জাপান সফর শেষে দেশে ফিরেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান



চার দিনের সরকারি সফর শেষে জাপান থেকে দেশে ফিরেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। শুক্রবার দিবাগত রাত ২টা ৪৮ মিনিটে তাঁকে এবং তাঁর সফরসঙ্গীদের বহনকারী বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের একটি বিশেষ ফ্লাইট ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে নিরাপদে অবতরণ করে।

প্রধানমন্ত্রীর উপ-প্রেস সচিব শাহাদাৎ স্বাধীন গণমাধ্যমের কাছে এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন। দেশে ফেরার সময় প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে তাঁর স্ত্রী ডা. জুবাইদা রহমানসহ সরকারের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা এবং একটি প্রতিনিধিদল উপস্থিত ছিলেন। বিমানবন্দরে তাঁদের স্বাগত জানাতে ঊর্ধ্বতন সরকারি কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন বলে জানা গেছে।

বাংলাদেশ ও জাপানের মধ্যে দীর্ঘদিনের পরীক্ষিত বন্ধুত্বের সম্পর্ককে আরও সুদৃঢ় করাই ছিল প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের এই সফরের প্রধান উদ্দেশ্য। দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক জোরদার, বিদেশি বিনিয়োগ বৃদ্ধি এবং উভয় দেশের মধ্যে বাণিজ্য ও অর্থনৈতিক সহযোগিতা সম্প্রসারণের ওপর সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। এশিয়ার অন্যতম অর্থনৈতিক পরাশক্তি জাপানের শীর্ষ ব্যবসায়ী এবং নীতিনির্ধারকদের সঙ্গে বাংলাদেশের প্রতিনিধিদলের কয়েক দফা ফলপ্রসূ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে।

এসব আলোচনায় বাংলাদেশের বর্তমান অবকাঠামো উন্নয়ন, প্রযুক্তি স্থানান্তর এবং নবায়নযোগ্য জ্বালানি খাতে জাপানি বিনিয়োগকারীদের আকৃষ্ট করার চেষ্টা করা হয়। সরকার প্রধানের এই সফরে বিনিয়োগের অনুকূল পরিবেশ, কর ছাড়ের সুবিধা এবং বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চলগুলোতে জাপানি উদ্যোক্তাদের জন্য সুযোগ-সুবিধার হালনাগাদ চিত্র তুলে ধরা হয়েছে।

বাংলাদেশের বর্তমান অর্থনৈতিক প্রেক্ষাপটে শীর্ষ পর্যায়ের এই সফরকে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ হিসেবে দেখছেন বিশ্লেষকরা। দেশের শিল্প খাতে কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং রপ্তানি বহুমুখীকরণে জাপানের কারিগরি ও আর্থিক সহায়তা বড় ভূমিকা রাখতে পারে। দীর্ঘদিন ধরে জাপান বাংলাদেশের অন্যতম প্রধান উন্নয়ন অংশীদার হিসেবে কাজ করে আসছে। মেগাপ্রকল্প থেকে শুরু করে তৃণমূলের আর্থসামাজিক উন্নয়নে তাদের ধারাবাহিক অবদান রয়েছে।

নতুন এই সফর সেই সহযোগিতার ধারাকে কেবল অব্যাহতই রাখবে না, বরং দুই দেশের অর্থনৈতিক কূটনীতিতে নতুন মাত্রা যোগ করবে। আগামী দিনগুলোতে বাণিজ্য ঘাটতি কমিয়ে আনা এবং বাংলাদেশের বিশাল বাজারে জাপানি উদ্যোক্তাদের অংশগ্রহণ আরও সহজ করার বিষয়ে নীতিগত আলোচনা হয়েছে টোকিওতে।