চ্যাম্পিয়নস লিগে গোলবন্যা, বিধ্বস্ত ম্যানচেষ্টার ইউনাইটেড, জয় রিয়ালের, পয়েন্ট ভাগ বায়ার্ন-আর্সেনালের



ইউরোপীয় ফুটবলের মঞ্চে এক রাতেই দেখা গেল ভিন্ন ভিন্ন চিত্র। কোথাও একের পর এক গোল করে জয় উদ্‌যাপন, কোথাও হারের ধাক্কায় বিপর্যস্ত বড় দল, আবার কোথাও শেষ পর্যন্ত সমতায় থামল দুই জায়ান্টের লড়াই। ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডকে ৪-১ গোলে হারিয়ে আলোচনায় উঠে এসেছে কোমো। অন্যদিকে লাইপজিগের বিপক্ষে একই ব্যবধানে জিতেছে রিয়াল মাদ্রিদ। আর বায়ার্ন মিউনিখ ও আর্সেনালের লড়াই শেষ হয়েছে ২-২ গোলে।

দুঃসময় যেন পিছু ছাড়ছে না ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের। টানা জয়হীনতার বৃত্ত থেকে বেরিয়ে আসার লক্ষ্য নিয়ে মাঠে নামলেও ইতালিয়ান ক্লাব কোমোর কাছে ৪-১ গোলের বড় পরাজয় নিয়ে ফিরতে হয়েছে মাইকেল ক্যারিকের দলকে। ইউরোপের শীর্ষ প্রতিযোগিতায় নিজেদের ইতিহাসের সবচেয়ে বড় ব্যবধানে হারের রেকর্ড থেকে অল্পের জন্য রক্ষা পেয়েছে ইংলিশ ক্লাবটি।

ম্যাচ শুরুর দ্বিতীয় মিনিটেই গোল করে ইউনাইটেডকে চাপে ফেলে দেন আর্জেন্টাইন প্লেমেকার নিকো পাজ। বিরতির পর ৪৯ মিনিটে পাজের পাস থেকে ব্যবধান দ্বিগুণ করেন আনাস্তাসিওস দুভিকাস। ৫৭ মিনিটে প্রতিপক্ষের ভুলের সুযোগ নিয়ে নিজের দ্বিতীয় গোলটি করেন পাজ।

এরপর ৭৬ মিনিটে কাইকি ব্রুনোর ক্রস থেকে হেডে গোল করেন জ্যাকোবো রামন। যোগ করা সময়ে আমাদ দিয়ালোর ক্রস থেকে হেডে একটি গোল শোধ করেন বদলি খেলোয়াড় জশুয়া জিরকজি। তবে ততক্ষণে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ পুরোপুরি কোমোর হাতে।

দুই গোল ও একটি গোলে সহায়তা করে কোমোর জয়ের নায়ক পাজ। অন্যদিকে এই হারে সব প্রতিযোগিতা মিলিয়ে টানা সাত ম্যাচ জয়হীন থাকল ইউনাইটেড। ম্যাচ শেষে ক্যারিক নিজের দলের পারফরম্যান্সের সম্পূর্ণ দায়ভার স্বীকার করেন। তাঁর মতে, ক্লাবটির এমন পারফরম্যান্স কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।

ইউনাইটেডের হতাশার রাতে স্বস্তির জয় পেয়েছে রিয়াল মাদ্রিদ। লাইপজিগকে ৪-১ গোলে হারিয়ে টানা তৃতীয় জয় তুলে নিয়েছে স্প্যানিশ জায়ান্টরা। গুরুত্বপূর্ণ এই জয়ে বার্সেলোনার বিপক্ষে এল ক্লাসিকোর আগে আত্মবিশ্বাস বাড়ানোর সুযোগ পেয়েছে দলটি।

প্রথমার্ধে দুই দলের আক্রমণ-পাল্টা আক্রমণের মধ্যে ৪৩ মিনিটে এগিয়ে যায় রিয়াল। ফিরতি বল থেকে গোল করেন বার্নার্দো সিলভা। বিরতির পর ৫২ মিনিটে ব্যবধান দ্বিগুণ করেন আন্দ্রে গুলার।

৮৩ মিনিটে দিওমান্দের পাস থেকে গোল করে ব্যবধান ৩-০ করেন কিলিয়ান এমবাপে। চলতি মৌসুমে ১২ ম্যাচে এটি ফরাসি ফরোয়ার্ডের ১২তম গোল। দুই মিনিট পর তিদিয়াম গোমিস লাইপজিগের হয়ে একটি গোল শোধ করলেও ৮৭ মিনিটে ব্রাহিম দিয়াজের ক্রস থেকে দারুণ ভলিতে গোল করে রিয়ালের বড় জয় নিশ্চিত করেন দিওমান্দে।

তবে স্কোরলাইন একপেশে হলেও ম্যাচের প্রথমার্ধে লাইপজিগ বেশ কয়েকবার রিয়ালকে চাপে ফেলেছিল। গোলরক্ষক থিবো কোর্তোয়ার কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ সেভ স্বাগতিকদের এগিয়ে থাকতে সাহায্য করে।

অন্যদিকে বায়ার্ন মিউনিখ ও আর্সেনালের লড়াইয়ে শেষ হাসি হাসতে পারেনি কোনো দলই। আক্রমণাত্মক ফুটবলে ভরপুর ম্যাচটি শেষ হয়েছে ২-২ গোলের ড্রয়ে। দুই দলই এগিয়ে যাওয়ার পর প্রতিপক্ষের জবাবে পয়েন্ট ভাগাভাগি করতে হয়েছে তাদের।

ম্যাচের ২৫ মিনিটে মার্তিন ওডেগার্ডের সহায়তায় গোল করে আর্সেনালকে এগিয়ে দেন এজে। তবে ৩৫ মিনিটে হ্যারি কেইনের পাস থেকে গোল করে বায়ার্নকে সমতায় ফেরান আলফনসো ডেভিস।

দ্বিতীয়ার্ধে ৬১ মিনিটে পেনাল্টি থেকে গোল করে বায়ার্নকে এগিয়ে দেন কেইন। পিছিয়ে পড়ে ম্যাচে ফেরার চেষ্টা চালিয়ে যায় আর্সেনাল। সেই প্রচেষ্টার ফল আসে ৮২ মিনিটে। ভিক্টর ইযকেরেসের বাড়ানো বল থেকে গোল করে সমতা ফেরান ডেক্লান রাইস। শেষ পর্যন্ত আর কোনো গোল না হওয়ায় ২-২ ব্যবধানেই শেষ হয় লড়াই।

এছাড়াও গত রাতে আরও কিছু ম্যাচ অনুষ্ঠিত হয়। যেখানে জয় পায় ইন্টার মিলান, অ্যাস্টন ভিলা, ক্লাব ব্রুজ, রিয়াল বেতিসের মতো মতো দল। ইন্টার মিলান শাখতার দোনেৎস্কে হারায় ১-০ গোলে। রিয়াল বেতিসও একই ব্যবধানে জিতে ফিয়োনর্দের বিপক্ষে। অ্যাস্টন ভিলা ভাইকিংদের বিপক্ষে ৩-১ গোলে জিতেছে। ক্লাব ব্রুজ ৩-১ গোলে হারায় লেনসকে। স্পোর্টিং সিপি লাস্কের কাছে ৩-২ গোলে এবং গালাতাসারের কাছে লিলে ৪-২ গোলে পরাজয় বরণ করে।