প্রাথমিক বৃত্তি পরীক্ষায় ফি দিতে হবে না শিক্ষার্থীদের


১৮ নভেম্বর শুরু হবে প্রাথমিক সমাপনী পরীক্ষা

প্রাথমিক বৃত্তি পরীক্ষা আয়োজনকে কেন্দ্র করে দেশের কোনো প্রাথমিক বিদ্যালয়ই মূল পরীক্ষার্থী বা অংশগ্রহণকারীদের কাছ থেকে কোনো ধরনের ফি আদায় করতে পারবে না বলে সাফ জানিয়ে দিয়েছে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর। দেশের সকল জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তাদের কাছে পাঠানো এক জরুরি দাপ্তরিক চিঠিতে এই আদেশ অবিলম্বে কার্যকর করার নির্দেশ প্রদান করা হয়েছে। এতে করে শিক্ষার্থী এবং অভিভাবকদের ওপর অতিরিক্ত আর্থিক চাপের অবসান ঘটবে বলে আশা করছেন শিক্ষা সংশ্লিষ্টরা।

প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ে সম্প্রতি অনুষ্ঠিত জাতীয় স্টিয়ারিং কমিটির এক গুরুত্বপূর্ণ সভায় পরীক্ষা সংক্রান্ত একাধিক বিষয়ে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়। সেই বৈঠকের ধারাবাহিকতায় প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর দেশের সব জেলা শিক্ষা অফিসে এই বিশেষ চিঠি নিশ্চিত করে। চিঠিতে স্পষ্ট উল্লেখ রয়েছে, পঞ্চম শ্রেণীর প্রাথমিক বৃত্তি পরীক্ষা পরিচালনায় সরকারের বরাদ্দকৃত বাজেট ব্যবহার করা হবে, তাই শিক্ষার্থী বা অভিভাবকদের কাছ থেকে প্রবেশপত্র, ফরম পূরণ বা অন্য কোনো নামেই অর্থ চাওয়া সম্পূর্ণ বেআইনি।

অতীতে বিভিন্ন সময় অভিযোগ উঠেছে যে, বৃত্তি পরীক্ষার দোহাই দিয়ে অনেক প্রতিষ্ঠান ও স্থানীয় পরিচালনা পর্ষদ শিক্ষার্থীদের নিকট থেকে অতিরিক্ত অর্থ গ্রহণ করত। অধিদপ্তরের স্পষ্ট বার্তার পর সেই ধরনের অনিয়ম বন্ধের পথ সুগম হলো। এটি তৃণমূল পর্যায়ের অসচ্ছল ও দরিদ্র পরিবারের কোমলমতি শিক্ষার্থীদের পড়াশোনা চালিয়ে যেতে এবং কোনো রকম আর্থিক দুশ্চিন্তা ছাড়া পরীক্ষায় বসতে সরাসরি সহায়তা করবে।

নির্ধারিত নোটিশ পাওয়ার সাথে সাথেই প্রতিটি উপজেলা শিক্ষা অফিস থেকে শুরু করে বিদ্যালয় পর্যায় পর্যন্ত এই আদেশ পৌঁছে দেওয়ার কাজ শুরু হয়েছে। জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তারা নিজ নিজ অঞ্চলের সরকারি ও অন্যান্য অনুমোদিত প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোর ওপর নজরদারি বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। ক্ষেত্রবিশেষে কোনো শিক্ষালয় কিংবা ব্যক্তি এই নির্দেশনা লঙ্ঘন করে শিক্ষার্থীদের থেকে কোনো টাকা গ্রহণ করলে, তা খতিয়ে দেখে দ্রুত প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।