এফ-৩৫ ভূপাতিতের দাবি তুলে যুক্তরাষ্ট্রকে ইরানের চরম হুঁশিয়ারি



মধ্যপ্রাচ্যের ভূরাজনীতিতে বারুদের গন্ধ আরও তীব্র করে ওয়াশিংটনকে নজিরবিহীন হুঁশিয়ারি দিল তেহরান। ইরানি ভূখণ্ডে পুনরায় আঘাত হানলে মার্কিন সামরিক বাহিনীকে এবার আরও বড় ধরনের ‘সারপ্রাইজ’ বা রণকৌশলগত চমক দেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি। একই সঙ্গে নতুন সংঘাত শুরু হলে আরও বেশি মার্কিন যুদ্ধবিমান ধুলোয় মিশিয়ে দিতে তেহরান পুরোপুরি প্রস্তুত বলেও ঘোষণা দেন তিনি।

কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরার এক প্রতিবেদনে বুধবার (২০ মে) এই বিস্ফোরক তথ্যের কথা জানানো হয়েছে। ইরানের এই নতুন অবস্থান ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যকার শীতল যুদ্ধকে সরাসরি সামরিক সংঘাতের দ্বারপ্রান্তে ঠেলে দিয়েছে বলে মনে করছেন আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকরা।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতে ইরানি পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের অহংকার ও অত্যাধুনিক প্রযুক্তির প্রতীক এফ-৩৫ যুদ্ধবিমান ভূপাতিত করার প্রসঙ্গটি সামনে আনেন। তিনি সগর্বে দাবি করেন, “আমাদের শক্তিশালী সশস্ত্র বাহিনী যে যুক্তরাষ্ট্রের বহুল প্রশংসিত এবং ‘অদৃশ্য’ বলে পরিচিত এফ-৩৫ স্টিলথ যুদ্ধবিমান প্রথম আকাশ থেকে নামানোর গৌরব অর্জন করেছে, তা এখন বিশ্ব দরবারে প্রমাণিত।”

এই দাবি যদি সত্য হয়, তবে তা বৈশ্বিক সামরিক ভারসাম্যের সমীকরণ সম্পূর্ণ বদলে দেবে। কারণ, পেন্টাগন সবসময়ই দাবি করে এসেছে যে রাডার ফাঁকি দিতে সক্ষম এই যুদ্ধবিমানকে পরাস্ত করার প্রযুক্তি এই মুহূর্তে কারও কাছে নেই। ইরানের এই দাবি ওয়াশিংটনের সামরিক শ্রেষ্ঠত্বকে সরাসরি চ্যালেঞ্জের মুখে ফেলেছে। আরাঘচি স্পষ্ট করে দিয়েছেন, মার্কিন প্রশাসন যদি এই ঘটনার পরও শিক্ষা না নিয়ে পুনরায় ইরানি স্বার্থে আঘাত হানার দুঃসাহস দেখায়, তবে তাদের জন্য এমন কিছু অপেক্ষা করছে যা পেন্টাগন কল্পনাও করতে পারছে না।