শিগগিরই পৃথিবীতে মানুষের চেয়ে এআই এজেন্ট বেশি হবে!



বিশ্বে খুব দ্রুতই রক্তমাংসের মানুষের চেয়ে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাসম্পন্ন (এআই) এজেন্টের সংখ্যা বেশি হতে চলেছে। সম্প্রতি অনুষ্ঠিত ‘এনডিটিভি ওয়ার্ল্ড সামিট ২০২৬’-এ ভবিষ্যৎ-গবেষক ও প্রযুক্তি বিশ্লেষক মাইক ওয়ালশ এমন চাঞ্চল্যকর ভবিষ্যদ্বাণী করেছেন। তার মতে, প্রযুক্তি খাতের এই দ্রুত রূপান্তর বৈশ্বিক ব্যবসা, শিল্পকারখানা এবং মানুষের দৈনন্দিন কাজ করার পদ্ধতিতে সম্পূর্ণ নতুন এক মাত্রা যোগ করবে।

মাইক ওয়ালশ মনে করেন, এআই প্রযুক্তিকে আমাদের কাজের ঘাটতি বা চাকরি হারানোর ভয় হিসেবে না দেখে নতুন সম্ভাবনার ‘প্রাচুর্য’ হিসেবে বিবেচনা করা উচিত। বর্তমানে চ্যাটজিপিটি বা অনুরূপ এআই টুলের গণ্ডি পেরিয়ে অত্যন্ত উন্নত এবং স্বয়ংক্রিয় এআই এজেন্ট তৈরি হচ্ছে। এগুলো শুধু মানুষের নির্দেশই পালন করে না, বরং নিজে থেকে পরিস্থিতি বিশ্লেষণ করে সিদ্ধান্ত নিতে এবং একাধিক ধাপে কাজ সম্পন্ন করতে সক্ষম। ওয়ালশ একে আখ্যা দিয়েছেন ‘ডিজিটাল শ্রম’ হিসেবে। তার মতে, আগামী এক দশকের মধ্যে বিশ্বের শীর্ষস্থানীয় প্রতিষ্ঠানগুলো তাদের কাজের ধরনে বিশাল পরিবর্তন আনবে। ইনভেস্টমেন্ট ফার্ম থেকে শুরু করে বড় বিনিয়োগকারীরাও এখন এমন ব্যবসার দিকে ঝুঁকছেন, যারা এই ডিজিটাল লেবার ও অটোমেশনের সঙ্গে মানিয়ে নিতে পারবে।

প্রযুক্তি জগতের শীর্ষস্থানীয় ব্যক্তিত্ব, এনভিডিয়ার (Nvidia) প্রধান নির্বাহী জেনসেন হুয়াংয়ের একটি ধারণার সূত্র ধরে ওয়ালশ জানান, বর্তমানে যেসব সফটওয়্যার প্রকৌশলী বছরে প্রায় পাঁচ লাখ ডলার বেতন পান, তারা যদি দৈনন্দিন কাজের অর্ধেক এআইয়ের মাধ্যমে না করেন, তবে তাদের মেধার পূর্ণ ব্যবহার হচ্ছে না। আগামী দিনে যেকোনো পেশায় টিকে থাকতে এবং দক্ষতা প্রমাণে এআই টুলের সর্বোচ্চ ব্যবহার অপরিহার্য হয়ে পড়বে।

অন্যান্য প্রযুক্তি বিশ্লেষকরাও এই ধারণার সঙ্গে একমত পোষণ করেছেন। প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞ ড. অ্যান্ডাইল এনগাকাবার মতে, আগামী ২০২৯ সালের মধ্যেই ইন্টারনেট জগতে মানুষের উপস্থিতিকে ছাড়িয়ে যাবে এআই এজেন্ট। অন্যদিকে, সাইবার নিরাপত্তা নিয়ে কাজ করা বিভিন্ন সূত্র ভবিষ্যদ্বাণী করেছে, ২০৩৫ সাল নাগাদ বিশ্বে প্রায় এক ট্রিলিয়ন বা এক লাখ কোটি বুদ্ধিমান এজেন্ট কাজ করবে, যা বর্তমান মানব জনসংখ্যার চেয়ে বহুগুণ বেশি।

প্রযুক্তির এই পালাবদলে সবচেয়ে বেশি সুবিধা পাবে নতুন প্রজন্ম। ওয়ালশ একটি চমৎকার উদাহরণ দিয়ে বলেছেন, বর্তমান যুগের তরুণরা হয়তো তাদের জীবনের প্রথম প্রাতিষ্ঠানিক চাকরি পাওয়ার আগেই নিজের কাজের জন্য একজন স্বয়ংক্রিয় ‘ডিজিটাল কর্মী’ বা এআই এজেন্ট নিয়োগ করবে। শিক্ষা প্রতিষ্ঠান থেকে বের হয়ে সরাসরি চাকরিতে যোগ দেওয়ার যে প্রথাগত ধারা, সেটি ভেঙে গিয়ে নতুন আয়ের সুযোগ তৈরি হবে। তরুণ উদ্যোক্তারা একা কাজ করলেও এআই এজেন্টের সাহায্যে তারা একটি বড় প্রতিষ্ঠানের সমান আউটপুট দিতে পারবেন।