যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প কানসাস অঙ্গরাজ্যে রিপাবলিকান সিনেটর রজার মার্শালের পক্ষে নির্বাচনী প্রচারণায় বক্তব্য রাখার সময় কড়া হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেছেন, আসন্ন নির্বাচনে বিরোধীরা জয়ী হলে মার্কিন মুলুকে ইউরোপের মতো অরাজক অবস্থা তৈরি হতে পারে। সোমবার আয়োজিত এই জনসভায় কোনো সুনির্দিষ্ট তথ্যপ্রমাণ উপস্থাপন না করেই তিনি বিরোধী দল ডেমোক্র্যাটদের তীব্র সমালোচনা করেন এবং নিজ দলের প্রার্থীদের ভোট দেওয়ার আহ্বান জানান।
কানসাসের উইচিটায় স্থানীয় সময় সোমবার সন্ধ্যায় এক বিশাল রাজনৈতিক জনসভায় অংশ নেন রিপাবলিকান হেভিওয়েট নেতা ডোনাল্ড ট্রাম্প। নিজ দলের সিনেট প্রার্থী রজার মার্শালের নির্বাচনী অবস্থান শক্ত করতেই মূলত এই সফরের আয়োজন করা হয়েছিল। জনসভায় ট্রাম্প দাবি করেন, ডেমোক্র্যাটরা ক্ষমতায় আসলে দেশের অভ্যন্তরীণ আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি মারাত্মক হুমকির মুখে পড়বে।
ফ্রান্সে সাম্প্রতিক সময়ে ঘটে যাওয়া সহিংস প্রতিবাদ ও রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতার প্রসঙ্গ টেনে এনে তিনি মার্কিন নাগরিকদের সতর্ক করেন। তাঁর মতে, বিরোধী দল ডেমোক্র্যাটিক পার্টি দেশের সামাজিক বুনন ধ্বংসের দিকে ঠেলে দিচ্ছে এবং তাদের জয়যুক্ত করা মানেই দেশকে নৈরাজ্যের দিকে ঠেলে দেওয়া। তবে এসব রাজনৈতিক দাবির পেছনে তিনি কোনো নির্ভরযোগ্য তথ্য বা বাস্তব প্রমাণ উপস্থাপন করেননি।
ঐতিহাসিকভাবে যুক্তরাষ্ট্রের কানসাস অঙ্গরাজ্যটি রিপাবলিকান পার্টির দুর্গ হিসেবেই পরিচিত। কিন্তু এবারের মধ্যবর্তী নির্বাচনে চিত্রটা বেশ খানিকটা ভিন্ন। ডেমোক্র্যাটিক পার্টির প্রার্থী আদম হ্যামিল্টনের সঙ্গে তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতার মুখে পড়েছেন বর্তমান রিপাবলিকান সিনেটর রজার মার্শাল। দীর্ঘদিন ধরে নিজেদের দখলে থাকা এই আসনটি হাতছাড়া হওয়ার স্পষ্ট আশঙ্কা তৈরি হয়েছে রিপাবলিকান শিবিরে।
অঙ্গরাজ্যটির ভোটারদের একটি বড় অংশই বর্তমানে সরকারের ওপর ক্ষুব্ধ। সাধারণ নাগরিকদের এই অসন্তোষের অন্যতম মূল কারণ হলো মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সামরিক সংকট ও চরম মূল্যস্ফীতি। নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের উচ্চমূল্যের কারণে মধ্যবিত্ত ও গ্রামীণ এলাকার মানুষ চাপে পড়েছে, যার প্রভাব পড়ছে ভোটের বাজারে। রিপাবলিকান দল বুঝতে পেরেছে যে, কানসাসের মতো শক্ত ঘাঁটিতে পরাজয় মানে জাতীয় রাজনীতিতে বড় ধরনের ধাক্কা খাওয়া।
সিনেট নির্বাচনে প্রভাব ফেলা প্রধান বিষয়ের মধ্যে একটি হলো দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি। খাদ্য সামগ্রী, জ্বালানি ও অন্যান্য দৈনন্দিন খরচের তীব্র বৃদ্ধি সাধারণ মার্কিন পরিবারগুলোর জীবনযাত্রাকে কঠিন করে তুলেছে। বিরোধী দলগুলো এই অর্থনৈতিক সংকটকে হাতিয়ার করে প্রচারণা চালাচ্ছে এবং রিপাবলিকান প্রার্থীদের নীতিগত ব্যর্থতাকে দায়ী করছে।
অন্যদিকে, ইরান ও আন্তর্জাতিক উত্তেজনার মতো ইস্যুতে সাধারণ মানুষের মধ্যে নিরাপত্তা শঙ্কা কাজ করছে। যুদ্ধ ও বৈশ্বিক উত্তেজনার প্রভাবে মার্কিন অর্থনীতির ওপর যে অতিরিক্ত চাপ পড়ছে, তা মেনে নিতে পারছেন না অনেক ঐতিহ্যবাহী রক্ষণশীল ভোটারও। কানসাস ও সংলগ্ন অঞ্চলে কৃষি খাতের ক্ষতি ও বাণিজ্য নীতির কারণে ট্রাম্প ও তাঁর প্রার্থীরা সেখানে শক্ত চ্যালেঞ্জের সম্মুখীন হচ্ছেন।
নির্বাচনের আর অল্প কিছুদিন বাকি থাকায় প্রচারণা একেবারে চূড়ান্ত পর্যায়ে পৌঁছেছে। রিপাবলিকানরা চাচ্ছে যে কোনো মূল্যে তাদের পুরনো দুর্গ রক্ষা করতে, আর ডেমোক্র্যাটরা চেষ্টা করছে ঐতিহাসিক পরিবর্তন আনতে। কানসাসে ট্রাম্পের এই বিতর্কিত মন্তব্য কেবল স্থানীয় কোনো বিষয় নয়, বরং পুরো মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে তাঁর রাজনৈতিক কৌশলের অংশ। ভয় দেখিয়ে এবং সহিংস পরিস্থিতির ভয় ছড়িয়ে ভোটারদের নিজেদের পক্ষে টানার চেষ্টা চালাচ্ছেন তিনি।

