সুন্দরবনে নতুন ৭ প্রজাতির মাছ ও চিংড়ি শনাক্ত করলেন গবেষকেরা



খুলনা: সুন্দরবনের নদী ও খালে জলজ সম্পদ নিয়ে পরিচালিত এক গবেষণায় বাংলাদেশের উপকূলীয় জলসীমায় নতুন ৭ প্রজাতির মাছ ও চিংড়ির উপস্থিতি শনাক্ত করেছেন গবেষকেরা। সরকারের সুন্দরবন সুরক্ষা প্রকল্পের আওতায় ডিএনএ বারকোডিং পদ্ধতি ব্যবহার করে এই প্রজাতিগুলো চিহ্নিত করা হয়েছে।

বেসরকারি গবেষণা সংস্থা সেন্টার ফর ন্যাচারাল রিসোর্স স্টাডিজ (সিএনআরএস) এবং আরণ্যক ফাউন্ডেশন যৌথভাবে ২০২৪ সালের মার্চ থেকে ২০২৫ সালের জুন পর্যন্ত ১৬ মাস ধরে এই গবেষণা পরিচালনা করে। গবেষণায় বাংলাদেশের উপকূলীয় জলসীমায় নতুন রেকর্ড হিসেবে পাঁচ প্রজাতির মাছ এবং দুই প্রজাতির চিংড়ি শনাক্ত করা হয়েছে।

নতুন শনাক্ত হওয়া মাছের প্রজাতি পাঁচটি হলো বড় আঁইশ পারশে, ফোঁটা বাটা, বার্মিজ এক ঠুঁইটা, কুলি বেলে বা চ্যাপ্টা মাথা বেলে এবং সবুজ ফোঁটা বেলে। অন্যদিকে নতুন শনাক্ত হওয়া চিংড়ি দুটি হলো মাকড়সা চিংড়ি ও ফোঁটা চিংড়ি। গবেষণায় মোট ৮৩টি মাছ এবং ২৮টি শক্ত খোলসবিশিষ্ট জলজ প্রাণীর (ক্রাস্টেশিয়ান) নমুনার ডিএনএ সিকোয়েন্সিং করা হয়।

গবেষক এম এনামুল হক জানান, এই মাছ ও চিংড়িগুলো সুন্দরবনের জলাশয়ে আগে থেকেই বসবাস করছিল, তবে বাহ্যিক চেহারায় অন্য প্রজাতির সঙ্গে মিল থাকায় আগে আলাদাভাবে শনাক্ত করা যায়নি। ডিএনএ বারকোডিং প্রযুক্তির মাধ্যমে জিনগত পার্থক্য নির্ণয় করে এগুলোকে পৃথক প্রজাতি হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে এবং যুক্তরাষ্ট্রের ন্যাশনাল সেন্টার ফর বায়োটেকনোলজি ইনফরমেশনের আন্তর্জাতিক জিন ব্যাংকে এগুলোর তথ্য জমা দেওয়ার প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে।

গবেষক দল সুন্দরবনের ৬৫টি নদী ও খালের পাশাপাশি খুলনার কয়রা, সাতক্ষীরার শ্যামনগর এবং বাগেরহাটের মোংলা ও শরণখোলার মৎস্য অবতরণকেন্দ্র থেকে তথ্য সংগ্রহ করে। এই জরিপে ২৫১ প্রজাতির মাছ ও ৫১ প্রজাতির ক্রাস্টেশিয়ানের উপস্থিতি নথিবদ্ধ হয়েছে। ২০২০ সালে শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষণা ও বর্তমান জরিপ মিলিয়ে সুন্দরবনে মোট ৩৮২ প্রজাতির মাছ এবং ২৭ প্রজাতির চিংড়ি ও ২৪ প্রজাতির কাঁকড়াসহ ৮৮ প্রজাতির শেলফিশের রেকর্ড পাওয়া গেছে।

গবেষণায় দেখা গেছে, ভেটকি, পোয়া ও পাঙাশের মতো বাণিজ্যিকভাবে মূল্যবান অন্তত আট প্রজাতির মাছ অতিরিক্ত আহরণের কারণে ঝুঁকির মুখে রয়েছে। এ ছাড়া পোনা নিধন এবং নদী-খালে বিষ প্রয়োগের ফলে নদ-নদীর পানিসম্পদ ও জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ বড় চ্যালেঞ্জের মুখে পড়ছে।

বন বিভাগের মৎস্য বিশেষজ্ঞ মফিজুর রহমান চৌধুরী জানান, ডিএনএ বারকোডিং গবেষণার এই ফলাফল সুন্দরবনের জলজ সম্পদ রক্ষায় কার্যকর ভূমিকা রাখবে। সুন্দরবন সুরক্ষা প্রকল্পের পরিচালক ও খুলনা অঞ্চলের বন সংরক্ষক ইমরান আহমেদ জানিয়েছেন, গবেষণার সুপারিশের আলোকে সুন্দরবনের মৎস্যসম্পদ রক্ষায় স্বল্প ও দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা প্রণয়ন করা হচ্ছে।

সূত্র: প্রথম আলো