ইরানের বিরুদ্ধে নতুন করে সামরিক অভিযান চালানোর সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। সপ্তাহান্তের শুরুতেই হামলা শুরু হতে পারে বলে ইঙ্গিত দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বিশেষ দূত টম ব্যারাক। তবে এ বিষয়ে ট্রাম্পের চূড়ান্ত অনুমোদন রয়েছে কি না, তা নিশ্চিত করেননি তিনি। একই সঙ্গে তেহরানের ওপর সামরিক চাপ বাড়ানোর পাশাপাশি কূটনৈতিক সমাধানের পথও খোলা রাখছে ওয়াশিংটন।
শুক্রবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ব্যারাক বলেন, ইরানে নতুন করে হামলা চালানো হলেও তার উদ্দেশ্য দেশটির সরকারকে উৎখাত করা নাও হতে পারে। বরং পরিস্থিতির ভারসাম্য ফিরিয়ে আনা, সম্ভাব্য হুমকি দূর করা এবং জিম্মি পরিস্থিতির অবসান ঘটানোই যুক্তরাষ্ট্রের লক্ষ্য হতে পারে।
ব্যারাকের ভাষ্য অনুযায়ী, ট্রাম্প এমন একটি পরিস্থিতি প্রতিষ্ঠা করতে চান, যেখানে কোনো জিম্মি বা হুমকি থাকবে না এবং আঞ্চলিক উত্তেজনা কমে আসবে। তবে ইরানের সঙ্গে আলোচনার ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্রের কিছু শর্ত রয়েছে, যেগুলো তেহরান মেনে নিতে অনিচ্ছুক হতে পারে। তা সত্ত্বেও আলোচনার মাধ্যমে সমাধানে পৌঁছাতে ট্রাম্প প্রস্তুত বলে জানান তিনি।
মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা নিশ্চিতে যুক্তরাষ্ট্রের ভূমিকা নিয়েও কথা বলেন ট্রাম্পের এই বিশেষ দূত। তাঁর মতে, এ অঞ্চলের নিরাপত্তার চূড়ান্ত নিশ্চয়তা দেওয়ার অবস্থানে যুক্তরাষ্ট্র নেই। বরং দেশটি নিরাপত্তার ক্ষেত্রে সহায়তাকারী বা বিমাকারীর ভূমিকা পালন করে।
এদিকে সৌদি আরব ও ইয়েমেনের হুতিদের মধ্যে উত্তেজনা এবং ইয়েমেনে যুক্তরাষ্ট্রের সম্ভাব্য সামরিক অভিযান নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে। ব্যারাক সতর্ক করে বলেন, পরিস্থিতি নিয়ে ভুল হিসাব-নিকাশ বড় ধরনের সংঘাতের জন্ম দিতে পারে।
এর আগে শুক্রবার সকালে ফ্লোরিডার উদ্দেশে ওয়াশিংটন ছাড়ার আগে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন ট্রাম্প। তিনি দাবি করেন, যুক্তরাষ্ট্র চাইলে ইরানের সঙ্গে চলমান সংঘাত দ্রুত শেষ করতে পারে। তবে সংঘাতের চূড়ান্ত নিষ্পত্তি করা হবে, নাকি ইরানকে আরও দুর্বল হওয়ার সুযোগ দেওয়া হবে, তা নিয়ে তাঁর প্রশাসন বিবেচনা করছে।
ট্রাম্প আরও বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের এমন সামরিক সক্ষমতা রয়েছে, যার মাধ্যমে ইরানকে কার্যত অচল করে দেওয়া সম্ভব। দেশটির নিয়ন্ত্রণ এবং তেলসম্পদ দখল করার সক্ষমতাও ওয়াশিংটনের রয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।
ট্রাম্পের এসব বক্তব্যে ইরানের ওপর সামরিক ও অর্থনৈতিক চাপ আরও বাড়ানোর সম্ভাবনা উঠে এসেছে। তবে নতুন হামলার বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের ঘোষণা না আসায় যুক্তরাষ্ট্রের পরবর্তী পদক্ষেপ এখনো অনিশ্চিত। সামরিক অভিযান ও কূটনৈতিক আলোচনার মধ্যে শেষ পর্যন্ত ওয়াশিংটন কোন পথ বেছে নেয়, তা-ই এখন পরিস্থিতির গুরুত্বপূর্ণ বিষয়।

