দক্ষিণ কোরিয়ার শ্রমবাজারের সার্বিক চাহিদা ও উচ্চমান রক্ষা করে দক্ষ, যোগ্য এবং সুপ্রশিক্ষিত কর্মী পাঠাতে বাংলাদেশ সম্পূর্ণ প্রস্তুত রয়েছে বলে স্পষ্ট বার্তা দিয়েছেন প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী মো. নুরুল হক নুর। মঙ্গলবার দক্ষিণ কোরিয়ার রাজধানী সিউলে আয়োজিত এক উচ্চপর্যায়ের দ্বিপক্ষীয় বৈঠকে তিনি কূটনৈতিক ও অর্থনৈতিক পর্যায়ে এই আশাবাদ ব্যক্ত করেন। সরকারি সফররত প্রতিমন্ত্রীর এই আলোচনার মাধ্যমে পূর্ব এশিয়ার উন্নয়নশীল এই দেশে বাংলাদেশি কর্মীদের জন্য কর্মসংস্থানের নতুন দুয়ার উন্মোচিত হতে যাচ্ছে বলে মনে করা হচ্ছে।
প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের জনসংযোগ কর্মকর্তা মো. শরীফুল ইসলাম জানান, সরকারি সফরের অংশ হিসেবে মঙ্গলবার সিউলে একটি গুরুত্বপূর্ণ দ্বিপক্ষীয় বৈঠকে অংশ নেন প্রতিমন্ত্রী। বৈঠকে সিউলের স্থানীয় শিল্প ও নির্মাণ খাতের প্রয়োজনীয় কারিগরি যোগ্যতা এবং অভিজ্ঞতার বিষয়টি গুরুত্ব পায়। প্রতিমন্ত্রী তুলে ধরেন যে, সরকারি ও বেসরকারি প্রশিক্ষণের মাধ্যমে বাংলাদেশি তরুণদের আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর কাজের জন্য উপযুক্ত করে গড়ে তোলা হচ্ছে।
কোরীয় প্রযুক্তিনির্ভর কলকারখানা এবং নির্মাণ খাতের প্রয়োজন অনুযায়ী বাংলাদেশি যুবকদের মানসম্মত প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে। ফলে আন্তর্জাতিক মানের কর্মসংস্থানে তরুণ প্রজন্ম তাদের যোগ্যতার স্বাক্ষর রাখতে সক্ষম।
দক্ষিণ কোরিয়ার শ্রমবাজার মূলত ই-৯ (E-9) ভিসার আওতায় বিপুল সংখ্যক বিদেশি কর্মী নিয়োগ দিয়ে থাকে। তবে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে তারা শুধু সাধারণ কর্মী নয়, বরং উচ্চ দক্ষতার প্রযুক্তিনির্ভর জনবলের ওপর জোর দিচ্ছে। এই চাহিদার বিষয়টি বিবেচনায় রেখা বাংলাদেশে সরকারি কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্রগুলোতে (টিটিসি) বিশেষায়িত ভাষা কোর্স ও টেকনিক্যাল ট্রেনিং প্রদান করা হচ্ছে।
প্রতিমন্ত্রী বৈঠকে জোর দিয়ে বলেন, বাংলাদেশ কেবল জনশক্তি পাঠাতেই আগ্রহী নয়, বরং নিয়োগকারী প্রতিষ্ঠানের চাহিদা মানদণ্ড বজায় রেখে আন্তর্জাতিক মানের দক্ষ কর্মীবাহিনী উপহার দিতে বদ্ধপরিকর। এতে করে একদিকে বাংলাদেশি অভিবাসীরা উচ্চ বেতন ও আইনি সুরক্ষা পাবেন, অন্যদিকে কোরিয়ার নিয়োগকর্তারাও নির্ভরযোগ্য কর্মী পাবেন।
কোরিয়ান কনস্ট্রাকশন অ্যাসোসিয়েশন ও অন্যান্য বাণিজ্যিক প্রতিনিধি দলের সাথে আলোচনার সময় পেশাগত নিরাপত্তা এবং কাজের পরিবেশ নিয়েও কথা বলেন বাংলাদেশের প্রতিনিধিরা। দক্ষ মানবসম্পদ রফতানির মধ্য দিয়ে দুই দেশের অর্থনৈতিক বন্ধন আরও শক্ত হবে বলে উভয় পক্ষ আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
বিশেষ করে কোরীয় ভাষা শেখা ও পেশাগত দক্ষতা বৃদ্ধির মাধ্যমে বাংলাদেশের তরুণরা নিজেদের ভাগ্য পরিবর্তনের পাশাপাশি রেমিট্যান্স প্রবাহ ত্বরান্বিত করতে পারবে। ঢাকার টেকনিক্যাল ইনস্টিটিউটগুলোতে বর্তমানে কোরীয় ভাষার ওপর বিশেষ জোর দিয়ে প্রশিক্ষণ পরিচালনা করা হচ্ছে।

