত বিচার) আইন, ২০০২’-এর ২(খ) ধারায় বর্ণিত অপরাধগুলোও এই ট্রাইব্যুনালের এখতিয়ারভুক্ত থাকবে।

প্রস্তাবিত সংশোধনী আইনের ৩(ঙ) ধারায় বিশেষ আদালতের সংজ্ঞা স্পষ্ট করা হয়েছে। এতে বিশেষ ক্ষমতা আইন ১৯৭৪-এর অধীন বিশেষ ট্রাইব্যুনাল, নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন ২০০০-এর অধীন ট্রাইব্যুনাল এবং অ্যাসিড অপরাধ দমন আইন ২০০২-এর অধীন গঠিত ট্রাইব্যুনালসহ আইনের দ্বারা প্রতিষ্ঠিত অন্যান্য বিশেষ আদালতকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।

প্রকাশিত এই খসড়া আইনের বিষয়ে কোনো নাগরিক, আইনজীবী বা প্রতিষ্ঠানের আপত্তি, অভিযোগ কিংবা পরামর্শ থাকলে তা প্রকাশের সাত দিনের মধ্যে লিখিতভাবে বা ই-মেইলের মাধ্যমে জানাতে অনুরোধ করেছে সরকার। আইন ও বিচার বিভাগের সিনিয়র সহকারী সচিব (বিচার শাখা-৪) বরাবর এই মতামত পাঠানো যাবে।

আইন ও বিচার বিভাগ স্পষ্টভাবে জানিয়েছে, রোববার, ১ নভেম্বরের পর প্রস্তাবিত খসড়াটির বিষয়ে আর কোনো আপত্তি বা পরামর্শ গ্রহণ করা হবে না। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে প্রাপ্ত মতামত পর্যালোচনার পরই আইনটি চূড়ান্ত অনুমোদনের জন্য পরবর্তী ধাপে পাঠানো হবে।

আইন ও বিচার বিভাগের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, প্রস্তাবিত সংশোধনী আইনটি কার্যকর হলে চাঞ্চল্যকর ও জননিরাপত্তা বিঘ্নকারী মামলাগুলোর সাক্ষ্য গ্রহণ ও বিচারিক প্রক্রিয়া নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে সম্পন্ন করা সম্ভব হবে। বিশেষ করে অডিও, ভিডিও এবং ডিজিটাল কথোপকথনকে সাক্ষ্য হিসেবে গ্রহণের সুযোগ তৈরি হওয়ায় অপরাধীদের শনাক্ত ও শাস্তির আওতায় আনা সহজতর হবে।

সূত্র: বাসস