ফ্রান্সে বিক্ষোভ ঠেকাতে মোতায়েন ৭০ হাজার পুলিশ, আকাশে টহল দিচ্ছে ড্রোন



আসন্ন সপ্তাহান্তে ফ্রান্সে বিক্ষোভ ঘিরে দেশজুড়ে চরম অস্থিতিশীলতার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। উগ্রপন্থী বিভিন্ন গোষ্ঠী ও আন্দোলনকারীরা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নতুন করে জড়ো হওয়ার ডাক দিচ্ছেন। পরিস্থিতি সামলাতে রীতিমতো কঠোর অবস্থানে গেছে ফরাসি প্রশাসন। রাজধানী প্যারিসসহ পুরো দেশজুড়েই নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তার চাদর বিছানো হয়েছে।

ফ্রান্সের বর্তমান অভ্যন্তরীণ পরিস্থিতি বেশ উত্তপ্ত। জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধি, দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি ও নানা সামাজিক ইস্যুতে সাধারণ মানুষ থেকে শুরু করে অধিকারকর্মীরা রাস্তায় নেমেছেন। এর আগে হওয়া আন্দোলনগুলোতে পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষ, সরকারি ভবনে হামলা এবং ব্যাপক লুটপাটের মতো ঘটনা ঘটেছিল। তাই নতুন করে এই সপ্তাহান্তে আবারও বড় জমায়েতের ঘোষণায় প্রশাসন দারুণভাবে নড়েচড়ে বসেছে।

গোয়েন্দা তথ্য বলছে, উগ্রপন্থী কিছু গোষ্ঠী সাধারণ মানুষের ক্ষোভকে কাজে লাগিয়ে পরিস্থিতি আরও ঘোলাটে করার চেষ্টা করছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমগুলোতে ছড়িয়ে পড়া বিভিন্ন বার্তায় সরাসরি লুটপাট ও জ্বালাও-পোড়াওয়ের উসকানি দেওয়া হচ্ছে। এই কারণেই আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী এবার আগেভাগেই সর্বোচ্চ সতর্কতামূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে।

ফরাসি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী লরেন্ট নুনেজ স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে কোনো ধরনের আপস করা হবে না। যারা নতুন করে নৈরাজ্য সৃষ্টির জন্য রাস্তায় নামবেন, তাদের জন্য অত্যন্ত কঠোর পরিণতি অপেক্ষা করছে। শনিবারের সম্ভাব্য ফ্রান্সে বিক্ষোভ মোকাবিলা করার জন্য পুলিশের বিশেষায়িত ইউনিট ও অভিজাত বাহিনীকেও মাঠে নামানো হয়েছে।

সংবাদ সম্মেলনে লরেন্ট নুনেজ বলেন, পুলিশ এবার অত্যন্ত আক্রমণাত্মক ও গতিশীল কৌশলে মাঠে থাকবে। কেউ সরকারি বা ব্যক্তিগত সম্পত্তি নষ্টের চেষ্টা করলে সঙ্গে সঙ্গে তাকে গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় আনা হবে। আগের আন্দোলনগুলোতে কিছু জায়গায় পুলিশ নিয়ন্ত্রণ হারালেও এবার কাউকে বিন্দুমাত্র ছাড় না দেওয়ার ঘোষণা দেওয়া হয়েছে।

আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় শুধু বিশাল জনবল নয়, আধুনিক প্রযুক্তিরও সর্বোচ্চ ব্যবহার করছে ফ্রান্স সরকার। দেশজুড়ে প্রায় ৭০ হাজার পুলিশ ও আধা-সামরিক বাহিনীর সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে, যা দেশটির সাম্প্রতিক ইতিহাসে অন্যতম বৃহৎ নিরাপত্তা পদক্ষেপ। এর পাশাপাশি সাঁজোয়া যান এবং জলকামান প্রস্তুত রাখা হয়েছে বিভিন্ন স্পর্শকাতর পয়েন্টগুলোতে।

আকাশপথে নজরদারির জন্য বিশেষায়িত হেলিকপ্টার ও ড্রোনের সাহায্য নিচ্ছে পুলিশ। কোথায় কতজন জড়ো হচ্ছেন এবং দাঙ্গাকারীরা কোনো অলিগলিতে লুকিয়ে পড়ার চেষ্টা করছে কি না, তা ড্রোনের মাধ্যমে সরাসরি পর্যবেক্ষণ করা হবে। এর ফলে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়া পুলিশের জন্য অনেক সহজ হবে।

বড় ধরনের সংঘাতের আশঙ্কায় সাধারণ মানুষও কিছুটা আতঙ্কের মধ্যে দিন পার করছেন। বিভিন্ন দোকানপাট ও বিপণিবিতানগুলোর মালিকরা তাদের প্রতিষ্ঠানের নিরাপত্তা নিয়ে গভীরভাবে শঙ্কিত। আগের লুটপাটের কথা মাথায় রেখে অনেক ব্যবসায়ী এই সপ্তাহান্তে তাদের ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। বিশেষ করে বড় শহরগুলোর গুরুত্বপূর্ণ সড়ক ও চত্বরগুলো এড়িয়ে চলার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

কর্তৃপক্ষ সাধারণ নাগরিকদের শান্ত থাকার এবং অযথা গুজবে কান না দেওয়ার অনুরোধ জানিয়েছে। প্যারিসসহ অন্যান্য বড় শহরের স্পর্শকাতর এলাকায় বিনা প্রয়োজনে ঘোরাফেরা করতেও নিষেধ করা হয়েছে। পরিস্থিতি বুঝে দরকার হলে নির্দিষ্ট কিছু এলাকায় জনসমাবেশ নিষিদ্ধ করা হতে পারে বলেও ইঙ্গিত মিলেছে।