ধর্ম-বর্ণের ঊর্ধ্বে উঠে দেশ গড়ার আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর



শারদীয় দুর্গোৎসবের শুভক্ষণে ঐক্য ও সম্প্রীতির শক্ত বার্তা নিয়ে রাজধানীর প্রধান প্রধান পূজামণ্ডপ পরিদর্শন করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি স্পষ্ট জানিয়েছেন, অতীতে মহান মুক্তিযুদ্ধ, দীর্ঘ গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের আন্দোলন এবং সবশেষে ২০২৪ সালের ঐতিহাসিক গণঅভ্যুত্থানে এ দেশের মানুষ ধর্ম কিংবা বর্ণের ব্যবধান ভুলে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে মেধা ও রক্তের পরিচয় দিয়েছে। তাই আগামীর নতুন ও বৈষম্যহীন বাংলাদেশ গড়ে তোলার মহা-সংগ্রামেও সবাইকে ধর্মীয় পরিচয়ের ঊর্ধ্বে উঠে একতাবদ্ধ হয়ে কাজ চালিয়ে যেতে হবে।

রোববার রাতে রাজধানীর মহাখালী ও গুলশান-বনানী এলাকার স্বনামধন্য পূজামণ্ডপগুলোতে উপস্থিত হয়ে শারদীয় দুর্গোৎসব উদযাপনরত সনাতন ধর্মাবলম্বী নাগরিকদের সঙ্গে কুশল ও শুভেচ্ছা বিনিময় করেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। এ সময় উৎসবমুখর পরিবেশে উপস্থিত পুণ্যার্থী ও উৎসবপ্রেমী জনতার উদ্দেশ্যে দেওয়া তাৎপর্যপূর্ণ বক্তব্যে তিনি বলেন, এ দেশের মাটিতে শত শত বছর ধরে বিভিন্ন ধর্মের মানুষ সম্প্রীতির বন্ধনে আবদ্ধ হয়ে শান্তিতে বসবাস করে আসছে। কোনো বিভেদ বা ষড়যন্ত্রই দীর্ঘদিনের ঐতিহ্যবাহী এই ভাইচারা বিনষ্ট করতে পারবে না।

প্রধানমন্ত্রীর ডেপুটি প্রেস সেক্রেটারি মোস্তফা জুলফিকার হাসান গণমাধ্যমকে এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন। পরিদর্শনের সময় প্রধানমন্ত্রীর সহধর্মিণী ডা. জুবাইদা রহমান এবং স্থানীয় প্রশাসনিক কর্মকর্তারা তাঁর সফরসঙ্গী হিসেবে উপস্থিত ছিলেন। মণ্ডপে মণ্ডপে পুণ্যার্থীদের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ ও আনন্দের দৃশ্য দেখে সন্তোষ প্রকাশ করেন প্রধানমন্ত্রী।

ইতিহাসের প্রসঙ্গ টেনে প্রধানমন্ত্রী উল্লেখ করেন, স্বাধীনতা সংগ্রাম থেকে শুরু করে যেকোনো স্বৈরাচারবিরোধী কিংবা স্বাধিকার আন্দোলনে কোনো নির্দিষ্ট গোষ্ঠী নয়, বরং দেশের প্রতিটি নাগরিক একসূত্রে গেঁথে রাজপথে নেমেছিল। বিশেষ করে ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানের সেই ঐতিহাসিক মুহূর্তগুলোর কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে তিনি বলেন, বৈষম্যহীন ও স্বৈরাচারমুক্ত বাংলাদেশ গড়ার লক্ষ্যে হিন্দু, মুসলিম, বৌদ্ধ, খ্রিস্টান সবাই জীবনবাজি রেখে লড়েছিল।

সেই ত্যাগের ওপর দাঁড়িয়ে আজ আমাদের রাষ্ট্র পুনর্গঠনের বিশাল দায়িত্ব পালন করতে হচ্ছে। রাজপথের রক্তক্ষয়ী আন্দোলন যেভাবে আমাদের জাতীয় ঐক্য সৃষ্টি করেছিল, ঠিক সেভাবেই এখন দেশ গড়ার কাজে একই মানসিকতা ধরে রাখতে হবে। বিভাজনের রাজনীতি পরিহার করে ঐক্যবদ্ধ শক্তিই কেবল একটি আধুনিক ও স্বনির্ভর রাষ্ট্র উপহার দিতে পারে।

বাংলাদেশের মাটি যে সব সম্প্রদায়ের মানুষের জন্য সমান নিরাপদ, সেটি জোর দিয়ে বলেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি বলেন, ধর্ম যার যার ব্যক্তিগত বিশ্বাসের বিষয়, কিন্তু রাষ্ট্র এবং সার্বিক নিরাপত্তা পাওয়ার অধিকার এ দেশের প্রতিটি একক নাগরিকের। ধর্মীয় স্বাধীনতা রক্ষা করা সরকারের পরম দায়িত্ব এবং এতে কোনো শিথিলতা সহ্য করা হবে না।

এ সময় পূজামণ্ডপ উদযাপন কমিটির নেতৃবৃন্দ প্রধানমন্ত্রীর এই পরিদর্শন ও গঠনমূলক দিকনির্দেশনামূলক বক্তব্যের জন্য গভীর কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। তাঁরা আশা করেন, রাজনৈতিক ও সামাজিক পর্যায়ে এই অসাম্প্রদায়িক দৃষ্টিভঙ্গি বজায় থাকলে দেশে দীর্ঘমেয়াদী শান্তি, স্থিতিশীলতা এবং অর্থনৈতিক সমৃদ্ধি দ্রুত অর্জিত হবে।