ইলন মাস্কের নতুন চমক: আকাশে উড়বে টেসলা রোডস্টার



টেসলা রোডস্টার গাড়িটির নতুন সংস্করণ উন্মোচনের মাধ্যমে অটোমোবাইল শিল্প ও আধুনিক প্রযুক্তির ইতিহাসে এক অভূতপূর্ব অধ্যায়ের সূচনা করেছেন ইলন মাস্ক। যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে আয়োজিত এক জমকালো ইভেন্টে প্রতিষ্ঠানটির পরবর্তী প্রজন্মের এই সুপারকার প্রদর্শন করা হয়। প্রদর্শনীতে শূন্যে ভেসে থাকা থেকে শুরু করে আকাশে উল্টে যাওয়ার অবিশ্বাস্য কসরত বা কিকফ্লিপ দেখিয়ে সবাইকে তাক লাগিয়ে দিয়েছে শক্তিশালী গাড়িটি।

গাড়ি এবং রকেট প্রযুক্তির এমন অভাবনীয় সংমিশ্রণ আগে কখনো দেখেনি বিশ্ব। টেক্সাসের বিশেষ ইভেন্টে স্পেসএক্সের উন্নত মেকানিক্স প্রয়োগ করে তৈরি এই সুপারকারটি সবার নজর কাড়ে। মূলত হাই-প্রেসার কোল্ড-গ্যাস থ্রাস্টার ব্যবহারের ফলে যানটি ক্ষণিকের জন্য মাটি ছেড়ে শূন্যে উড্ডয়ন করতে পারে। নব্বইয়ের দশকের জনপ্রিয় ‘নাইট রাইডার’ সিরিয়ালের কাল্পনিক গাড়ির আদলে বাস্তব জীবনে এমন কীর্তি গড়ে ইলন মাস্ক যেন বিজ্ঞান কল্পকাহিনিকে বাস্তবে রূপ দিলেন।

প্রদর্শনীতে গাড়িটির ৩টি নতুন সংস্করণ প্রকাশ করা হয়। এর মধ্যে বিশেষ আকর্ষণ ছিল গাড়িটির বাতাসের ওপর ভর করে ভেসে থাকা এবং চমৎকারভাবে শূন্যে ‘কিকফ্লিপ’ সম্পন্ন করা। টেসলার দাবি, স্পেসএক্সের প্রোপালশন মেকানিজম ব্যবহার করায় গাড়িটির ত্বরণ ও গতি নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা প্রচলিত যেকোনো ইলেকট্রিক গাড়ি থেকে কয়েক গুণ উন্নত। এই মেকানিক্সের কারণেই কেবল গতি অর্জনই নয়, বরং মাধ্যাকর্ষণকে সাময়িকভাবে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে আকাশে ভেসে থাকতে পারে এই যান।

ইঞ্জিনিয়ারিং ও উদ্ভাবনের দিক থেকে গাড়িটি অসামান্য হলেও অটোমোবাইল বিশ্লেষকদের মতে এর বাণিজ্যিক সাফল্য নিয়ে বড় প্রশ্ন রয়েছে। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম ইউরোনিউজ বিজনেসের সঙ্গে আলাপকালে শিল্প বিশেষজ্ঞ ও অর্থনীতিবিদরা জানান, এই বিশেষ মডেলটি মূলধারার গাড়ি বাজারের গ্রাহকদের কথা ভেবে তৈরি নয়। অতিমাত্রায় খরচ, নিয়ন্ত্রক সংস্থার কঠোর নিয়মকানুন এবং বিশেষায়িত প্রযুক্তির কারণে এই ক্যাটাগরি থেকে টেসলার মূল আয়ে উল্লেখযোগ্য কোনো প্রবৃদ্ধি আসবে না বলে তারা মনে করছেন।